রবিবার ● ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রথম পাতা » রাজনীতি » নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা বিএনপি নেতার
নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা বিএনপি নেতার
মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল নির্বাচন ও সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।
পোস্টে তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর কারাবাস, রাজনৈতিক অবহেলা এবং পরিবারের চরম ভোগান্তির কারণে তিনি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। জীবনের বাকি সময় পরিবার নিয়ে শান্তিতে কাটাতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কাজী সালিমুল হক কামাল তার স্ট্যাটাসে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৮ সালের পর তিনি রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। ২০১৭ সালে একটি মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয় তাকে। দীর্ঘ কারাবাস শেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অসুস্থ শরীরে তিনি ২২ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির দিন নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও আবেগ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
তিনি জানান, মুক্তির পর গত ১৬ মাসে মাত্র চারবার মাগুরায় আসেন এবং প্রতিবারই নেতাকর্মীদের চোখে ভালোবাসার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কষ্ট ও বেদনা দেখেছেন। গত ১৬ বছর ধরে মাগুরার ত্যাগী নেতাকর্মীরা মামলা, হামলা, জেল ও নির্যাতন সহ্য করেও বিএনপির পতাকা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে দলীয় হাই কমান্ডের প্রতি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের আবেগ ও অনুভূতির কোনো মূল্য দেয়া হচ্ছে না। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য মাগুরা-২ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূলে যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার ফল।
তিনি দাবি করেন, মাগুরা-২ আসনের ৫১৩ জন দায়িত্বশীল নেতার মধ্যে ৫০১ জন, ১৯টি ইউনিয়নের ১৮ জন সাবেক চেয়ারম্যান এবং দুইজন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লিখিতভাবে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে তৃণমূলের সেই মতামতকে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি।
কাজী সালিমুল হক কামাল আরও বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের পুনর্বাসনের চেষ্টা দলকে আদর্শিকভাবে দুর্বল করছে। এতে ভবিষ্যতে দলের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় ধর্মভীরু ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতে ইসলামির দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে—এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ফিরলে দলের অবস্থান কী হবে, সেটিই ছিল তৃণমূলের প্রধান দুশ্চিন্তা।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, তৃণমূলই দলের প্রাণ। হাজার হাজার ত্যাগী কর্মীকে উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে দল শক্তিশালী না হয়ে ভেতর থেকে ক্ষয়ে যায়। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে তার দায়ভার দলকেই নিতে হবে।
তিনি জানান, নেতাকর্মীদের চাপে পড়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দলের বর্তমান অনড় অবস্থান দেখে তিনি বুঝেছেন, তৃণমূলের যুক্তি ও আবেগের কোনো মূল্য নেই।
সবশেষে পরিবারের একান্ত অনুরোধের কথা উল্লেখ করে কাজী সালিমুল হক কামাল বলেন, তিনি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর নিচ্ছেন। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতিতে এগিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে—একটি ভুল সিদ্ধান্তে যেন তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট না করেন। “তৃণমূল জিন্দাবাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ।”






জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাইকগাছায় প্রশাসনের সার্বিক নিরাপত্তায় স্বচ্ছতার সাথে ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে
পাইকগাছায় মোট ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৮ জন
মাগুরায় ৫৪ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ; বাড়তি নিরাপত্তা প্রশাসনের
পাইকগাছা উপজেলায় ৮৮টি ভোট কেন্দ্র, ৪৮৮টি বুথ; ৭৭ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন
মাগুরায় ধানের শীষের পক্ষে উঠান বৈঠক
বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় মাগুরা-১ আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী শম্পা বসুর
এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে; ড. আসাদুজ্জামান রিপন
খুলনা-৬ আসনে জয়ের আশা বিএনপির; প্রত্যাবর্তন চায় জামায়াত
সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন শিল্পসহ সকল অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে; অ্যাড. শফিকুল আলম মনা
পাইকগাছায় ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীর পক্ষে সনাতনী সমাবেশে জনতার ঢল 