শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
মঙ্গলবার ● ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বন্য পশুর রোগ নিরাময়ে পাখির ভূমিকা
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বন্য পশুর রোগ নিরাময়ে পাখির ভূমিকা
৭২ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বন্য পশুর রোগ নিরাময়ে পাখির ভূমিকা

 ---  প্রকাশ ঘোষ বিধান

বন্য পশুর স্বাস্থ্য রক্ষা এবং রোগ নিরাময়ে পাখি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাখি নানা ভাবে বন্য পশুর সেবা দেয়। পাখিরা পশুর পরজীবী নিয়ন্ত্রণ করে। শকুন মৃত প্রাণী বা পচা আবর্জনা খেয়ে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে।  বন্য পশুর রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে পাখিরা পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পাখি প্রকৃতির বিস্ময়কর সৃষ্টি। পৃথিবীর সকল জীব একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। অক্সপেকার বা গো-বক জাতীয় পাখিরা জিরাফ, মহিষ, গণ্ডার বা হরিণের মতো বড় পশুর পিঠে বসে তাদের শরীরের উকুন, আঠালি এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পরজীবী ও অন্যান্য রক্তচোষা পোকা খেয়ে ফেলে। এই পরজীবীগুলো পশুর অ্যানাপ্লাজমোসিস বা বেবিসিওসিসের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে, যা পাখিরা দমনে সাহায্য করে। এতে পশুর চামড়ার চুলকানি কমে এবং রক্তশূন্যতা বা পরজীবীঘটিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

পশুর রোগ নিরাময় এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাখিরা প্রকৃতির এক অনন্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। পাখিরা পশুর ক্ষত পরিষ্কার রাখার কাজ করে। অনেক সময় পশুর শরীরের ক্ষতস্থানে ম্যাগট বা পোকা জন্মালে পাখিরা তা খুঁটে খেয়ে ফেলে, যা ক্ষত দ্রুত শুকাতে এবং সংক্রমণ রোধে সহায়তা করে। বন্য পশুর শরীরে কোনো ক্ষত তৈরি হলে তাতে পচন ধরতে পারে। অক্সপেকার পাখি সেই ক্ষত থেকে পচা মাংস ও ময়লা খেয়ে ফেলে ক্ষতটি পরিষ্কার রাখে, যা মারাত্মক সংক্রমণ  প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাই বন্য পশুর সাথে পাখির এই সম্পর্কটি মূলত একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রক্রিয়া।

কুমিরের দাত পরিস্কারের কাজ করে পাখি। কুমিরের দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা মাংস বা অবশিষ্টাংশ খেয়ে পাখি কুমিরের দাত পরিস্কার করে দেয়। জলপিপি নামক পাখি কুমিরের মুখের ভেতর থেকে খাবারের অবশিষ্টাংশ খায়, এতে কুমিরের দাঁত পরিষ্কার হয় এবং পাখির আহার হয়। এই পাখিকে মিশরীয় প্লোভার বলা হয়। অনেকে একে কুমির পাখি হিসেবেও চিনে থাকেন। কুমির যখন ডাঙ্গায় মুখ হাঁ করে রোদ পোহায়, তখন এই পাখিটি নির্ভয়ে তার মুখের ভেতর ঢুকে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা পচা মাংস বা পোকামাকড় খুঁটে খায়। পাখি এবং কুমিরের এই সম্পর্ককে বিজ্ঞানের ভাষায় মিথোজীবিতা বা সিম্বিয়াসিস বলা হয়। এতে উভয়েই উপকৃত হয়, পাখিটি খাবার পায় এবং কুমিরের দাঁত পরিষ্কার থাকে, যা তাকে বিভিন্ন ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। মজার ব্যাপার হলো, কুমির এই পাখিটিকে কোনো ক্ষতি করে না, কারণ সে জানে পাখিটি তার দাঁত পরিষ্কার করতে সাহায্য করছে।

পাখিরা রোগের জীবাণু ছড়ানো রোধ করে। শকুন বা কাকের মতো মৃতভোজী পাখিরা মৃত পশুর দেহাবশেষ খেয়ে প্রকৃতি পরিষ্কার রাখে। এর ফলে অ্যানথ্রাক্স বা অন্যান্য সংক্রামক রোগের জীবাণু পরিবেশে ছড়াতে পারে না, যা সামগ্রিকভাবে পশুকুলের মহামারি প্রতিরোধ করে। শকুনের পাকস্থলীতে শক্তিশালী অ্যাসিড থাকে যা এই ধরনের অনেক মারাত্মক জীবাণু ধ্বংস করে ফেলে। এছাড়াও, পরজীবী ভক্ষক পাখি বন্য পশুর গায়ের পোকা খেয়ে তাদের রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

পাখি ওয়াচম্যান হিসাবে প্রাকৃতিক শত্রু থেকে সাবধান করা কাজ করে। পাখিরা কোনো শিকারি বা বিপদের উপস্থিতি টের পেলে বিশেষ সংকেত বা ডাক দেয়। কোনো শিকারি প্রাণী বা বিপদ আসতে দেখলে পাখিরা চিৎকার করে শব্দ করে, যা শুনে বড় পশুপাখিরা সতর্ক হয়ে যায় এবং নিজেদের রক্ষা করতে পারে। এটি বন্য পশুকে আসন্ন আক্রমণ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে, যা তাদের শারীরিক আঘাত ও মানসিক ধকল থেকে রক্ষা করে।

 তবে কিছু ক্ষেত্রে পাখিরা পশুর ক্ষত থেকে রক্ত পান করে বা নতুন ক্ষত তৈরি করে পশুর জন্য অস্বস্তিও সৃষ্টি করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, পশু ও পাখির সহাবস্থান প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ও পশুর রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)