শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

SW News24
বুধবার ● ৭ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » তীব্র শীত পথপ্রাণীদের জীবনে প্রভাব ফেলে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » তীব্র শীত পথপ্রাণীদের জীবনে প্রভাব ফেলে
৩৮ বার পঠিত
বুধবার ● ৭ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

তীব্র শীত পথপ্রাণীদের জীবনে প্রভাব ফেলে

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান

শীতকালে পথপ্রাণীদের জীবনে তীব্র ঠান্ডা, খাদ্যের অভাব, এবং বাসস্থান সংকটে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। রোদ না পাওয়া এবং স্যাঁতসেঁতে জায়গায় শুয়ে থাকার ফলে তাদের গায়ে ঘা বা চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। শীতে তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, চলাচল কঠিন করে তোলে এবং মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহর ও গ্রামের পথপ্রাণীরা দুর্বল ও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। শীতে ঠান্ডা এবং খাবারের অভাবে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। পথপ্রাণীদের জন্য খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শরীর গরম রাখার জন্য তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্যালরির প্রয়োজন হয়, কিন্তু খাবারের অভাবে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে।

শীতে হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়া, শুষ্ক বাতাস ও শৈত্যপ্রবাহ মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদের জীবনেও প্রভাব ফেলে। এসময় কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন পোষা প্রাণীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শীতকাল মানুষের জন্য আনন্দময় হলেও অবলা প্রাণীদের জন্য তা একটুও সুখকর নয়। শীতকে বরণ করে নিতে মানুষ হরেক রকম শীতবস্ত্র পরিধান করেন। নতুন পোশাক কেনেন, নিজ গৃহে রাত কাটায়। কিন্তু অবলা প্রাণীকুলের জন্য নেই কোনো শীত নিবারণের আবাসস্থল। রাস্তার কুকুর-বিড়াল থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রাণীরা দিনের পর দিন শীতের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকে। রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে তাদের কষ্ট। প্রাণীগুলো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে নির্মাণাধীন ভবনের বালির স্তূপে বা বাড়ির আঙিনায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানে তারা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেক সময় মানুষ তাদের তাড়িয়ে দেয়, আবার কেউ কেউ নির্দয় আচরণ করে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচার জন্য তাদের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা থাকে না। বাঁচার তাগিদে তারা অনেক সময় গাড়ির ইঞ্জিনের নিচে বা চাকার ভেতরে আশ্রয় নেয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার সময় অনেক প্রাণী এভাবে প্রাণ হারায়। যানবাহনের নিচে আশ্রয় নেওয়া প্রাণীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। শীতের রাতে তাদের গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে দেখে যে কারো হৃদয় ভারী হয়ে উঠবে।

শীতকাল পথপ্রাণীদের কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। তীব্র শীতে দীর্ঘক্ষণ খোলা আকাশের নিচে থাকার ফলে প্রাণীদের শরীরের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, যা হাইপোথার্মিয়া সৃষ্টি করে। এটি অনেক সময় তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শীতকালে গৃহহীন মানুষদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ করে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তবে অবলা প্রাণীদের জন্য এমন কর্মসূচি খুব কমই দেখা যায়। তারা আমাদের সামান্য সাহায্যের জন্যই অপেক্ষা করে। পুরোনো শীতবস্ত্র দিয়ে এই প্রাণীদের শীত নিবারণ সম্ভব। অবলা প্রাণীদের জন্য আরও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পুরোনো কাপড় ব্যবহার করে তাদের গায়ে দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার বা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। এসব পদক্ষেপ প্রাণীদের শীতকালীন কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

প্রতি বছর অসংখ্য অবলা প্রাণী শীতে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। আমাদের অসচেতনতা ও সহানুভূতির অভাব এর বড় কারণ। একটু মানবিকতা দেখালেই আমরা তাদের জীবনযাপন সহজ করতে পারি। আমাদের দায়িত্ব শুধু মানুষের প্রতিই নয়, প্রকৃতির অন্যান্য জীবের প্রতিও সমান

শীতকালে অবলা প্রাণীদের কষ্ট দূর করতে আমাদের প্রত্যেকেরই এগিয়ে আসা উচিত। তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে আমরা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি এবং সমাজে মানবিকতার উদাহরণ স্থাপন করতে পারি। তীব্র শীতে কুকুর, বিড়াল এবং পথপ্রাণীদের জন্য নিরাপদ স্থান ও খাবারের ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব। মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সহমর্মিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)