শনিবার ● ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » জ্ঞানচর্চায় গ্রন্থাগারের গুরুত্ব
জ্ঞানচর্চায় গ্রন্থাগারের গুরুত্ব
প্রকাশ ঘোষ বিধান
অন্তহীন জ্ঞানের আঁধার হল বই, আর বইয়ের আবাসস্থল হলো গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগার জ্ঞান, তথ্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু, যা শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যক্তিগত বিকাশে সাহায্য করে। সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত জনগণের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কাজ করে। আধুনিক গ্রন্থাগারগুলোতে কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও অন্যান্য ডিজিটাল সরঞ্জামের সুবিধা থাকে, যা বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা মানুষের মননশীলতা বৃদ্ধি, জাতীয় চেতনা জাগানো এবং মানসিক প্রশান্তি দিতে সহায়ক, তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের উন্নয়নে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। গ্রন্থাগার যুগ যুগ ধরে সঞ্চিত জ্ঞান, চিন্তাচেতনা ও তথ্যের ভান্ডার, যা মানুষের জ্ঞানের অতৃপ্ত তৃষ্ণাকে মেটায়। ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য স্থান। এখানে তারা বই, সাময়িকী, ই-বুক ও ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার করে পড়াশোনা ও গবেষণা করতে পারে। এটি সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়, যা একটি জাতির মেধা, মনন ও সংস্কৃতিকে উন্নত করে এবং জাতীয় চেতনা জাগরণে সাহায্য করে।
ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে গ্রন্থাগারের গুরুত্ব অপরিসীম। ইউনেস্কো এর মতে, মুদ্রিত বই, সাময়িকী অথবা অন্য যে কোন চিত্রসমৃদ্ধ বা শ্রবণ-দর্শন সামগ্রীর একটি সংগঠিত সংগ্রহ হল গ্রন্থাগার। যেখানে পাঠকের তথ্য, গবেষণা, শিক্ষা অথবা বিনোদন চাহিদা মেটানোর কাজে সহায়তা করা হয়। এটি কেবল বইয়ের সংগ্রহশালা নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতি বিকাশের একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। গ্রন্থাগার ধনী-গরিব, ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলের জন্য জ্ঞানের দ্বার উন্মুক্ত রাখে, তাই একে জনগণের বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়। উন্নত ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনস্বীকার্য, যা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তি ও জাতির সার্বিক বিকাশে অপরিহার্য।
প্রাচীন শিলালিপি থেকে আধুনিক লিপির গ্রন্থিক স্থান হল লাইব্রেরি। বাংলা গ্রন্থাগার শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ হলো গ্রন্থ+আগার, গ্রন্থাগার হলো গ্রন্থ সজ্জিত পাঠ করার আগার বা স্থান। গ্রন্থাগার শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। গ্রন্থাগার হলো জ্ঞানের এক সমুদ্র। একটি জাতির মেধা-মনন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারণ ও লালন-পালন করে গ্রন্থাগার। তাই জাতিকে উন্নত, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের অবদান অসামান্য।
মানুষের বই পড়ার আগ্রহ থেকেই গ্রন্থাগারের উৎপত্তি। প্রাচীনকাল থেকেই পুঁথি সংরক্ষণের প্রথা ছিল। এসব পুঁথি লেখা হতো তালপাতায়, গাছের বাকলে, পশুর চামড়ায়, আবার কখনো পাথরে ও টেরাকোটা পদ্ধতিতে। সাধারণত এই পুঁথিগুলো সংরক্ষণ করা হতো বিভিন্ন ধর্মগৃহে বা বিহারে অথবা উপসনালয়ে। তখন উপাসনার পাশাপাশি তাত্ত্বিক আলোচনা বা জ্ঞান প্রসারের জন্য পুরোহিতদের নিজেদের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস বা তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিশ্বের প্রথম লাইব্রেরির ধারণা শুরু করা হয়েছিল প্রাচীন মিসরে। তারই জের ধরে মিসরের এক মন্দিরে শুরু এই লাইব্রেরি। সভ্যতার ক্রমশ অগ্রসর হওয়ার পথে মানুষ তার সৃষ্টিশৈলিকে সংরক্ষণ করা শুরু করল। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া, ইরাকের দামেস্ক, বাগদাদ, প্রাচীন গ্রীস ও রোমে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের নিদর্শন পাওয়া যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে তক্ষশীলা ও নালন্দায় সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে উঠেছিল।
গ্রন্থাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদণ্ড। গ্রন্থাগার মানুষের বয়স, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করে থাকে। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে সংহতি, যা দেশ গড়া কিংবা রক্ষার কাজে অমূল্য অবদান। চিন্তাশীল মানুষের কাছে গ্রন্থাগারের উপযোগিতা অনেক বেশি। গ্রন্থাগার জ্ঞান আহরণের সহজ মাধ্যম। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে মৌলিক চাহিদা মেটাতেই আমরা হিমশিম খেতে হয়। তাই সবার পক্ষে বই কিনে পড়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। কম লেখাপড়া জানা ও গরিব মানুষের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনি জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রন্থাগারের ভূমিকা অভাবনীয়। তাই গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা প্রতিটি সমাজে অনিবার্য।
মানুষের মধ্যে পড়ার প্রতি ভালোবাসা তৈরি এবং আজীবন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের জানার পরিধি বিস্তৃত হয় এবং উন্নত চিন্তা-চেতনা ও মননশীল জাতি গঠনে এটি অতুলনীয়। গ্রন্থাগার পড়াশোনার জন্য একটি নিরিবিলি ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করে, যা মনোযোগ বৃদ্ধি করে। প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, গ্রন্থাগার মনের হাসপাতাল, যা মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখে এবং ভালো মানুষ হতে শেখায়।
গ্রন্থাগারে যুগ-যুগান্তরের চিন্তাচেতনা এবং জ্ঞানের অমূল্য সম্পদ সঞ্চিত থাকে। এখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়। যা সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য গ্রন্থাগার একটি আদর্শ স্থান। জাতীয় গ্রন্থাগার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি পাঠকদের গবেষণার সুযোগ করে দেয়।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট






জলাভূমি বাংলাদেশের এক অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা হুমকির মুখে
নারীর জীবিকা লড়াই
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে প্রাকৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ
আফ্রিকার আকি ফল
সরস্বতী পূজার শাস্ত্রীয় গুরুত্ব
লোকাচার এবং শাস্ত্রীয় ধর্ম এক নয়
সুন্দরবন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুন্দরবনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ 