শিরোনাম:
পাইকগাছা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

SW News24
মঙ্গলবার ● ২০ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সরস্বতী পূজার শাস্ত্রীয় গুরুত্ব
প্রথম পাতা » মুক্তমত » সরস্বতী পূজার শাস্ত্রীয় গুরুত্ব
১৩০ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২০ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সরস্বতী পূজার শাস্ত্রীয় গুরুত্ব

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান

সরস্বতী হলেন বৈদিক যুগের অন্যতম প্রধান দেবী, যিনি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিল্পকলা, সংগীত এবং সৃজনশীলতার প্রতীক। সরস্বতী পূজা হিন্দু বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা আয়োজিত হয়। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত।

বৈদিক শাস্ত্রে সরস্বতী পূজা জ্ঞান, শিল্পকলা ও প্রজ্ঞার দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গীকৃত, যিনি বেদে এক শক্তিশালী নদী ও জ্ঞানদাত্রী হিসেবে পূজিত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অজ্ঞতা দূর করে জ্ঞান, শুদ্ধি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। বৈদিক যুগ থেকেই এই দেবীর পূজা প্রচলিত এবং ঋগ্বেদে তাঁর উল্লেখ রয়েছে, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সরস্বতী হলেন ব্রহ্মার মানস কন্যা এবং বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী। শাস্ত্র মতে, সৃষ্টির শুরুতে শব্দ ও ছন্দের মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে চেতনার সঞ্চার করেছিলেন। তাই মানুষ অন্ধকার বা অজ্ঞতা দূর করে প্রকৃত জ্ঞান লাভের আশায় এই পূজা করে।

সরস্বতী শ্বেতবস্ত্র পরিহিতা এবং শ্বেতপদ্মে আসীন, যা পবিত্রতা এবং শুদ্ধ মনের প্রতীক। তাঁর হাতের বীণা আধ্যাত্মিক সুরের প্রতীক এবং অক্ষমালা বা জপমালা একাগ্রতা ও ধ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে। তিনি বাক্ দেবী বা বাণীর দেবী। শিল্পী, লেখক ও ছাত্রছাত্রীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের জন্য এবং শুদ্ধ উচ্চারণের শক্তি অর্জনে দেবীর আরাধনা করেন।

সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা মূলত জ্ঞান, বিদ্যা, শিল্প এবং সংগীতের দেবীর আরাধনার জন্য পালিত হয়। বাক্য, বুদ্ধি, বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী। এই পূজা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো প্রজ্বলিত করার প্রতীক, যা জীবনের প্রকৃত সম্পদ। বিদ্যারম্ভ ও হাতেখড়ির জন্য বিশেষ শুভ তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়। সনাতন ধর্মমতে, এই দিনে শিশুদের হাতেখড়ি দেওয়া হয়, যা জ্ঞানার্জনের পথে প্রথম ধাপ এবং এতে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করা হয়। পূজায় থাকে দোয়াত-কলম, বই, যবের শিষ, আমের মুকুল, আবির এবং বাসন্তী গাঁদা ফুল। যেখানে আম্রমুকুল, পলাশ ফুল, শঙ্খ ধ্বনি ও মন্ত্র জপের মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন করা হয়।

সরস্বতী পূজা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং ‘বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্’ অর্থাৎ বিদ্যা বিনয় দান করে, এই নীতি অনুসারে বিনয়ী হতে শেখায়। শিল্পী, শিক্ষক, পেশাজীবী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এটি তাদের মেধা ও প্রতিভাকে উন্নত করার একটি পবিত্র দিন। বাদ্যযন্ত্র, বই ইত্যাদি দেবীর চরণে রেখে জ্ঞানকে উৎসর্গ করা হয় এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে অজ্ঞতা দূর করা হয়।

সরস্বতীকে প্রথমে একটি শক্তিশালী নদী ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরস্বতী নদী যেমন পবিত্রতা আনে, তেমনি দেবীও মানুষের মনকে পবিত্র ও শুদ্ধ করেন, যা সত্ত্বগুণ বিকাশে সহায়ক। মূলত, সরস্বতী পূজা শুধু একটি ধর্মীয় আরাধনা নয়, বরং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার একটি সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক উৎসব।

বৈদিক শাস্ত্রে সরস্বতী পূজা জ্ঞান, শিল্পকলা ও প্রজ্ঞার দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গীকৃত। যিনি বেদে এক শক্তিশালী নদী ও জ্ঞানদাত্রী হিসেবে পূজিত, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অজ্ঞতা দূর করে জ্ঞান, শুদ্ধি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। বৈদিক যুগ থেকেই এই দেবীর পূজা প্রচলিত এবং ঋগ্বেদে তাঁর উল্লেখ রয়েছে, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সরস্বতী পূজা এটি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং জ্ঞান ও সৃজনশীলতার সাধনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে সরস্বতী পূজা শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং সৃজনশীলতার সাধনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যা মানব জীবনের সার্বিক বিকাশে অপরিহার্য।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)