শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার প্রতি ভালবাসার দিন
প্রথম পাতা » মুক্তমত » একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার প্রতি ভালবাসার দিন
১১ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার প্রতি ভালবাসার দিন

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি চিরস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ  বিশ্বের প্রতিটি মানুষের নিজের ভাষায় কথা বলার মৌলিক অধিকার রক্ষার এক চিরন্তন প্রতীক। ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, জাতীয়তাবাদ এবং ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার এক গৌরবোজ্জ্বল প্রতীক।

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার দাবীতে রক্ত দিয়ে বাঙালিরা পুলিশের গুলিতে শহীদ হন, যা পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বীজ বপন করে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ইউনেস্কোর এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করল এবং বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের উজ্জ্বল অধ্যায়টি বিশ্ব ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ে পরিণত হলো।  ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৯৩টি দেশে দিবসটি নিজ নিজ মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরার মাধ্যমে পালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় দিন। এটি মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধার একটি দিন এবং সব ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন।

বাঙালির আত্ম মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক গৌরবময় দিন ২১ শে ফেব্রুয়ারি। ৯৫২ সালের ৮ ফাল্গুন ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকের রক্তের বিনিময়ে ভাষার অধিকার অর্জিত হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়, যা পরে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ নেয়।

ভাষার মাস হলো ফেব্রুয়ারি। বাঙালির জীবনে ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গ করার স্মৃতি এ মাসে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সারা বিশ্বের কাছে ভাষা তাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে। একুশের চেতনা এখন বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণার উৎস।

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার-এ শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিবস। বাঙালির হৃদয়ে আবেগ এবং গর্বের মিশ্রণ, যা প্রতি বছর মনে করিয়ে দেয় মাতৃভাষার মর্যাদা। দিবসটি বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোকে টিকিয়ে রাখার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। ভাষা হলো সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যম। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বহন করে ভাষা। যা বিশ্বের বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

একুশে ফেব্রুয়ারি যুগে যুগে আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। বিশেষ করে, ৫২, ৬৯ এবং ৭১-এর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতার দিন। রফিক, শফিক,সালাম, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি। বুকের তাজা রক্ত ঝরিয়ে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার অর্জিত হয়েছে। মহান একুশের চেতনায় জাগ্রত বাংলার মানুষ অতীতের মতো ঐক্যবদ্ধ। শিল্পকর্ম ও অগ্রগতির ধারক একুশ। দেশের আর্থসামাজিক বিকাশে বেগবান রাখবে একুশের অঙ্গীকার।

একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা এক ইতিহাস। ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গৌরবদীপ্ত ঐতিহাসিক দিন। আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম।  এ দিবসে প্রত্যেক ভাষার মানুষ নিজের মাতৃভাষাকে যেমন ভালােবাসবে তেমনি অন্য জাতির মাতৃভাষাকেও মর্যাদা দেবে। এভাবে একুশের চেতনা ধারণ করে বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষাকে ভালোবাসার প্রেরণা পাবে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)