শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২

SW News24
রবিবার ● ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা হুমকির মুখে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা হুমকির মুখে
৫ বার পঠিত
রবিবার ● ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা হুমকির মুখে

২৮ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ডাটা প্রাইভেসি ডে বা তথ্য সুরক্ষা দিবস। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক এ দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৮১ সালে ইউরোপে প্রথম ডেটা সুরক্ষা সংক্রান্ত কনভেনশন ১০৮ স্বাক্ষরের স্মরণে পালিত হয় এবং ডিজিটাল যুগে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে।

বিশ্বব্যাপী তথ্য সুরক্ষা দিবসের মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্য হল ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা। ইন্টারনেটে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা জানার অধিকার সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের শিক্ষিত করা। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনে উৎসাহিত করা ।

বিশ্ব তথ্য সুরক্ষা দিবস প্রতি বছর ২৮শে জানুয়ারি পালিত হয়। ১৯৮১ সালের ২৮ জানুয়ারি ইউরোপের কাউন্সিল কনভেনশন ১০৮ স্বাক্ষর করেছিল, যা তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি। সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ২০০৭ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থা এই দিনে প্রচারাভিযান, সম্মেলন ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। এর মূল লক্ষ্য ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা। ডিজিটাল বিশ্বে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উন্নত গোপনীয়তা অনুশীলন গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৩ (খ) নম্বর অনুচ্ছেদে প্রাইভেসি রাইটস বা ব্যক্তির তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত। একইসঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণা (অনুচ্ছেদ ১২) নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সনদ (অনুচ্ছেদ ১৭), জাতিসংঘের কনভেনশন অন মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স (অনুচ্ছেদ ১৪) এবং শিশু অধিকার সনদ (অনুচ্ছেদ ১৬)-এ প্রাইভেসিকে অধিকার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের কোনো আইনে নাগরিকের তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ কোনো দিকনির্দেশনাই নেই। গোপনীয়তার অধিকার মৌলিক অধিকার। কিন্তু তা পদে পদে হরণ করা হচ্ছে।

কোন ব্যক্তি তথ্য দেওয়ার কারণে হয়রানির শিকার হতে পারেন, সেগুলোই প্রাইভেসি হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। সিকিউরিটি বলতে যেসব উপায়ে আমরা আমাদের নিজেদের ও ব্যক্তিগত তথ্যকে সুরক্ষা করি তা বোঝায়। আর প্রাইভেসি বলতে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ বোঝায়। ডিজিটাল যুগে বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। কিন্তু সেটি সুরক্ষিত থাকবে কিনা, তা নিশ্চিত করে জানানো হয় না। যে কোনও জায়গায় জাতীয় পরিচয়পত্র, মেডিক্যাল রিপোর্ট, ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের নামে যাবতীয় তথ্য দেওয়া এবং সেটির রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে নাগরিকের কাছে কোনও তথ্য না থাকায় ব্যক্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে। প্রাইভেসি নিয়ে আমাদের তেমন কোনও আইন নেই। প্রাইভেসির অধিকার রক্ষার দায়িত্ব ও আইনি কাঠামোর সহায়তা দেওয়ার কথা রাষ্ট্রের। আমাদের এখানে প্রায়ই পাবলিক ইন্টারেস্ট, পলিটিক ইন্টারেস্ট ক্ষুণ্ন হয়। অপর দিকে ফেসবুকের জীবন-যাপন পর্যবেক্ষণের মধ্যদিয়ে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে সক্রিয় হ্যাকাররা জেনে যাচ্ছে পাসওয়ার্ড। এরমধ্যে ব্যক্তির গোপনীয়তা বলে আর কিছু থাকছে কিনা। তাই নতুন প্রযুক্তির কারণে ব্যক্তিগত তথ্য গোপনীয়তা জরুরি।

অপরাধ ও সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেকে সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া থেকে রক্ষার জন্য তার ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বরং এর জন্য সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)