শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

SW News24
বুধবার ● ১১ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » ফুলের মৌসুম বসন্ত
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » ফুলের মৌসুম বসন্ত
২৫ বার পঠিত
বুধবার ● ১১ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ফুলের মৌসুম বসন্ত

--- ঋতুরাজ বসন্ত এল ফাগুনে ফুলের ডালি সাজিয়ে। নতুন পাতা আর ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে গাছ। বসন্তের আগমনে নবপত্রপল্লবে শোভিত হয়ে উঠছে বনরাজি ও ফুলের বাগান। বসন্ত ঋতু ফাল্গুন-চৈত্র মাস প্রকৃতির রূপান্তরের সময়, যা ফুলের ভরা মৌসুম হিসেবে পরিচিত। তাই বসন্তকে বলা হয় ঋতুর রাজা। এটি মূলত ফুলেদেরই মৌসুম। এই ঋতুতে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে এবং অসংখ্য বাহারি ফুলের সমারোহ দেখা যায় ।  শীতের শেষে পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, রুদ্রপলাশ ও নাগেশ্বরসহ নানা রঙে প্রকৃতি সেজে ওঠে। এই সময় গাছে নতুন পাতা গজায় এবং মিষ্টি সৌরভে চারপাশ সুবাসিত হয়ে ওঠে, যা প্রকৃতির প্রাণবন্ত রূপ তুলে ধরে।

বাংলাদেশের ছয় ঋতুর মধ্যে শীত থেকে বসন্তের পরিবর্তনটাই সব থেকে চোখে পড়ার মতো। সারা বছরই বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফুল দেখা গেলেও বসন্তকালেই এর সংখ্যা সব থেকে বেশি। বসন্তের প্রধান ও জনপ্রিয় কিছু ফুল হলো: শিমুল ও পলাশ : এই ফুলগুলোকে বসন্তের প্রতীক বলা হয়। বসন্তের প্রধান প্রতীক, যা বন-বনান্তে আগুনের মতো লাল রঙ ছড়িয়ে দেয়। এদের লাল আভা প্রকৃতিকে রঙিন করে তোলে। কৃষ্ণচূড়া :গাঢ় লাল-কমলা রঙের এই ফুল বসন্তের অন্যতম আকর্ষণ। বসন্তের শেষভাগে এই উজ্জ্বল লাল ও কমলা ফুল গাছে ভরে ওঠে। রক্ত কাঞ্চন : বসন্তে ফোটা অন্যতম একটি নজরকাড়া ফুল। মাধবীলতা  ও নাগেশ্বর: বসন্তের সুগন্ধি ও নান্দনিক ফুলের মধ্যে এগুলো অন্যতম।অন্যান্য দেশীয় ফুল: অশোক, মহুয়া, নাগেশ্বর, মুচকুন্দ, গামারি, রক্ত কাঞ্চন,পারিজাত, রুদ্রপলাশ, হিমঝুড়ি এবং ভাঁটফুলও এই ঋতুতে ফোটে।

বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে নতুন জীবনের স্পন্দন তৈরি হয় এবং মৌমাছিদের মধু আহরণের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এই সময়ে ফুলের চাহিদা ও বাজার দরও বেশ চাঙ্গা থাকে।

এখন ঋতুরাজ বসন্তের। বসন্ত মানেই রঙ, গন্ধ আর ভালোবাসার মৌসুম। প্রকৃতি নানার রঙের বর্ণিল সমাহারে গাছে গাছে শোভাময় দ্যুতি ছড়াচ্ছে। শিমুল আর পলাশের লাল রঙে বসন্ত নীরব-নিস্তব্ধ প্রকৃতির অমলিন বদনে দৃপ্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। গাছে গাছে সবুজ পাতার নতুন কুড়ি এসে পত্র-পল্লবকে সবুজে সবুজে ঢেকে দিচ্ছে। ঋতুরাজ বসন্তে প্রকৃতি যেন ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে। গাছে গাছে কোকিলের মিষ্টি গলার সুরই বলে দেয় এখন বসন্তকাল। বসন্তে পলাশ ফুলকে বলা হয় আগুন ঝরা ফুল। গাঢ় লাল রঙের ফুলে ভরে থাকে গাছটি। লাল ফুলের রঙ ছড়িয়ে তখন মনে হয় যেন বনে বনে আগুন লেগেছে। বসন্ত প্রকৃতির মাঝে শান্ত ভাব ছড়িয়ে দেয়। তার সুশীতল বাতাস দেহমনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। না শীত না গরম। এমনই ঋতু প্রকৃতির জন্য বিরল। পৃথিবীতে এমন ঋতু মেলা ভার। তাই তো বসন্তের মিষ্টি সুবাস আমাদের সবাইকে মোহিত করে।

ভালোবাসা দিবস, বসন্তবরণ ও উৎসবের মৌসুমে ফুলের দোকানগুলো লাল গোলাপ, জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস, রজনীগন্ধা ও গাঁদাফুলে বর্ণিল হয়ে ওঠে। পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে শহরের ফুলের দোকানগুলোতে দেখা যায় তরুণ-তরুণীর ভিড়। উৎসবের সময় চাহিদার সাথে সাথে ফুলের দামও বেড়ে যায়, বিশেষ করে দেশি ও চায়না গোলাপের চাহিদা বেশি থাকে। বাজারের দোকানগুলো এসব দিনে রঙিন ফুলে সেজে ওঠে।

বনপথে বসন্তের বনফুল, সেও বাংলার এক অপরূপ রূপ। বাংলার ঝোপ- জঙ্গল বনফুলগুলো আলোয় ভরিয়ে তোলে। বুনো টগর, দাঁতরঙা বা লুটকি, আষাঢ়ি লতা, বরুণ, মুচকুন্দ আরো কত যে বুনো ফুল ফোটে এই বসন্তে। ফাল্গুন আর চৈত্র মিলে এ দেশের বসন্তকাল হলেও প্রথম মাসেই জাগে যত ফুলের শিহরণ, চৈত্রের দাবদাহে সে ফুলের আলো হয়ে যায় খানিকটা ম্রিয়মাণ।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)