শিরোনাম:
পাইকগাছা, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ৯ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » গ্রামাঞ্চলের পরিচিত জিওল গাছ
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » গ্রামাঞ্চলের পরিচিত জিওল গাছ
১৩৯ বার পঠিত
সোমবার ● ৯ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

গ্রামাঞ্চলের পরিচিত জিওল গাছ

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান

জিওল গাছ গ্রামাঞ্চলে অত্যন্ত পরিচিত একটি দ্রুত বর্ধনশীল ঔষধি গাছ। জিওল বা জিয়ল গাছ একটি মাঝারি আকারের, খুব দ্রুত বর্ধনশীল এবং অত্যন্ত শক্তপোক্ত পত্রমোচী বৃক্ষ। এদের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতলে সহজেই চারা হয় এবং এই গাছ মারা যায় না বললেই চলে। গাছটি খুব শক্তপোক্ত, এর ডাল খুব সহজে বেঁচে থাকে, তাই একে জিয়ল বা বেঁচে থাকা গাছ বলা হয়। এলাকা ভেদে এটি জিগা, জিকা, জিওল, জিয়েল, বাধি, কাফিলা, কামাইল্লা বা কচা গাছ নামে পরিচিত।

গাছ থেকে বিশেষ ধরণের আঠা বের হয়, যা কাগজ জোড়ার কাজে প্রচুর ব্যবহৃত হতো। গাছ ও ফল থেকে এক ধরনের আঠা পাওয়া যায় যা আগে ঘুড়ি তৈরিতে বা জিনিস জোড়া দিতে ব্যবহৃত হতো। এর আঠা প্রাচীনকালে কাগজ বা খাম জোড়া লাগানোর আঠা হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

সাধারণত বাংলাদেশের নিম্নভূমি বা গ্রামের বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার ধারে প্রচুর দেখা যায়। গ্রামীণ এলাকায় বেড়া হিসেবে এই গাছের ডাল ব্যবহার করা হয়। গ্রামে জমির সীমানা বা ক্ষেতের বেড়া হিসেবে জিয়ল গাছের ডাল সারিবদ্ধভাবে পুঁতে দেওয়া হয়।এই গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে দিলেই সহজে চারা গজায়। এটি অত্যন্ত সহনশীল এবং সামান্য বৃষ্টিতে সহজেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।তবে কান্ড নরম,তাই সহজেই ডাল ভাঙা যায়। ছোট ডাল ঠস ঠস,শব্দে সহজেই ভেঙে যায়। এর কাঠে সহজে ঘুন ধরে না, তাই ঘরের খুঁটি বা ঢেঁকির বিভিন্ন অংশ তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।

সাধারণত মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে জিওল বা জিগা গাছে ফুল ফোটে। গাছের ফুল আকারে অনেক ছোট এবং গুচ্ছ আকারে ফোটে। এই ফুলগুলো মূলত হলুদাভ বা হালকা সবুজ রঙের হয়ে থাকে। গাছের ফল ছোট, থোকা থোকা আঙ্গুরের মতো দেখতে, যা পাকলে লাল বা বেগুনি রঙের হয়। এর ফল বুলবুলি, শালিক,বসন্তবৌরী, ফিঙে বিভিন্ন পাখির খুব পছন্দ করে, তাই ফল পাকলে গাছে পাখির ভিড় দেখা যায়।

জিওল গাছের কষ বা আঠা চর্মরোগ বা অন্যান্য ঔষধি কাজেও ব্যবহৃত হয়। এর আঠা এবং বাকলের বিভিন্ন ঔষধি ব্যবহার রয়েছে।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)