বুধবার ● ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুন্দরবনের ভূমিকা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুন্দরবনের ভূমিকা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুন্দরবনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুমুখী ভূমিকা রয়েছে। কাঠ, মধু, মাছের মতো মূল্যবান বনজ সম্পদ সরবরাহ করা হয়। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে। সুন্দরবন বনজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ, পর্যটন এবং প্রাকৃতিক সুরক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে। যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সুন্দরবন প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস। বনের সুন্দরী, গেওয়া, গরান, জ্বালানি কাঠ, মন্ড এবং ঘর ছাওয়ার পাতার মতো কাঁচামাল সরবরাহ করে, যা কাঠশিল্প ও অন্যান্য শিল্পকে সহায়তা করে। বন থেকে বিপুল পরিমাণ কাঠ, জ্বালানি, গোলপাতা, মধু, মোম এবং ওষুধি গাছ আহরণ করা হয়, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
দেশের মোট মৎস্য চাহিদার একটি বড় অংশ সুন্দরবন থেকে আসে। বনের নদ-নদী ও খালে প্রচুর পরিমাণে মাছ, কাঁকড়া এবং চিংড়ি পাওয়া যায়। যা বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। মোহনা অঞ্চল মাছ, কাঁকড়া, এবং শামুক-ঝিনুকের প্রজনন ক্ষেত্র, যা মৎস্যজীবীদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে। সামুদ্রিক খনিজ, মৎস্যচাষ এবং পরিবহণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণী দেখতে দেশি-বিদেশি অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন। এটি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অন্যতম প্রধান উৎস এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে,যা শিল্প ও জীবিকার উৎস। ইকোট্যুরিজম গাইড, বোট অপারেটর ও হস্তশিল্প স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং রাজস্ব আয় বাড়ায়।
প্রাকৃতিক সুরক্ষায় সুন্দরবন একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, শিল্প এবং জানমাল রক্ষা করার মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সাশ্রয় করে। এ বন প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় এলাকা ও সম্পদ রক্ষা করে, যা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করে। কার্বন শোষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়তা করে।
বনের ওপর নির্ভর করে কাঠুরে, বাওয়ালি, মৌয়াল এবং জেলেসহ কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা, বনজ সম্পদ আহরণ এবং পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থান হয়। পশু-পাখি ও উদ্ভিদের আবাসস্থল হিসেবে সুন্দরবন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।






তীব্র শীত-কুয়াশায় কৃষিখাতে বিরূপ প্রভাব ; বাড়ছে কৃষকের দুশ্চিন্তা
পথপ্রাণীদের জীবনে শীতের প্রভাব
টিনটিনের চিরসবুজ অ্যাডভেঞ্চার
ভিউ নির্ভর সাংবাদিকতায় মর্যাদা হ্রাস পাচ্ছে
প্রতিশ্রুতি দিবস
মানুষের আনন্দ আতশবাজির বিকট শব্দ ও উজ্জ্বল আলোয় আতঙ্কিত প্রাণকিূল
উপকূলে বালুচরের নিচে মিঠাপানির ভান্ডার : সুন্দরবনে নতুন দিশা
প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি
শীতে প্রকৃতির রূপ 