বুধবার ● ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » কেশবপুরে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধ অর্ধশত বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত
কেশবপুরে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধ অর্ধশত বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত
এম আব্দুল করিম , কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন জলাবদ্ধ বিলে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে সেচপাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে বোরো ধানের চাষ করে আসছে কৃষকরা। চলতি মৌসুমে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রধান নদ-নদী ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে হঠাৎ করে সেচ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে উপজেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিলসহ প্রায় অর্ধশত বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য শহরে মাইকিং করা হয়। সেই অনুযায়ী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সেচপাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ অনেক বিলে এখনো এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে না পারায় শত শত কৃষক চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
জানা গেছে, এ উপজেলায় বর্ষার অতিরিক্ত পানি বুড়িভদ্রা, হরিহর ও আপারভদ্রা নদী হয়ে হরি নদীতে নিষ্কাশিত হয়। দীর্ঘদিন পলি জমে নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক ও ঘের মালিকদের যৌথ অর্থায়নে এতদিন সেচপাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে বছরে একমাত্র ফসল হিসেবে বোরো আবাদ করা হতো।
সরকার ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হরি নদীসহ প্রধান নদ-নদী ও খালের প্রায় ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। গত ২৬ অক্টোবর এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করা হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছর ৩০ পৌষের মধ্যে পানি নিষ্কাশনের শর্তে জমি ঘের মালিকদের কাছে লিজ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী এবারও ঘের মালিকরা সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে হঠাৎ করে সেচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনো অর্ধশতাধিক বিলে পানি রয়ে গেছে।
পশ্চিম সারুটিয়ার বরুনার বিলের ঘের মালিক মেজবাহ উদ্দীন মিল্টন জানান, তার প্রায় ৪০০ বিঘা জমির দুটি মাছের ঘেরে ২৫–২৬টি মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন চলছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পানি সরানো সম্ভব ছিল। কিন্তু পার্শ্ববর্তী ঘেরের কিছু ব্যক্তি বুডুলি খালের বাঁধ কেটে দেওয়ায় পুনরায় ঘের তলিয়ে যায়। পরে বাঁধ মেরামত করে আবার সেচ শুরু হলেও ৩০ পৌষের সাত দিন আগে সেচ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এখনো ঘেরে এক থেকে দেড় ফুট পানি থাকায় শতাধিক কৃষক বোরো আবাদ করতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে কেশবপুরে ১৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৭০০ হেক্টরে হাইব্রিড ও ৮ হাজার ৪২৫ হেক্টরে উফশী জাতের ধান চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি কম থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু সেচ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তিনি আরও দুই থেকে তিন দিন সেচ কার্যক্রম চালু রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।






মাগুরায় মধু চাষে বাজিমাত আলামিনের
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় পাইকগাছায় বোরো আবাদ স্থবির হয়ে পড়েছে
তীব্র শীতে পাইকগাছার নারীরা ফসলের মাঠে
শ্যামনগরে লবণ সহনশীল কৃষি ফসল ও সবজি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ
মাগুরায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা
মাগুরায় আগাম পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা
পাইকগাছায় আমন ধানের ফলন ভাল হলেও ধানের মূল্য কমে কৃষক হতাশ
পাইকগাছায় হলুদ ফুলে ভরে গেছে সরিষার ক্ষেত
পাইকগাছায় আগাম বোরো আবাদের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক 