শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

SW News24
মঙ্গলবার ● ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » উন্মুক্ত মাঠে ছাগল চরিয়ে পালন করা লাভজনক
প্রথম পাতা » কৃষি » উন্মুক্ত মাঠে ছাগল চরিয়ে পালন করা লাভজনক
৬ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

উন্মুক্ত মাঠে ছাগল চরিয়ে পালন করা লাভজনক

---উন্মুক্ত মাঠে ছাগল চরিয়ে পালন করা একটি লাভজনক এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ছাগল পালন করলে খাবারের খরচ অনেকাংশেই কমে আসে এবং ছাগলের শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়। এতে খরচ কম হয় এবং ছাগল স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পায়।   প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হওয়ায় মাংসের স্বাদ ও মান ভালো হয়। কৃষকরা কম  খাদ্য খরচে বেশি লাভবান হয়।

বাংলাদেশে ছাগল অন্যতম গৃহপালিত পশু। ছাগী ৭-৮ মাসের মধ্যে বাচ্চা ধারণ ক্ষমতা অর্জন করে। এটি একসাথে ২-৩টি বাচ্চা দেয়ার কারণে কৃষকের নিকট খুব জনপ্রিয়। একটি খাসি ছাগল ১২-১৫ মাসের মধ্যে ১৫-২০ কেজি হয়ে থাকে। ছাগলের মাংস খুব সুস্বাদু। তাই বাজারে এ ছাগলের অনেক চাহিদা রয়েছে। ছাগলকে গরিবের গাভী বলা হয়। কারণ গাভী পালনের জন্য প্রাথমিক মূলধন, বাসস্থান ও খাদ্য বেশি লাগে। প্রচলিত পদ্ধতিতে গ্রামে ছাগলকে মাঠে, বাগানে, রাস্তার পাশে বেঁধে বা ছেড়ে দিয়ে পালন করা হয়। এতে ছাগলকে বাড়ি থেকে কোনো বাড়তি খাদ্য সরবরাহ করা হয় না। কৃষক বর্ষাকালে বিভিন্ন গাছের পাতা কেটে ছাগলকে খেতে দেয়। রাতে ছাগলকে নিজেদের থাকার ঘর বা অন্য কোনো ঘরে আশ্রয় দেয়।

খোলা মাঠে ছাগল চরিয় পালন একটি সাশ্রয়ী ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। যেখানে ছাগল চারণভূমি থেকে ঘাস ও লতাপাতা খেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দৈনিক ৫-৬ ঘণ্টা চারণে থাকলে এদের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত হয়। প্রতিদিন একটি প্রাপ্তবয়স্ক ছাগলের কয়েক কেজি সবুজ ঘাসের প্রয়োজন হয়। মাঠে ছাগল বিভিন্ন ধরনের ঘাস, লতাপাতা ও আগাছা খায়, যা তাদের প্রাকৃতিক পুষ্টির চাহিদা মেটায়।

উন্মুক্ত মাঠে একসাথে এক দলেই ছাগল চরানো হয়। সকাল নয়টা থেকে বারটা পর্যন্ত এদিকে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে পাঁচটা, সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত মাঠে সড়কের ধারে বা পতিত জমিতে দল বেঁধে ছাগল চরাতে দেখা যায়। খোলা জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করলে ছাগল সবসময় সক্রিয় ও সুস্থ থাকে। শরীরে চর্বি কম জমে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ঘরে বন্দি ছাগলের তুলনায় রোগবালাই কম হয়।

মাঠে চরে খাওয়া ছাগলের কৃমি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই নিয়মিত বিরতিতে পশু চিকিৎসকের পরামর্শে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে। চারণের পাশাপাশি পরিপূরক দানাদার খাবার (ভুট্টা, ভূষি, খৈল) খাওয়ালে স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
খোলা মাঠে শিয়াল বা বন্য কুকুরের হাত থেকে রক্ষা করতে সবসময় একজন রাখাল বা তত্ত্বাবধায়ক সাথে থাকা জরুরি।

বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অত্যন্ত প্রচলিত ও সাশ্রয়ী একটি পদ্ধতি উন্মুক্ত মাঠে ছাগল পালন। যেখানে ছাগল চরে বেড়িয়ে প্রাকৃতিক ঘাস, লতাপাতা খায়। এই পদ্ধতিতে কম খরচে ও স্বল্প পুঁজিতে বেশি লাভজনক। বিশেষ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাত  ছাগল পালন করা যায়, যা বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়তা করে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)