বুধবার ● ৪ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » পাইকগাছায় পরীক্ষামূলক বার্লি চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা
পাইকগাছায় পরীক্ষামূলক বার্লি চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা
পাইকগাছায় পরীক্ষামূলক বার্লি চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃস্টি হয়েছ। উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাজিমুছা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে বার্লি। এলাকায় প্রথমবার বার্লি চাষে দেখা দিয়েছে আশাব্যঞ্জক ফলন।
এলাকার কৃষকেরা আগে কখনো ভাবেননি, লবণাক্ত এ জমিতে সম্ভব হতে পারে বার্লি চাষ। সেই ধারণা বদলে দিয়েছেন এক সাহসী কৃষক মনিরুল ইসলাম। রবি মৌসুমে নিজের এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বার্লি চাষ করে তিনি সফলতা পেয়েছেন।
পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির কাজিমুছা গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়ি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে সরিষা, গম, ও অন্য ফসলের মাঝ একখন্ড সবুজ বার্লির খেত,যা সকলের নজর কাড়ছে। খেতের প্রান্তে টাঙানো আছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সাইনবোর্ড। বারি বার্লি-৭ ও বারি বার্লি-১০ নামের দুটি জাত।
কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান , জমিতে আগে গম চাষ করতাম। এবার কৃষি গবেষণা বিভাগের পরামর্শে প্রথমবার বার্লি চাষ করেছি। তারা আমাকে বিনা মূল্যে বীজ, সার,কীটনাশক সহ সবকিছু দিয়েছে। শুরুতে ফলন হয় কি না একটু চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এখন ফলন দেখে ভালো লাগছে। আশপাশের কৃষকরা আমার ক্ষেত দেখতে আসে।
পাইকগাছা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান বলেন, এই এলাকায় এটিই প্রথম পরীক্ষামূলক বার্লি আবাদ। বারি বার্লি-৭ খাটো এবং ৯০-১০৫ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয়। আর বারি বার্লি-১০–এর উচ্চতা ৯০ থেকে ৯৫ সেন্টিমিটার। এটি লবণাক্ত জমিতেও হেক্টরপ্রতি গড়ে ২ থেকে ২ দশমিক ৪ টন ফলন দেয় এবং ৮০ থেকে ৮৬ দিনের মধ্যে পাকতে শুরু করে। পাইকগাছার জন্য বারি বার্লি-১০ তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী বলে মনে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনুর্বর ও লবণাক্ত জমিতে স্বল্প খরচে বার্লি চাষ সম্ভব। পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম এবং সেচ ছাড়াও ফলনে বড় তারতম্য দেখা যায় না। রবি মৌসুমে লবণাক্ততার কারণে যেখানে অন্য ফসল ঝুঁকিতে থাকে, সেখানে বার্লি হতে পারে সম্ভাবনাময় বিকল্প। পরীক্ষামূলক আবাদ সফল হওয়ায় আগামী মৌসুমে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানান।
বারির গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা বীজ দিয়ে প্রায় ১৫০টি নতুন লাইন উদ্ভাবন করা হয়েছে। সেগুলো বড় প্লটে পরীক্ষামূলকভাবে চাষের প্রস্তুতি চলছে। সফল হলে দ্রুত কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। বার্লি উপকূলীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে তাঁর আশা।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই করতে কৃষকদের প্রচলিত চাষাবাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বিকল্প তৈরি করা জরুরি। দেশে বার্লির চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বার্লিভিত্তিক শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এ ফসল খাদ্য ও পশুখাদ্য উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।






চাকরি ছেড়ে সেলিম এখন কৃষি উদ্যোক্তা; পেয়েছেন সফলতা
মাগুরায় আমের মুকুলে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে প্রকৃতি
মাগুরায় মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে মাঠে জৈব সার প্রয়োগে কৃষকের ব্যস্ত সময়
পাইকগাছায় তীব্র শীতের মধ্যে বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত চাষিরা
রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় নড়াইলে বোরো ধান রোপনের ধুম পড়েছে
মাগুরায় আপেল কুল চাষে ভাগ্যবদল পিকুল লস্করের
উন্মুক্ত মাঠে ছাগল চরিয়ে পালন করা লাভজনক
শীতকালে পাইকগাছায় রাস্তার পাশে গাছের উপর লতা জাতীয় সবজি চাষ জনপ্রিয় ও লাভজনক পদ্ধতি
কেশবপুরে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধ অর্ধশত বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত 