শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

SW News24
মঙ্গলবার ● ৬ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » টিনটিনের চিরসবুজ অ্যাডভেঞ্চার
প্রথম পাতা » মুক্তমত » টিনটিনের চিরসবুজ অ্যাডভেঞ্চার
৩২ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ৬ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

টিনটিনের চিরসবুজ অ্যাডভেঞ্চার

---প্রকাশ ঘোষ বিধান

বিশ্ব টিনটিন দিবস প্রতি বছর ১০ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। ১৯২৯ সালের ১০ জানুয়ারি বেলজিয়ান কার্টুনিস্ট অ্যার্জে তাঁর বিখ্যাত কমিকস চরিত্র টিনটিনকে প্রথম জনসমক্ষে আনেন। বেলজিয়ামের সংবাদপত্রের শিশুতোষ ক্রোড়পত্র ল্য প্যতি ভাঁতিয়েম এ প্রথমবার টিনটিন প্রকাশিত হয়েছিল।

বিশ্ব টিনটিন দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত না হলেও টিনটিনের জন্মদিন ১০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে টিনটিন ভক্তরা এই দিনটিকে উদযাপন করেন। এর কারণ ১৯২৯ সালের এই দিনে বেলজিয়ামের লা পাতি ভ্যাঁতিয়েম পত্রিকায় প্রথম টিনটিন কমিকস প্রকাশিত হয়েছিল।

বেলজিয়ামের কার্টুনিস্ট অ্যার্জে। তবে তার আসল নাম জর্জেস রেমি। অ্যার্জে ছেলেবেলায় ছিলেন বয় স্কাউট। ছটপটে স্বভাবের অ্যার্জেকে বন্ধুরা ডাকত ছোট্ট শেয়াল বলে। তিনি পরে সংবাদপত্রে যোগ দেন। তবে সাংবাদিক ছিলেন না। একদিন পত্রিকার যিনি প্রধান, তিনি অ্যার্জেকে সংবাদপত্রের জন্য নিজের মতো একটি চরিত্র সৃষ্টির কথা বললেন। এখান থেকেই জন্ম হলো টিনটিনের। অ্যার্জে নিজে সাংবাদিক না হলেও টিনটিনকে সাংবাদিকের রূপ দিলেন। সে নির্ভয়ে সারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ায়। অ্যার্জে টিনটিনকে নিয়ে লেখেন ২৩টি সম্পূর্ণ কাহিনি। শেষেরটি তিনি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। বিশ্ব জুড়ে ১১২টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে টিনটিনের কমিকস। বেলজিয়ামে টিনটিন নামে একটি  সাপ্তাহিক পত্রিকাও প্রকাশিত হয়েছিল। অ্যার্জে মারা যান ১৯৮৩ সালে। তিনি মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা হিসেবে ঘোষণা করেন, আমি মারা যাওয়ার পর টিনটিন নিয়ে যেন আর কোনো সিরিজ না বের করা হয়।

টিনটিন সিরিজের চরিত্র হলো টিনটিন; এক ক্ষুদে সাংবাদিক। মাথায় তার সোনালি ঢেউ খেলানো চুল। বয়স উনিশের মধ্যে। ৯৫ বছর ধরে তাই আছে। গোল মুখমন্ডল। চুল কপালের ওপর আঁচড়ে তোলা। তীক্ষ বুদ্ধির অধিকারী। চটপটে। আত্মরক্ষায় করতে সক্ষম। সৎ, ভদ্র ও সহানুভূতিশীল। বিশ্বাস করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায়। দ্রুত চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যার মধ্যে। অন্যায়ের সঙ্গে যে কোনো আপস করে না। সাংবাদিক হলেও নেশায় অভিযাত্রী। টিনটিনও শার্লক হোমসের মতো, সৃষ্টি ছাপিয়ে গিয়েছে স্রষ্টাকে। অ্যার্জে টিনটিনকে সৃষ্টি করেছেন তার দেখা একটি বাস্তব চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, যার নাম প্যাল হাল্ড। তিনিও সারা বিশ্ব ঘুরেছিলেন। কুট্টুস; টিনটিন সিরিজের সবার প্রিয় চরিত্র হলো টিনটিনের কুকুর কুট্টুস। কোথাও কোথাও তার নাম স্নোয়ি। মিষ্টি কিন্তু খুব দুষ্টু আর ভীষণ প্রভুভক্ত কুকুর কুট্টুস। প্রফেসর ক্যালকুলাস; টিনটিন সিরিজের আরেকটি নিয়মিত চরিত্র হলো প্রফেসর ক্যালকুলাস। ফরাসি সংস্করণে অবশ্য তার নাম প্রোফেসর টুরনিসল। প্রফেসর কানে কম শোনেন, মাথায় চুলও বিশেষ নেই। কিন্তু তিনি ভীষণ অমায়িক আর প্রতিভাবান। তার আবিষ্কার নিতে যেমন দেশ-বিদেশের চরেরা তার পিছু নেয়, তেমনি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে টিনটিনদের উদ্ধারও করেছেন কয়েকবার। ক্যাপটেন হ্যাডক; টিনটিন সিরিজের এক মজার চরিত্র ক্যাপটেন হ্যাডক। ক্যাপটেন বটে, তবে তাকে ডাঙায়ই দেখতে পাওয়া যায় বেশি। প্রচুর পরিমাণে মদ খায়, পাঁড় মাতাল। ভীষণ মাথা গরম। মুখে একগাল দাড়ি। ভুলো মনো আর ভুল করে পাঠক হাসানো ক্যাপ্টেনের জনপ্রিয়তাও কম নয়। গোয়েন্দা রনসন-জনসন; টিনটিনের মজার চরিত্র হলো গোয়েন্দা যুগল জনসন-রনসন। তারা কাজ সমাধার চেয়ে ভটঝট বাধায় বেশি। তারা রহস্যের উদ্ঘাটন করতে গিয়ে বিপদে পড়ে, অগত্যা টিনটিনকেই উদ্ধারে এগিয়ে যেতে হয়। টিনটিন আড়ালে তাদের মানিকজোড় বলে ডাকে।

বেলজিয়ান কার্টুনিস্ট জর্জেস রেমি (অ্যার্জে নামে পরিচিত) সৃষ্ট এই তরুণ রিপোর্টার চরিত্রটি প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিশ্বজুড়ে অ্যাডভেঞ্চার ও রহস্যের প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। বিশ্বজুড়ে টিনটিন ভক্তরা এই কালজয়ী রিপোর্টার এবং তাঁর বিশ্বস্ত কুকুর স্নোয়ি (কুট্টুস)-এর সাহসিকতা ও অ্যাডভেঞ্চার উদযাপন করতে এই দিনটি পালন করেন।

টিনটিন ও তার সঙ্গী স্নোয়ী (বাংলায় কুট্টুস) বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি পাঠকের মন জয় করেছে, যা এটিকে একটি কালজয়ী কমিকস চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। টিনটিনের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, সাহসিকতা এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব তাকে বিশ্বজুড়ে এক পরিচিত ও ভালোবাসার চরিত্রে পরিণত করেছে।

১০ জানুয়ারি ১৯২৯ সালে টিনটিন ইন দ্য ল্যান্ড অফ দ্য সোভিয়েতস কমিকস স্ট্রিপের মাধ্যমে টিনটিনের যাত্রা শুরু হয়।টিনটিনের জনপ্রিয়তার কারণে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০টি ভাষায় ২০ কোটিরও বেশি কপি বই বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বেলজিয়ামের পাসপোর্টেও এই চরিত্রটিকে জাতীয় আইকন হিসেবে ব্যবহার করা হয় ।

লেখক; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)