শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

SW News24
সোমবার ● ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » পাইকগাছায় শিমুল ফুল প্রকৃতি রাঙাচ্ছে
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » পাইকগাছায় শিমুল ফুল প্রকৃতি রাঙাচ্ছে
২৩ বার পঠিত
সোমবার ● ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছায় শিমুল ফুল প্রকৃতি রাঙাচ্ছে

---  ফাগুনের আগুন রাঙা প্রকৃতি সেজেছে শিমুলের আপন সাজে। গাছের ডালে ডালে টকটকে লাল বর্ণচ্ছটায় মন রাঙানো শিমুল বসন্তে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। প্রকৃতি, কল্পনার রঙ আর বাস্তব যেন মিলেমিশে একাকার। প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্য মনে করিয়ে দেয় বসন্ত এসেছে, ফুলে ফুলে ভরে গেছে মন।

জানা যায়, শিমুল গাছের সব অংশেই রয়েছে ভেষজগুণ। শীতের শেষে শিমুলের পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে যায়। বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই নতুন গাছের জন্ম হয়।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনও গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে শিমুল ফুল। বসন্তের সঙ্গে-সঙ্গেই প্রকৃতি যেন নিজ রূপে সেজে উঠেছে। রাস্তার পাশে শিমুল ফুলের সৌন্দর্য দেখে  প্রকৃতিপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। পাখি  আর মৌমাছিদের আনাগোনা চোখে পড়ার মত দৃশ্য।

বসন্তের স্মারক শিমুল ফুল। শিমুলের ইংরেজি নাম সিল্ক কটন ট্রি। গাছের বৈজ্ঞানিক নাম বোমবাক্স সাইবা লিন। বীজ ও কাণ্ডর মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার হয়। অর্থনৈতিকভাবেও বেশ গুরুত্ব বহন করছে। তবে সময়ের সঙ্গে কমে যাচ্ছে শিমুল গাছ। বাণিজ্যিকভাবে করা হয় না চাষ।

উপজেলার গদাইপুর গ্রামের কৃষক আবুল কাসেম বলেন, আগে গ্রামে প্রচুর শিমুল গাছ ছিল। এখন আর দেখা যায় না। এই গাছ বিলুপ্তির পথে। একটি বড় গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আগের তুলনায় এখন শিমুলের তুলার দাম অনেক বেড়ে গেছে।  তা ছাড়া বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই। কিন্তু শিমুল তুলার মূল্যবৃদ্ধিতে গার্মেন্টের ঝুট কাপড় দিয়ে তৈরি তুলা তোশক, বালিশ তৈরিতে শিমুল তুলার স্থান দখল করে নিয়েছে।

কালের বিবর্তনে ঋতুরাজ বসন্তে এখন আর যেখানে-সেখানে চোখে পড়ে না রক্তলাল শিমুল গাছ। এক দশক আগেও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় গাছে গাছে শোভা বর্ধন করতো শিমুল ফুল। এ গাছটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। অন্য গাছের মতো এ গাছ কেউ শখ করে রোপণ করে না। প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে। নেওয়া হয় না কোনো যত্ন।

পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবির সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান  বলেন, প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে ফুটিয়ে তোলে শিমুল ফুল। গ্রাম বাংলার এই শিমুল গাছ আগে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিত। মানুষরা এই শিমুলের তুলা বিক্রি করতো। অনেকে নিজের গাছের তুলা দিয়ে বানাতো লেপ, তোশক ও বালিশ। শিমুলের তুলা বিক্রি করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছে। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন আর তেমন চোখে পড়ে না শিমুল গাছ। নির্বিচারে শিমুলগাছ নিধন ও চারা রোপণ না করার কারণে এ অঞ্চল থেকে শিমুল গাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে। শিমুল গাছ রক্ষায় সরকারি নজরদারি বাড়ানো দরকার এবং সংরক্ষণে কৃষি বিভাগসহ পরিবেশবাদী সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ একরামুল হোসেন জানান, বাণিজ্যিকভাবে এখন দেশের কোথাও এই শিমুল গাছ বা তুলা চাষ করা হয় না। এটি প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে। যার কারণে শিমুল গাছ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন হচ্ছে শিমুল গাছ। তিনি শিমুল গাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)