শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » সংস্কৃতি ও বিনোদন » পাইকগাছায় মেলা ঘিরে কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা
প্রথম পাতা » সংস্কৃতি ও বিনোদন » পাইকগাছায় মেলা ঘিরে কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা
৪ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৯ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছায় মেলা ঘিরে কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা

---প্রকাশ ঘোষ বিধান ঃ  চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও বৈশাখ উৎসব ঘিরে পাইকগাছার কুমোরপাড়ার মৃৎশিল্পীরা কর্মব্যস্ত। চৈত্র ও বৈশাখ জুড়ে খুলনার গ্রামীণ জনপদ মেতে উঠে বারণীসহ বিভিন্ন মেলায়। এসব মেলাকে ঘিরে রং তুলিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পিরা। তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির তৈজষপত্রে ফুটে উঠেছে নানা বৈচিত্র্য। বিশেষ করে শিশুদের খেলনা সামগ্রীতে উঠে এসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য।

বাংলার লোক উৎসব চড়ক মেলা। চৈত্র মাসের শেষদিন  চৈত্র সংক্রান্তির মেলা, তার পরের দিন বাঙালীর প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ। চৈত্র সংক্রান্তি মেলা ও পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে। মৃৎশিল্পীদের দম ফেলার ফুসরত নেই। হরেক রকমের মাটির বিভিন্ন রকম খেলনা শুকিয়ে ও পুড়ানো শেষ করে এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রঙের আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলতে। চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পীদের কয়েকগুণ কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়।

ঈদ,পূজা-পার্বন ও বিভিন্ন মেলা ঘিরে মাটির তৈজসপত্রের চাহিদা বাড়লেও বছরের বাকি সময়টা কুমারদের কাটে টানাপোড়েনে। সারা বছর তেমন আয় না হলেও চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখী মেলায় মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করে আয়ের মুখ দেখেন মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পীদের ঐতিহ্য যে একে বারে ফুরিয়ে যায়নি তা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে বুঝা যায়। এই মাসে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করেন।বিভিন্ন তৈজসপত্র ও শিশুদের খেলনা তৈরি করেন। মৃৎশিল্পীদের হাতের কারুকাজ তৈজসপত্র গ্রামীণ মেলাতে মুগ্ধতা ছড়ায়। যা ছোট বড় সব বয়সীদেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া পাল পাড়ায় প্রায় ১৫টি পরিবার মৃৎশিল্পের কাজ করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠান জুড়ে মাটির জিনিস পত্র। ভোর থেকে শুরু করে মধ্যে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের এ ব্যস্ততা। নারী-পুরুষ সকলে মিলে বিভিন্ন রকমের শিশুদের খেলনা রং করেছেন। হাড়ি-পাতিল, মাটির ব্যাংক, মশার কয়েলদানি, সানকি, কলসি, ফুলের টপ থেকে শুরু করে শিশুদের খেলনা পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূরপাখি, নৌকা,পাতিল, জগ, কলসি, চুলা বিভিন্ন খেলনা রং করতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা।

মৃৎশিল্পী তারক পাল বলেন, প্লাস্টিকের জন্য মাটির খেলনা আগের মতো বিক্রি হয় না। কিন্তু গদাইপুর মাঠে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও পহেলা বৈশাখের গ্রামীণ মেলাতে মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র ও ছোটদের খেলনা চাহিদা প্রচুর। বেঁচাকেনা ভালো হয়। চৈত্র মাসের পুরো সময়টাতে কুমার পাড়ায় ব্যস্ত থাকে। চৈত্র সংক্রান্তির পরের দিন পহেলা বৈশাখ। ছোটদের খেলনা রং করছি এই খেলনা  মেলাতে বিক্রি করবো। মেলাকে কেন্দ্র করে প্রায এক শতটি খেলনা বানিয়েছি। মেলার আগে রংয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

মৃৎশিল্পী সাধনা রানী পাল বলেন, চৈত্র মাসের শুরু থেকে ১০ রকমের খেলনা তৈরি করেছি। পুতুল হাড়ি,পাতিল, চুলা, পাখি, ঘোড়া বিভিন্ন মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনা কাজ শেষ করে এখন রং করছি। আমি আর আমার স্বামী মিলেই খেলনা তৈরি করেছি। ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত খেলনা রং করার কাজ করতে হচ্ছে। প্লাস্টিকের জিনিস বের হওয়াতে মাটির জিনিসের কদর কমে গেছে। শুধু গ্রামীণ মেলায় মাটির জিনিসের কদর থাকে। চৈত্র সংক্রান্তির মেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫শত খেলনা তৈরি করেছি। ছোটদের খেলনা রং করতে ব্যস্ত হয়ে পরেছি। প্রতিটি ছোটদের খেলনা ১০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।

মৃৎশিল্পে আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মৃৎশিল্পী রামপদ পাল বলেন, প্লাস্টিক পণ্যের ভিড়ে মাটির তৈরি জিনিসপত্র আগের মত না চললেও পূজা-পার্বণ ও গ্রামীণ মেলা আসলেই এসবের কদর বাড়ে। বিশেষ করে চৈত্র ও বৈশাখ আসলেই চাহিদা বাড়ে মাটির জিনিসপত্রের। আগের মতো মাটির জিনিস বিক্রি নাহলেও কিছু কিছু তৈজসপত্রের চাহিদা রয়েছে। আগে মাটির জিনিসের তৈজসপত্রের ভালোই চলতো, ভালো দাম পেতাম। এখন আর আগের মতো দাম পাই না। মেলায় মাটির জিনিসের কদর থাকে, ভালোই বিক্রি করা যায়। চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও  পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ছোটদের খেলনা তৈরি করেছি। সেই খেলনা পুড়ানো শেষ করে রং তুলিতে ফুটিয়ে তুলছি। চৈত্র মাসে কুমাররা ব্যস্ত সময় পার করে। বলতে গেলে সারা বছরের কাজ এই এক মাসে করে থাকি। গ্রামীণ মেলার জন্য টিয়া, ময়ূরপাখি, হাতি, ঘোড়া, মাটির ব্যাংক পুড়ানো শেষ করে রং করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। প্রায় তিন শত খেলনা তৈরি করেছি। প্রত্যেকটি খেলনা ২৫-৪০ টাকা দরে মেলায় বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

চৈত্র এলেই মনটা কেমন যেন হয়৷মনে পড়ে সেইসব ধূলিধুসর, রৌদ্রমাখা দিনগুলোর কথা ৷ চারদিকে কেমন উৎসবের আমেজ ৷সব বয়সি মানুষ অপেক্ষা করে মেলার জন্য ৷ মেলা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটা অংশ। মেলাকেন্দ্রিক কিছু সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠান গড়ে উঠেছে ৷ এগুলো আমাদের বিনোদনধারাকে উর্বর করে ৷ গ্রামীণ এ ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য প্রশিক্ষণ ও অনুদানের আওতায় আনা প্রয়োজন ।





সংস্কৃতি ও বিনোদন এর আরও খবর

পাইকগাছার গদাইপুর মাঠে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও বৈশাখী উৎসব উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা পাইকগাছার গদাইপুর মাঠে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা ও বৈশাখী উৎসব উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা
কেশবপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা কেশবপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা
মাগুরায় বাংলা নববর্ষ  উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা মাগুরায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা
মাগুরায় নানা আয়োজনে কন্ঠবীথির ২৮ বছর উদযাপন মাগুরায় নানা আয়োজনে কন্ঠবীথির ২৮ বছর উদযাপন
ঈদের দিন বোয়ালিয়া ব্রীজে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ঈদের দিন বোয়ালিয়া ব্রীজে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
নড়াইলে ঈদের আগে ব্যতিক্রমী আয়োজনে হিন্দু-মুসলিমদের ঈদ আনন্দ ও সম্প্রীতির মিলনমেলা নড়াইলে ঈদের আগে ব্যতিক্রমী আয়োজনে হিন্দু-মুসলিমদের ঈদ আনন্দ ও সম্প্রীতির মিলনমেলা
পাইকগাছায় ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় বড় ঠাকুর বা শনি দেবের পূজা অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনায় বড় ঠাকুর বা শনি দেবের পূজা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় আবির আর রং উৎসবের মধ্য দিয়ে দোলযাত্রা ও গৌড় পূর্ণিমা উদযাপিত পাইকগাছায় আবির আর রং উৎসবের মধ্য দিয়ে দোলযাত্রা ও গৌড় পূর্ণিমা উদযাপিত
ভালোবাসা দিবসে মাগুরায় ফুলের দোকানে উপচে পড়া ভিড় ভালোবাসা দিবসে মাগুরায় ফুলের দোকানে উপচে পড়া ভিড়

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)