শুক্রবার ● ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » ইতিহাস ও ঐতিহ্য » ভারতীয় রসায়ন শাস্ত্রের জনক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু
ভারতীয় রসায়ন শাস্ত্রের জনক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের কাজ শুরু
বাংলাদেশের খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত ভারতীয় রসায়ন শাস্ত্রের জনক আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জরাজীর্ণ জন্মভিটা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবহেলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িটির বসতভিটা ও ভবন মেরামতের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এই সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে জরাজীর্ণ বাড়িটি তার হারানো জৌলুস ফিরে পাচ্ছে।
খুলনার পাইকগাছায় বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের (পিসি রায়) পৈতৃক ভিটা সংস্কারের কাজ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে। দীর্ঘকাল অবহেলায় থাকা বাড়িটি সংরক্ষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানী পিসি রায়ের স্মৃতি এবং ইতিহাস রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এই সংস্কার কাজের তত্ত্বাবধান করছে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কারের মাধ্যমে বাড়িটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পৈত্রিক ভিটাকে সংরক্ষণ ও সংস্কারের আওতায় নিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতে স্যার পি সি রায়ের বসতবাড়ির পাঁচটি কক্ষ, দুইটি বারান্দা, বাইরের পলেস্তরা (প্লাস্টার) চারপাশের রং ও নান্দনিক নকশা নতুনভাবে নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে এই সংস্কার কাজ শেষ হবে বলে মনে করছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের পরিক্রমায় প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক বাড়িটি দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। দেয়ালে ফাঁটল, খসে পড়া পলেস্তরা ও কাঠামো প্রত্নশৈলীকে ঠেলে দেয় বিলুপ্তির মুখে। এ নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়। প্রতি বছর ২রা আগস্ট রাড়ুলীতে বিজ্ঞানীর জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাড়িটি সংস্কার করার জোরালো দাবি ওঠে। লেখালেখিও হয় বিভিন্ন মিডিয়ায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সংস্কারকাজের শুরুতেই বাড়িটি ফিরে পাচ্ছে তার হারানো জৌলুস।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট কপোতাক্ষ নদের তীরে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্ববরেণ্য এই রসায়নবিদ, শিক্ষাবিদ ও শিল্পোন্নয়নের পথিকৃত আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, বিজ্ঞান ও শিল্পায়নের বিশ্ব ইতিহাসে তিনি অমর। তার পিতার নাম হরিশ্চন্দ্র রায় ও ভূবন মোহিনী দেবী। তার পিতাও ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসচেতন মানুষ। রাড়ুলীর হরিশ্চন্দ্র রায়ের এই পৈত্রিক বাড়িতেই কেটেছে বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়।
যিনি ভারতের রসায়নের জনক হিসেবে পরিচিত। তিনি ভারতের প্রথম শিল্প প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মার্কারি(I) নাইট্রেট বা মারকিউরাস নাইট্রেটের আবিষ্কারক। তিনি ছিলেন শিল্পায়নের প্রথম যুগের অন্যতম স্থপতি। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে তার অবদান ইতিহাসে অনন্য। বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক ও মানবিক মূল্যবোধে অনন্য এই মানুষটির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি আজ শুধু অবহেলার সাক্ষী।
খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও বেঙ্গল কেমিক্যালসের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের প্রায় ২০০ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ পৈতৃক ভিটা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত রাড়ুলি গ্রামের এই বাড়িটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কাজ চলছে, যা শেষ হলে এটি একটি অন্যতম ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যা দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।
বাংলার এই গর্বিত সন্তানের স্মৃতি ও অবদান ধরে রাখতে তার পৈতৃক ভিটা সংরক্ষণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী, প্রশংসনীয় ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ। যা অতীতকে বাঁচিয়ে রেখে ভবিষ্যতের পথে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।






বীরাঙ্গনা গুরুদাসী মাসী
আগাছা ও জঙ্গলে পরিপূর্ণ ‘শিল্পী এস এম সুলতান ঘাট’
মাগুরার বিনোদপুরে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রাম বাবুর বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে
কেশবপুর ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থাপনায় সমৃদ্ধ পর্যটনের লীলাভুমি
স্মৃতিচিহ্ন মুছে যাচ্ছে বাজারখোলা দোল মন্দিরের
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইকগাছা ক্যাম্পাস বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে নামকরণের দাবি
অযত্ন- অবহেলায় মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মামার বাড়ি
মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামের ধনপোতা ঢিবিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু
মাগুরায় হারিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি 