শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ১৯ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পথশিশুদের ঈদ রঙ্গিন ও আনন্দময় হোক
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পথশিশুদের ঈদ রঙ্গিন ও আনন্দময় হোক
৩১ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১৯ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পথশিশুদের ঈদ রঙ্গিন ও আনন্দময় হোক

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান

ঈদের আনন্দ সবার জন্য হলেও পথশিশুদের জন্য এই উৎসবের চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। যেখানে অধিকাংশ শিশু নতুন পোশাক আর ভালো খাবারের অপেক্ষায় থাকে। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের ঈদের দিনটি অনেক সময় সাধারণ দিনের মতোই কাটে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও রঙিন হয়ে উঠছে।

ঈদে পথশিশুদের নতুন জামা, সালামি এবং ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা। উপহারের পাশাপাশি তাদের সাথে সময় কাটানো, গল্প করা ও ভালোবাসা বিনিময় করা। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে এসে এই অবহেলিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য চেষ্টা করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীরা। পথশিশুদের ঈদের আনন্দ সার্থক করতে বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে বেশ কিছু প্রশংসনীয় কাজ হচ্ছে। এভাবে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে এই শিশুদের ঈদও আনন্দময় হতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সংজ্ঞা অনুযায়ী; সহজ ভাষায়, পথশিশু বলতে সেই সব শিশুদের বোঝায় যাদের কাছে রাস্তাই হলো তাদের থাকার জায়গা বা বেঁচে থাকার প্রধান উৎস। দারিদ্র্য, গৃহহীনতা বা পারিবারিক বিচ্ছিন্নের কারণে তারা শহর বা গ্রামের রাস্তায় দিনাতিপাত করতে বাধ্য হয়। তাদের কোনো স্থায়ী ঘর নেই; রাস্তা, পার্ক, রেলস্টেশন বা ফুটপাতই তাদের রাত কাটানোর জায়গা।

তারা বেঁচে থাকার জন্য রাস্তায় ছোটখাটো কাজ ফুল বিক্রি, কাগজ কুড়ানো বা কুলি গিরি করে অথবা মানুষের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা কোনো দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক বা অভিভাবকের সুরক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনা পায় না। এরা সাধারণত শিক্ষা, পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে।

বাংলাদেশে পথশিশুদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকারি সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা কয়েক লাখ থেকে ২৫ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। ভাগ্যবিড়ম্বনা, নির্যাতন বা অভাবের কারণে তারা বই ছেড়ে কর্মসংস্থানের খোঁজে পথে নামতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশে পথশিশুর সঠিক সংখ্যা নিয়ে সরকারি কোনো একক পরিসংখ্যান নেই, তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংখ্যা কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হয়। ইউনসেফ  ২০২৪-এর প্রতিবেদন: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ লাখের বেশি শিশু পথশিশু হিসেবে বসবাস করছে, যাদের কোনো অভিভাবক বা পরিবারের সঠিক যত্ন নেই। পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০২২ জরিপ: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর একটি জরিপে মূলত ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ওপর নজর দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সুনির্দিষ্ট মোট সংখ্যা না থাকলেও দেখা গেছে যে, পথশিশুদের প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ ঢাকা বিভাগে বাস করে। তবে বিভিন্ন সূত্র মতে এই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি বলে আশঙ্কা করা হয়।

অভিভাবকশূন্য এই পৃথিবীতে ঈদের আনন্দ কী হয়তো তারা অনুভবই করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রের উচিত সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের ঈদের আনন্দকে জাগ্রত করার পদক্ষেপ নেওয়া। রাষ্ট্রের সব পর্যায়ের নাগরিকের উচিত যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া যায়। সচেতন নাগরিকের ভাবনা ও প্রার্থনা আরও অনেককে পথশিশুদের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে। সবার একটু সহমর্মিতা আর অংশগ্রহণই পারে এসব শিশুদের ঈদকে আরও উৎসবমুখর ও বর্ণিল করে তুলতে।

ঈদে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পথশিশুদের হাতে মেহেদির রঙিন নকশা এঁকে দিচ্ছে। পাশাপাশি তাদের মাঝে চুড়ি, টিপ, আতর ও চুলের ক্লিপ বিতরণ করা হচ্ছে। পথশিশুদের জন্য সেমাই, মিষ্টি এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে যাতে তারা ঈদের দিনটি অন্য সবার মতোই পেট ভরে আনন্দ করতে পারে। এই উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে ওঠে।

সমাজের বিত্তবান ও রাজনৈতিক দলগুলোকেও পথশিশুদের এই আনন্দের অংশীদার করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে ঈদের খুশি শুধু সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। পথশিশুদের ঈদের আনন্দ সার্থক করতে নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার এবং উপহার নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ আনন্দময় করে তোলা সম্ভব।

পথশিশুদের জন্য আন্তরিক ভালোবাসা এবং সামান্য সহযোগিতাই পারে তাদের ঈদকে সত্যিকার অর্থে রঙিন করে তুলতে।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ