শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

SW News24
মঙ্গলবার ● ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বিল ডাকাতিয়ার স্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃষকের কান্না
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বিল ডাকাতিয়ার স্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃষকের কান্না
৪ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৫ আগস্ট ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিল ডাকাতিয়ার স্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃষকের কান্না

খুলনা ও যশোর অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল ডাকাতিয়ার স্থায়ী জলাবদ্ধতা আজ হাজারো কৃষকের জীবন ও জীবিকা ধ্বংস করে একটি বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিলের হাজার হাজার বিঘা জমির ধান ও সবজি খেত বছরের দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকছে। পাকা ধান কাটতে না পেরে অনেক কৃষক মাঠেই ফসল হারাচ্ছেন।

ফসল এবং মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় এলাকার শত শত পরিবারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও কৃষকের দুর্ভোগ, পেশা বদল হচ্ছে ও বাড়ছে বেকারত্ব। এক সময়ের সচ্ছল কৃষকরা আজ কর্মহীন। জমি থাকা সত্ত্বেও কোনো ফসল ফলাতে না পেরে অনেকে বাধ্য হয়ে কৃষি কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন। অনেক কৃষক এখন জীবন বাঁচাতে ডোঙা (ছোট নৌকা) বা জাল নিয়ে মাছ ধরার কাজ করছেন। জীবিকার টানে অনেকে বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে মাছ শিকার বা অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।

বিলের পানি বের হওয়ার প্রধান পথ শোলমারী নদী, হামকুড়া নদী এবং বিভিন্ন সংযোগ খাল পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে।  শোলমারী ১০ ভেন্ট স্লুইসগেটের সামনে পলি জমে পানি নিষ্কাশনের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিলের ভেতরের ছোট ছোট খালগুলো প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। যত্রতত্র মাছের ঘের তৈরি করায় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বছরের পর বছর ধরে বিলের হাজার হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। গভীর পানি থেকে শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা সম্ভব হয় না। ফলে কৃষকের কষ্টার্জিত সোনালী ধান মাঠেই পচে নষ্ট হয়ে যায়। আগে ঘেরের আইলে বা জমিতে প্রচুর পরিমাণে সবজি চাষ হতো। এখন জলমগ্নতার কারণে সবজির মাচাও তৈরি করা যাচ্ছে না।

বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি ওঠায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পানিবন্দী মানুষগুলোর চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন ছোট নৌকা বা ডোঙা। জলাবদ্ধতার কারণনদী ভরাট হয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া।অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের অভাব।

বিল ডাকাতিয়ার স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং ফসল তলিয়ে যাওয়ার কারণে হাজার হাজার কৃষকের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা ও বুকফাটা কান্না। খুলনা ও যশোর জেলার কয়েকটি উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিলটি একসময় ছিল ফসলের আশীর্বাদ, কিন্তু এখন তা স্থানীয় মানুষের জন্য এক অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিলে নতুন করে খাল খনন এবং স্লুইসগেট খোলার কাজ শুরু হয়েছে যাতে দ্রুত বিলের জমা পানি নদীতে নিষ্কাশন করা যায়। তবে কৃষকদের দাবি, পলি অপসারণের পাশাপাশি নদীগুলো ড্রেজিং করে স্থায়ী পরিকল্পনা না নিলে এই বুকফাটা কান্না কোনোদিনই থামবে না।





আর্কাইভ