শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

SW News24
রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » অপরাধ » মাগুরার মহম্মদপুরে রাতের আঁধারে এক হাজার কলাগাছ কর্তন; নিঃস্ব কৃষক
প্রথম পাতা » অপরাধ » মাগুরার মহম্মদপুরে রাতের আঁধারে এক হাজার কলাগাছ কর্তন; নিঃস্ব কৃষক
৩ বার পঠিত
রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

মাগুরার মহম্মদপুরে রাতের আঁধারে এক হাজার কলাগাছ কর্তন; নিঃস্ব কৃষক

---মাগুরা প্রতিনিধি :এক রাতেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল এক কৃষকের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন! গাছে গাছে ঝুলছিল ফলন্ত কলার ছড়া, ঠিক সেই মুহূর্তেই রাতের আঁধারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে সাবাড় করা হলো প্রায় এক হাজার কলাগাছ। অমানবিক ও নৃশংস এই তান্ডবে সর্বস্বান্ত হয়ে পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে কৃষক জয়দার মিয়ার।
ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার ৩ নম্বর দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক জয়দার মিয়া নিজ বাড়ির পূর্ব পাশে গোরস্থান সংলগ্ন ১০০ শতক জমি লিজ ও বর্গা নিয়ে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে এই কলাবাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। বাগানটি তৈরিতে এনজিও এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তিনি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ বা লোন গ্রহণ করেন। কলাগাছগুলোতে ইতিমধ্যেই কলার কান ও ছড়া আসা শুরু হয়েছিল। হঠাৎ রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাটি ও গাছে কোপ দিয়ে পুরো বাগানটি ধ্বংস করে দেয়, এতে তাঁর আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়দার শেখ বলেন, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে এই বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। আর কিছুদিন গেলেই কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে আমার সব শেষ করে দিল। আমি এখন কী দিয়ে এনজিওর কিস্তি দেব আর পরিবার নিয়ে কী খাব, বুঝতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে এই বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।
স্থানীয় ৩ নম্বর দীঘা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি মেম্বার) আলম নবী জানান, জয়দার আমার ভাই সমতুল্য একজন পরিশ্রমী কৃষক। জমি লিজ ও বর্গা নিয়ে লোন-ঋণ করে সে এই বাগানটা করেছিল। শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে ফলন্ত কলাগাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা একটি জঘন্য অপরাধ। এতে তার প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি এবং পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করার অনুরোধ করেছি।
ঘটনাস্থলের পাশের প্রতিবেশী আকিদুল ইসলাম বলেন, সকালে উঠে বাগানের এই অবস্থা দেখে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেছি। একজন কৃষকের সাথে এমন শত্রুতা কোনো মানুষ করতে পারে না। যে বা যারা এই কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো কৃষকের পেটে লাথি মারার সাহস না পায়।
বিষয়টি নিয়ে মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান শিলু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। খবর পাওয়ার পর আমাদের মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ফলন্ত গাছগুলো কেটে ফেলায় কৃষক ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি এবং সরকারি কোনো প্রণোদনা বা পুনর্বাসন সহায়তা এলে ক্ষতিগ্রস্ত এই কৃষককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম শামীম আহমেদ বলেন, কলাগাছ কাটার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
রাতের আঁধারে এই তাণ্ডবের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)