শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ২ নভেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » কৃষি » হলুদ-সবুজ তরমুজ চাষে সাড়া ফেলেছেন হাসানুর
প্রথম পাতা » কৃষি » হলুদ-সবুজ তরমুজ চাষে সাড়া ফেলেছেন হাসানুর
২ বার পঠিত
সোমবার ● ২ নভেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

হলুদ-সবুজ তরমুজ চাষে সাড়া ফেলেছেন হাসানুর

---মাগুরা প্রতিনিধি : মাচাজুড়ে ঝুলছে হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যতিক্রমী এ দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচারীরা। কেউ কৌতূহল নিয়ে ক্ষেত দেখছেন, কেউ আবার মুঠোফোনে ছবি তুলছেন। অসময়ে তরমুজ চাষ করে এমনই সাড়া ফেলেছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. হাসানুর রহমান।
মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিতে ‘ব্লাক বেরি’ ও ‘ইয়োলো মেলন’ নামে দুই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এর মধ্যে হলুদ রঙের ইয়োলো মেলন মানুষের নজর কেড়েছে বেশি। প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে তার এমন উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হাসানুর রহমান মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ভাবনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। শখের বশে শুরু করা তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, তরমুজ চাষের জন্য মাগুরা জেলা শহর থেকে ২০ গ্রাম বীজ কিনতে তার খরচ হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টাকা। পরে সেই বীজ থেকে নিজেই চারা উৎপাদন করেন তিনি। গত আগস্টে জমিতে চারা রোপণ করেন। প্রায় দেড় মাস পরিচর্যার পর গাছে ফল আসতে শুরু করে।
তরমুজ চাষে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে মাচাপদ্ধতি বেছে নিয়েছেন হাসানুর। বাঁশের খুঁটি ও নাইলনের নেট দিয়ে তৈরি করেছেন মাচা। সেই মাচা বেয়ে ছড়িয়ে পড়েছে তরমুজগাছের লতা। লতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ। সবুজ পাতার মধ্যে হলুদ ফলগুলো তৈরি করেছে আলাদা সৌন্দর্য। বিশেষ করে হলুদ রঙের তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই তার জমিতে আসছেন কৌতূহলী মানুষ। অনেকে ফলগুলোর ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ এ ধরনের তরমুজ চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইছেন।
বাবলু নামে স্থানীয় এক কৃষক বলেন, আমাদের এলাকায় সাধারণত এভাবে তরমুজ চাষ করতে দেখা যায় না। হাসানুর রহমান অল্প জমিতে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে আমাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছেন। তার ক্ষেতের হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ দেখতে খুবই সুন্দর। তার এই উদ্যোগ দেখে আমরাও নতুন কিছু চাষ করার বিষয়ে ভাবছি। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আমরাও এ ধরনের ফসল চাষে আগ্রহী হব।
জমির নামে আরেক কৃষক বলেন, হাসানুরের তরমুজ চাষ আমাদের এলাকার জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। অল্প জমিতে এভাবে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করা যায়, তা তার ক্ষেত না দেখলে বুঝতে পারতাম না। তার উদ্যোগ থেকে আমরা নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। চাষে ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে এলাকার আরও কৃষক এ ধরনের চাষে আগ্রহী হবেন বলে মনে করি।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে হাসানুর রহমান বলেন, নিতান্তই শখের বশে তরমুজ চাষ করেছি। মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ দেখতে খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে হলুদ রঙের তরমুজ সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।
অল্প জমিতে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে হাসানুর রহমান যে আগ্রহ তৈরি করেছেন, তা স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে এলাকার অন্য কৃষকরাও প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ফসল চাষে উৎসাহিত হতে পারেন।
কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন জাতের ফল ও সবজি চাষের উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে পারে। স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনা করে এসব ফসলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ, ফলন ও বাজার চাহিদার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাত জাহান শিলু বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত তরমুজ চাষ করেন না। তবে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হাসানুর রহমানের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছি। তার সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে এলাকার অন্য কৃষকরাও তরমুজ চাষে আগ্রহী হতে পারেন। কৃষি বিভাগ  থেকে আমরা তার উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করছি। তাকে জেলার অন্যান্য কৃষকরা এ চাষে আগ্রহী হবে বলে মনে করছি।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)