শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » আঞ্চলিক » পাইকগাছায় সড়কের গা ঘেঁষে বৃক্ষরোপণ; ঠিকাদারের দাবি,কর্তৃপক্ষের নকশা অনুযায়ী কাজ
প্রথম পাতা » আঞ্চলিক » পাইকগাছায় সড়কের গা ঘেঁষে বৃক্ষরোপণ; ঠিকাদারের দাবি,কর্তৃপক্ষের নকশা অনুযায়ী কাজ
২ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছায় সড়কের গা ঘেঁষে বৃক্ষরোপণ; ঠিকাদারের দাবি,কর্তৃপক্ষের নকশা অনুযায়ী কাজ

---পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ; পরিবেশ রক্ষায় সড়কের দুই পাশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে সড়কের নিরাপত্তা, পথচারীদের চলাচল ও অবকাঠামোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কয়েকটি সড়কের পাশে এমনভাবে চারা রোপণ করা হয়েছে, যেখানে সড়কের প্রান্ত থেকে কোনোটি মাত্র এক ফুট, কোনোটি দেড় ফুট, আবার কোনোটি দুই ফুট দূরে। প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণকাজের সঙ্গে বৃক্ষরোপণও করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, কর্তৃপক্ষের দেওয়া নকশা অনুযায়ীই তারা কাজ করেছে।

সড়কের গা ঘেঁষে গাছ, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগঃ পৌরসভার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন পিচঢালাই সড়কের দুই পাশে কাছাকাছি দূরত্বে চারা রোপণ করা হয়েছে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁকড়া সমিতির অফিস থেকে পুরাতন খাদ্যগুদাম পর্যন্ত এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শিববাটি থেকে লোনাপানি কেন্দ্রের বাউন্ডারির স্লুইসগেট পর্যন্ত বিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় ২ নম্বর ওয়ার্ডে খালেক কাসারির বাড়ি থেকে লোনাপানি কেন্দ্রের গেট পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়। এসব সড়কের দুই পাশেই বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
গাছ বড় হলে শাখা-প্রশাখা সড়কের দিকে বিস্তৃত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কোনো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বাইরে চলে গেলেও কাছাকাছি থাকা গাছের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে। গাছের শিকড়ের বিস্তারে পিচঢালাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট সড়ক নির্মাণকাজের ব্যয় প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কাজটি পেয়েছিল বসু এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিনিধি জানান, সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের কাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কর্তৃপক্ষের দেওয়া নকশা অনুযায়ী তাঁরা কাজ করেছেন।
ঠিকাদারের এ বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, নকশায় সড়কের প্রান্ত থেকে গাছের দূরত্ব কত নির্ধারণ করা হয়েছিল, গাছের প্রজাতি, শিকড়ের বিস্তার ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলো সেখানে কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও বৃক্ষরোপণের কারিগরি পরিকল্পনা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে নকশা কোন দপ্তরে সংরক্ষিত, গাছের অবস্থান কে নির্ধারণ করেছেন এবং
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জ্যামিতিক নকশা নির্দেশিকায় সড়কের পাশে স্থায়ী প্রতিবন্ধকের ক্ষেত্রে নিরাপদ পার্শ্বীয় দূরত্ব ও চালকের দৃষ্টিসীমা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পৌরসড়কে কোন মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

পাইকগাছা পৌরসভার পৌর প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্বে মোহাম্মদ নুর আহমদ জানান, নিয়ম অনুযায়ীই গাছগুলো লাগানো হয়েছে। তবে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখবেন।
অন্যদিকে, পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে খুদে বার্তায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

সংশ্লিষ্ট সড়কগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে গাছের অবস্থান, প্রজাতি ও ভবিষ্যৎ বিস্তার বিবেচনায় প্রকৌশলগত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ চারা শনাক্ত হলে সেগুলো উপযুক্ত দূরত্বে পুনরায় রোপণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা, বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা ও তদারকির বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি।
পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে ঠিকাদার যদি কর্তৃপক্ষের নকশা অনুযায়ী কাজ করে থাকেন, তাহলে সেই নকশার ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্পে শুধু নির্মাণকাজ শেষ করাই নয়, জননিরাপত্তা ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও জরুরি।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)