শনিবার ● ৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » আনন্দ, আলো ও উৎসবের এক মহামিলন দীপাবলি
আনন্দ, আলো ও উৎসবের এক মহামিলন দীপাবলি
দীপাবলি বা দেওয়ালি হলো আনন্দ, আলো ও উৎসবের এক মহামিলন। দীপাবলি বা দেওয়ালি হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। সংস্কৃত দীপ (আলো) এবং আবলি (সারি) শব্দ দুটি মিলে দীপাবলি শব্দের উৎপত্তি। যার শাব্দিক অর্থ হলো প্রদীপের সারি। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। এই উৎসবটি মূলত আধ্যাত্মিক অন্ধকার দূর করে আলোর প্রতিষ্ঠা, মন্দের ওপর ভালোর জয় এবং অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানের বিজয়ের প্রতীক।
দীপাবলি উৎসবের পেছনে একাধিক ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে: উত্তর ভারতীয় হিন্দুদের বিশ্বাস মতে, রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করে চৌদ্দ বছরের বনবাস শেষে এই দিনেই শ্রীরামচন্দ্র, সীতা ও লক্ষ্মণসহ অযোধ্যায় ফিরে এসেছিলেন। তাঁদের স্বাগত জানাতে অযোধ্যাবাসী সমগ্র নগরী ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোয় আলোকময় করে তুলেছিলেন।
দক্ষিণ ভারতে বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অত্যাচারী অসুর নরকাসুরকে বধ করে মর্তবাসীকে স্বস্তি দিয়েছিলেন। শুধু হিন্দু ধর্মেই নয়, জৈন মতে ৫২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই দিনে মহাবীর মোক্ষ বা নির্বাণ লাভ করেন। আবার শিখদের ষষ্ঠ গুরু হরগোবিন্দ ৫২ জন রাজপুত্রসহ এই দিনে কারামুক্ত হয়েছিলেন বলে শিখ সম্প্রদায় একে ‘বন্দী ছোড় দিবস’ হিসেবে উদযাপন করে।
দীপাবলি সাধারণত পাঁচ দিনব্যাপী একটি উৎসব, যার প্রতিটি দিনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। উৎসবের মূল দিনটিতে ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মাটির তৈরি প্রদীপ, মোমবাতি এবং আধুনিক রকমারি আলোকসজ্জায় পুরো বাড়িকে সাজানো হয়। দরজার সামনে রঙিন গুঁড়ো বা আবির দিয়ে তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন আলপনা বা রঙ্গোলি। বাঙালি সমাজে দীপাবলির আগের দিন ভূত চতুর্দশী উপলক্ষে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর এবং ১৪ শাক খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। দীপাবলির রাতে পশ্চিমবঙ্গে অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে শ্রীশ্রী কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে দেবী লক্ষ্মী ও গণেশের পূজা করা হয়। আনন্দ ভাগ করে নিতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মাঝে মিষ্টি ও উপহার বিতরণ করা হয়।
দীপাবলি জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে একত্রিত করে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বহু দেশে এই উৎসবের সার্বজনীন রূপ দেখা যায় এবং অনেক দেশে এই দিনে সরকারি ছুটি থাকে। এটি কেবল বাহ্যিক আলোর প্রদর্শনী নয়, মানুষের অন্তরের কুসংস্কার, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আলো জ্বালানোর এক মহান বার্তা বহন করে।
উপনিষদের সেই অমর বাণী, “তমসো মা জ্যোতির্গময়” অর্থাৎ “অন্ধকার হতে আমাদের আলোতে নিয়ে যাও”। দীপাবলির মূল চেতনাকে ধারণ করে। বর্তমানের আধুনিক আলোকসজ্জা বা আতশবাজির চেয়েও দীপাবলির প্রকৃত সার্থকতা লুকিয়ে আছে মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে সমাজে শান্তি, ভালোবাসা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মাঝে।






ভ্রাতৃদ্বিতীয়া ভাই ও বোনের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক
জাতীয় উপকূল দিবস পালনে আর কত দেরি করতে হবে
সুন্দরবনকে ভালো রাখতে হলে মানুষের লোভ কমাতে হবে
কাজী ইমদাদুল হকের জীবন দর্শন
গতি ও পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার এক জীবন্ত প্রতীক শহর
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন
সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র মেনে তৈরি দুর্গা প্রতিমা পবিত্র শিল্পকর্ম
দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস 