শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
SW News24
মঙ্গলবার ● ১০ মে ২০২২
প্রথম পাতা » উপকূল » দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
প্রথম পাতা » উপকূল » দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
৩১ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১০ মে ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পরিতোষ কুমার বৈদ্য=

 ---১০ মে মঙ্গলবার সকাল ১১:টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউমিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’লিডার্স‘ এবং নাগরিক সংগঠন ’সুন্দরবন  উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন।

 

সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দূর্যোগ কবলিত দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলকে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে ওই ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি  নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। তারা উপকূলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ  সুপেয় পানি সরবরাহে সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন  প্রয়োজনীয় নতুন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল। সুন্দরবন  উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন এডাব পরিচালক জসীম উদ্দীনউন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুলডিআরইউ সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদনৌ সড়ক  রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দেবিএমএ দপ্তর সম্পাদক ডামোশহীদুল্লাহস্ক্যান সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুলসমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা (স্কাসচেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমাফেইথ ইন একশন কর্মসূচী সমন্বয়কারী তীমন বাড়ইসচেতন সংস্থার সাকিলা পারভীনমৃত্তিকা সমাজ উন্নয়ন সংগঠনের খাদিজা খাতুনঢাকাস্থ পাইকগাছা সমিতির জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সুপারিশে বলা হয়জলবায়ু পরিবর্তন  দুর্যোগকে মাথায় রেখে সাতক্ষীরাখুলনা  বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ী  টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উপকূলবাসীর সুপেয় পানির টেকসই  স্থায়ী সমাধান করতে হবে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আদলে উপকুলীয় এলাকায় একটি বাড়ি একটি সেল্টার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নদীভাঙ্গন  ভূমিক্ষয় ঠেকাতে উপকূলে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ  সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। উপকুলের রক্ষাকবচ সুন্দরবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়ভৌগলিক অবস্থানঘন ঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগভঙ্গুর অবকাঠামোদারিদ্রতাদীর্ঘমেয়াদী লবণাক্ততাসংকটাপন্ন কৃষিপ্রভৃতির কারণে উপকূলীয় এলাকার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাতক্ষীরাখুলনা  বাগেরহাট জেলা। তাই ওই এলাকাকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা নেওয়া দরকার। কারণ করোনা পরিস্থিতি এবং সুপার সাইক্লোন আম্ফান  ইয়াসের পর এখনো জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। বরং স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতেই উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তাই নতুন করে ঘূর্ণিঝড় ’অশনি খবরে ওই অঞ্চলের মানুষ চরম আতংকিত হয়ে পড়েছে।

 

লিডার্সের গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়২০০৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাতক্ষীরা  খুলনার উপকুলীয় এলাকায় প্রতিবছর পরিবার প্রতি গড়ে এক লক্ষ দুই হাজার ৪৮৯ টাকার ক্ষতি হয়। এরমধ্যে একটি পরিবারে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪৫ হাজার ২০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরো বলা হয়জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯৭টি বড় প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। যা এদেশের মানুষের জীবন-জীবিকাসম্পদখাদ্যপানিবাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট সৃষ্টি করেছে।  সংকট দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে সব থেকে বেশি। এই সংকট থেকে উত্তোরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অদূর ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল জনশূণ্য হয়ে পড়বে।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)