শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

SW News24
শুক্রবার ● ১৩ অক্টোবর ২০২৩
প্রথম পাতা » মুক্তমত » হাত ধোয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি প্র্রয়োজন
প্রথম পাতা » মুক্তমত » হাত ধোয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি প্র্রয়োজন
১৩৮ বার পঠিত
শুক্রবার ● ১৩ অক্টোবর ২০২৩
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

হাত ধোয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি প্র্রয়োজন

---

প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া  দিবস পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের মূল লক্ষ্য হলো- সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার একটি সাধারণ সংস্কৃতির সমর্থন ও প্রচলন করা। এ ছাড়া সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিশ্ব পানি সপ্তাহে সুইডেনের স্টোকহোমে ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া অংশীদার (জিএইচপি) বিশ্বব্যাপী আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম এ দিবসটি উদযাপন করে। পরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তারিখটি প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে এক ঘণ্টা পর পর হাত ধুয়ে নেয়া প্রয়োজন। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করলে  অনেক অসুখ-বিসুখ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারব আমরা। অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েও হাত পরিষ্কার করা যায়। তবে অনেক চিকিৎসকই মনে করেন যে স্যানিটাইজারের চেয়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অনেক বেশি কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে আমরা আমাদের হাত দিয়ে অসংখ্য কাজ করে থাকি। কাজ করতে গিয়ে আমাদের হাত অসংখ্য জীবাণুর সংস্পর্শে আসে, যার ফলে নানা রোগ হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মল হচ্ছে ডায়রিয়ার জীবাণুর প্রধান উৎস। এ দিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারে শিশুদের ডায়রিয়া প্রতিরোধ হয় শতকরা ৩২ ভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষায় ৩২ ভাগ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ২৫ ভাগ আর সঠিক নিয়মে হাত ধুলে ৪৪ ভাগ। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস একটি ভালো ভ্যাকসিনের চেয়েও বেশি কাজ করে। শুধু খাবার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস সহজেই এ সব রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া উভয় প্রবনতা কমাতে পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া একটি ব্যয়-স্বাশ্রয়ী উদ্যোগ। কিছু নির্দিষ্ট সময়, বিশেষ করে খাবার গ্রহণের পূর্বে বা খাবার প্রস্তুতের পূর্বে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে দুই হাত ধোয়ার মাধ্যমে ডায়রিয়ার হার প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ প্রায় ২৩ শতাংশ কমানো সম্ভব।

নিজ পরিবারকে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতিগুলোর অন্যতম হলো হাত ধোওয়া। সুস্থ থাকার জন্য নিজের হাত ধোওয়া উচিত। হাত ধোওয়া আপনাকে সুস্থ রাখতে পারে এবং একজন ব্যক্তির থেকে নিকটতম ব্যক্তির শ্বাসযন্ত্রের ও ডায়ারিয়া সংক্রমণ ছড়িয়া পড়া প্রতিরোধ করতে পারে। অন্য ব্যক্তি  থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। অধৌত হাত দিয়ে  চোখ, নাক, ও মুখ স্পর্শ করেলে, অধৌত হাত দিয়ে খাবার ও পানীয় তৈরি করেলে বা  পান করেলে, একটি দূষিত জিনিস স্পর্শ করেলে,আপনার নাক ঝাড়েন, হাচি-কাশি এবং তারপর অন্য ব্যক্তির হাত বা সাধারণ জিনিসপত্র স্পর্শ করেলে অসংখ্য জীবাণুর সংস্পর্শে  এসে নানা রোগ ছড়ায।  বিশেষ করে  নিজের হাত থেকে  জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার ও ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে,  খাবার তৈরির আগে এবং পরে,খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে, বমি বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এমন কাউকে  সেবা করার আগে ও পরে,একটি কাটা বা ক্ষত চিকি সার আগে ও পরে,টয়লেট ব্যবহারের পরে, টয়লেট ব্যবহারকারী শিশুর ডায়পার পরিবর্তন বা পরিষ্কার করে দেওয়ার পরে, নাক ঝাড়া, কাশা বা হাঁচার পরে, প্রাণীর খাবার, বা প্রাণীজ বর্জ্য স্পর্শ করার পরে, পোষা প্রাণীর খাবার নাড়াচাড়ার পরে, আবর্জনা স্পর্শ করার পরে রোগ জীবাণু ছড়ানো সম্ভাবনা বেশী থাকে।

নিজ হাতে জীবাণু ছড়ানো ও আক্রান্ত না হওয়ায় সচেতন হতে হবে। অধিকাংশ পরিস্থিতিতে জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোওয়া। যদি সাবান ও জল সচরাচর পাওয়া না যায় তাহলে আপনি একটি অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন যাতে কমপক্ষে ৬০ ভাগ অ্যালকোহল থাকে।  অনেক পরিস্থিতিতে স্যানিটাইজার হাত থেকে দ্রুত জীবাণু দূর করতে পারে। তবে,স্যানিটাইজার সব ধরনের জীবাণু থেকে মুক্ত করে না।হাতে দৃশ্যমান ময়লা বা তেল বা চর্বি থাকলে তখন হ্যান্ড স্যানিটাইজার তেমন কার্যকর নাও হতে পারে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাত থেকে কীটনাশক ও ভারী ধাতুর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক দূর করতে পারে না।

হাত পরিষ্কার রাখলে মুক্তি মিলবে ডায়রিয়া, আমাশয়, কৃমি এবং ভাইরাস বাহিত অন্যান্য রোগ থেকেও। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো সবার মাঝে অবহেলা রয়ে গেছে। হাত ধোয়া বিষয়ে সচেতনতার অভাবে সারাবিশ্বে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ রোগাক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া, ইউনিসেফ জানিয়েছে বিশ্বজুড়ে প্রতি দশজনের মধ্যে তিনজন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

সবার মাঝে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ও জীবাণুমুক্ত থাকার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস।

বিশ্বে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া। ইউনিসেফের তথ্যমতে, বছরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৮ লাখ ৮ হাজার ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মারা যাচ্ছে। শিশুদের হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ার মাধ্যমে ডায়রিয়া সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ এবং নিউমোনিয়া সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

সুস্বাস্থ্য ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসাধারনের মধ্যে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা ও প্রচারের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে একযোগে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়। ছোটবেলায় শিশুরা যা শেখে তার প্রভাব রয়ে যায় তাদের পরবর্তী জীবনে। শিশুদের মধ্যে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।হাত ধোওয়া সহজ এবং এটি রোগ জীবাণু ছড়ানো প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলো হলো।পরিষ্কার হাত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে এবং সমগ্র কমিউনিটিতে—আপনার বাসা ও কর্মস্থল থেকে শুরু করে শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা ও হাসপাতালে জীবাণু ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে পারে। তাই নিজে হাত ধুতে হবে অন্যকে হাত ধোয়ার জন্য জন্য উদ্ভোদ্ধ করে রোগ জীবাণু ছড়ানো প্রতিরোধে করতে হবে।

লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)