শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » অর্থনীতি » দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে কুচিয়া মাছ
প্রথম পাতা » অর্থনীতি » দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে কুচিয়া মাছ
৯ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে কুচিয়া মাছ

উপকূলীয় এলাকার মৎস্য ঘেরে কুচিয়া মাছ চাষ অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজার কুচিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিক চাষে ভালো মুনাফা অর্জিত হচ্ছে। এটি স্থানীয় বাজার এবং বিদেশে বেশ জনপ্রিয়, ফলে বাণিজ্যিক মাছ চাষিরা এখন কুচের প্রতি ঝুঁকছেন।

মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত উপকূলের পাইকগাছা উপজেলায় মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বাংলাদেশের উপকূলের নির্বাচিত এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে কুচিয়া মাছ। বর্তমানে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এই কুচিয়া মাছ। ফলে এ কুচিয়া আহরণকারীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলার মৎস্য ঘের, খাল বিল ডোবা ও জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কুচিয়া আহরণ করে এ এলাকার অনেক হতদরিদ্ররা বছরের সিংহভাগ সময় জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে এসব কুচিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে তা খামারে এসে পরিচর্যা করেন। ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কুচিয়া সংগ্রহ করে দুই থেকে আড়াই মাস পরিচর্যা করার পর একেকটি কুচিয়ার ওজন হয় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রতিকেজি কুচিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।

পাইকগাছ বাজারে কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ী বকুল মণ্ডল বলেন, গড়ে কুচিয়া এক শত থেকে দেড় শত টাকা দরে ক্রয় করা হয়। তবে বড় কুচিয়ার দাম বেশী। প্রতিদিন বাজরে প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কেজি কুচিয়া ক্রয় বিক্রিয় হয়। এ কুচিয়া তারা সাতক্ষীরায় পাঠায়। সাতক্ষীরা থেকে পরিক্রিয়াজাত করে কুচিয়া রফতানি করা হয়।
কুচিয়া দেখতে সাপের মত। কুচিয়া সাধারণত কাদা মাটিতে থাকে। কাদা খুঁড়ে খুঁড়ে এগুলো সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পাইকগাছায় উপজেলায় পাকা ড্রামে পদ্ধতিতে কুচিয়া প্রজনন ও চাষ শুরু হয়েছে। এ মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত। পাইকগাছা কয়রার কুচিয়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে চীন, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

বিশেষ করে কুচিয়া মাছ মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও খেয়ে থাকেন। এটি শারীরিক দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, বাতজ্বর, পাইলসসহ অনেক রোগ সারাতে মহৌষধের মতো কাজ করে। বাংলাদেশে তেমন খাওয়া না হলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় এটি মাছ হিসাবে বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার।

আন্তর্জাতিক বাজারে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কুচিয়া রপ্তানিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখে মুক্ত জলাশয়ে আহরণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।





আর্কাইভ