শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » অর্থনীতি » দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে কুচিয়া মাছ
প্রথম পাতা » অর্থনীতি » দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে কুচিয়া মাছ
৭২ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে কুচিয়া মাছ

প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা ঃ উপকূলীয় এলাকার মৎস্য ঘের থেকে কুচিয়া মাছ আহরণ করা অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজার কুচিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভালো মুনাফা অর্জিত হচ্ছে। এটি স্থানীয় বাজার এবং বিদেশে বেশ জনপ্রিয়, ফলে বাণিজ্যিক মাছ চাষিরা এখন কুচের প্রতি ঝুঁকছেন।

মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত উপকূলের পাইকগাছা উপজেলার মৎস্য ঘের, খাল, বিল, ডোবা ও জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কুচিয়া আহরণ করে এ এলাকার অনেক হতদরিদ্ররা বছরের সিংহভাগ সময় জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বর্তমানে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এই কুচিয়া মাছ। ফলে এ কুচিয়া আহরণকারীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে এসব কুচিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে চাষিরা তা পরিচর্যা করেন। ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কুচিয়া সংগ্রহ করে দুই থেকে আড়াই মাস পরিচর্যা করার পর একেকটি কুচিয়ার ওজন হয় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রতিকেজি কুচিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।

পাইকগাছ বাজারে কুচিয়া মাছ ব্যবসায়ী বকুল মণ্ডল বলেন, গড়ে কুচিয়া এক শত থেকে দেড় শত টাকা দরে ক্রয় করা হয়। তবে বড় কুচিয়ার দাম বেশী। প্রতিদিন বাজরে প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কেজি কুচিয়া ক্রয় বিক্রিয় হয়। এ কুচিয়া মাছ সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়। সাতক্ষীরা থেকে পরিক্রিয়াজাত করে কুচিয়া বিদেশে রফতানি করা হয়।

কুচিয়া দেখতে সাপের মত। কুচিয়া সাধারণত কাদা মাটিতে থাকে। কাদা খুঁড়ে খুঁড়ে এগুলো সংগ্রহ করতে হয়। এ মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু মাছ হিসেবে পরিচিত। পাইকগাছা কয়রার কুচিয়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে চীন, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক বলেন, পাইকগাছায় মৎস্য ঘের, খাল, বিল, ও জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কুচিয়া আহরণ করা হয়। বাণিজ্যিক কোন কুচিয়ার খামার নেই। কুচিয়া লবন ও মিস্টি উভয় পানিতে বেড়ে ওঠে। মৎস্য ঘেরগুলিতে প্রচুর পরিমানে কুচিয়া পাওয়া যায়।

বিশেষ করে কুচিয়া মাছ মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও খেয়ে থাকেন। এটি শারীরিক দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, বাতজ্বর, পাইলসসহ অনেক রোগ সারাতে মহৌষধের মতো কাজ করে। বাংলাদেশে তেমন খাওয়া না হলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় এটি মাছ হিসাবে বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার।

আন্তর্জাতিক বাজারে কুচিয়া যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কুচিয়া রপ্তানিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখে মুক্ত জলাশয়ে আহরণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকগাছার কুচে আহরণকারি চাষিরা জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাকা ড্রামে পদ্ধতিতে কুচিয়া প্রজনন ও চাষ শুরু করলে পারলে তারা বেশী লাভবান হবে ।





আর্কাইভ