শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

SW News24
বুধবার ● ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » ব্যবসা-বাণিজ্য » বিদেশে কুচে মাছের চাহিদা বাড়ায় মাছ চাষিরা এখন কুচের প্রতি ঝুঁকছেন
প্রথম পাতা » ব্যবসা-বাণিজ্য » বিদেশে কুচে মাছের চাহিদা বাড়ায় মাছ চাষিরা এখন কুচের প্রতি ঝুঁকছেন
১০ বার পঠিত
বুধবার ● ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিদেশে কুচে মাছের চাহিদা বাড়ায় মাছ চাষিরা এখন কুচের প্রতি ঝুঁকছেন

উপকূলীয় এলাকার মৎস্য ঘেরে কুচিয়া মাছ চাষ অত্যন্ত লাভজনক। আন্তর্জাতিক বাজার কুচিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাণিজ্যিক চাষে ভালো মুনাফা অর্জিত হচ্ছে। এটি স্থানীয় বাজার এবং বিদেশে বেশ জনপ্রিয়, ফলে বাণিজ্যিক মাছ চাষিরা এখন কুচের প্রতি ঝুঁকছেন।

বাংলাদেশের মানুষ কুঁচিয়া চিনলেও মাছ হিসাবে খেতে বেশিরভাগই পছন্দ করেন না। কিন্তু বিদেশে এটি অনেক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের কোথাও কোথাও এর জনপ্রিয়তা আছে। সাপের মতো দেখতে এই মাছটি স্থানীয়ভাবে কুইচ্চা বা কুঁচে নামেও পরিচিত। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাছটি কুঁইচা, কুইচ্চা, কুঁচে, কুঁচো ইত্যাদি নামে পরিচিত। ঈল প্রজাতির, অনেকটা বাইন মাছের মত এই মাছটি সাধারণত পুকুর, হাওর, বাঁওড়, খাল বা ধানক্ষেতের তলদেশে বাস করে। অনেক সময় মাটিতে গর্ত করেও কুঁচিয়া বসবাস করে।

খুলনার পাইকগাছায় বিভিন্ন মৎস্য ও চিংড়ি ঘের সেচে মাছ ধরা হচ্ছে। সেই সাথে ঘের থেকে কুচিয়াও আহরণ করা হচ্ছে। ঘের থেকে প্রচুর পরিমাণ কুচে মাছ বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি কেজি কুচে প্রায় একশত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকগাছা বাজারে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কেজি কুচে মাছ সাতক্ষীরা ও ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল যেমন সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা এবং পটুয়াখালী কুচিয়া উৎপাদনের জন্য পরিচিত। কুচিয়া চাষে আধুনিক মাছ চাষের তুলনায় খরচ কম এবং এরা প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে। স্থানীয়ভাবে পাওয়া ছোট মাছ, কেঁচো বা শুঁটকি খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। উপকূলীয় ঘেরের পাশাপাশি ছোট পুকুর বা সিমেন্টের চৌবাচ্চাতেও কুচিয়া চাষ করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক বাজারে কুচিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। বাংলাদেশ থেকে চীন, হংকং, তাইওয়ান এবং থাইল্যান্ডসহ প্রায় ১৭টি দেশে এটি রপ্তানি হয়। কুচিয়া চাষে বিনিয়োগের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। অনেক উদ্যোক্তা ছোট পরিসরে চাষ শুরু করে ভালো ফল পাচ্ছেন।

কুচিয়া চাষে পুকুর বা ঘেরের বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। রোগবালাই কম এবং অল্প খাদ্যেই দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
উপকূলীয় এলাকার কাদাযুক্ত পচা পুকুর, হাওর-বাঁওড় বা আবদ্ধ ঘেরে সহজেই কুচিয়া চাষ করা যায়। এটি একটি ইল-প্রজাতির মাছ, যা উপকূলীয় নোনা বা আধা-নোনা জলের ঘেরে, বিশেষ করে কাঁকড়া চাষের সাথে বা পচা পুকুরে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করে ৫-৬ মাসে প্রচুর আয় করা সম্ভব। ঘেরের চারপাশে নেটের  বেড়া দিতে হবে, কারণ কুচিয়া গর্ত করে বাইরে চলে যেতে পারে। উন্নত প্রযুক্তিতে পুকুরে প্রতি শতাংশে ১৫০-২০০টি কুচিয়া ছাড়া যেতে পারে। কুচিয়া ছোট মাছ, শামুক, ঝিনুক এবং কেঁচো খেয়ে দ্রুত বাড়ে।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ অপছন্দ করলেও কৃষি তথ্য সার্ভিসে বলা হয়েছে, এটি শারীরিক দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, বাতজ্বর, পাইলসসহ অনেক রোগ সারাতে মহৌষধের মতো কাজ করে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)