শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
রবিবার ● ২৯ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » পাইকগাছায় আমের গুটি ঝরে পড়ায় হতাশ চাষি
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » পাইকগাছায় আমের গুটি ঝরে পড়ায় হতাশ চাষি
৩৭ বার পঠিত
রবিবার ● ২৯ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পাইকগাছায় আমের গুটি ঝরে পড়ায় হতাশ চাষি

---প্রকাশ ঘোষ বিধান (খুলনা) পাইকগাছা ঃ  টানা তীব্র তাপদাহ আর খরায় খুলনার পাইকগাছায় আমের গুটি ব্যাপক হারে ঝরে পড়ছে। যা চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। এমন অবস্থায় ফলন বিপর্যয়ের পাশাপাশি আম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ অঞ্চলের আমচাষিরা। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আম গাছে প্রচুর মুকুল ধরেছিলো ও আমের গুটি ধরেছে। তারপর  টানা তীব্র তাপদাহ ও বৃষ্টির অভাবে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে আমের গুটি।

চৈত্র মাস থেকে প্রচণ্ড তাপদাহ শুরু হয়েছে। তীব্র খরায় যেন পুড়ছে দেশ। খুলনার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তাপপ্রবাহ। উপকূলে লবন হাওয়ায় তাপমাত্রা আরও বেশী অনুভূত হচ্ছে। খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে মাটির রস শুকিয়ে যাওয়ায় আমের বোঁটা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমের বোঁটার আঠা শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলে মটরদানার মতো আম ঝরে পড়ছে  তবে প্রয়োজনীয় বৃষ্টির অভাবে গুটি ঝরে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আম চাষি ও বাগান মালিকরা।

উপজেলায় ৬১৫ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। লবনাক্ত উপকূল এলাকার এ উপজেলা ৪টি ইউনিয়ান গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়ুলীতে আম বাগানে রয়েছে। আর বাকী ইউনিয়ানে খুব সিমিত গাছ রয়েছে। উপজেলার গদাইপুর, গোপালপুর, হিতামপুর, মালত, হরিঢালী, কপিলমুনি,সলুয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে উন্নত জাতের আমগাছ রয়েছে।

এ বছর প্রচুর পরিমাণ আমের গুটি আসায় আমচাষি ও বাগান মালিকরা বুক বেঁধেছে লাভের আশায়। কিন্তু বর্তমানে অনাবৃষ্টি ও দাবদাহে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে স্বপ্নের সেই আমের গুটি। যদিও কেউ কেউ রাত ও খুব ভোরে গাছের গোড়ায় সেচ ও স্প্রে করে চেষ্টা করছেন আমের গুটিকে বাঁচানোর। বাগানের দক্ষিণের গাছগুলোর গুটি ঝরেছে। কারণ, দক্ষিণের দিকে সূর্যের তাপ বেশি লাগে। আর উত্তরের গাছগুলোতে সূর্যের তাপ কিছুটা লাগলেও ছায়া থাকে বেশি।

সরজমিনে দেখা যায়, এলাকার আমগাছের নিচে দেখা যায় অসংখ্য ছোট, মাঝারি ও বড় আমের গুটি ঝরে পড়ে রয়েছে। উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আমবাগান মালিক আব্দুল সালাম বলেন, আমার আমের বাগানে খরার কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। তারপর বৃষ্টির দেখা নেই। দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে। বাগানের গাছে তিন ভাগের এক ভাগ আম ঝরে পড়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় আম নিয়ে বেকায়দায় রয়েছি। গদাইপুর গ্রামের আমচাষি মোবারক ঢালী বলেন, তীব্র খরার কারণে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। আমগাছে সেচ ও কীটনাশকের মিশ্রণ ম্প্রে করেও গুটি টেকানো যাচ্ছে না। এ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় আমের গুটি নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ একরামুল হোসেন বলেন, খরার জন্য আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়ার পরেও আমের গুটি যেটুকু ঝরছে সেটা স্বাভাবিক। কৃষক বা চাষিদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। গুটি বেশি ঝরছে মনে হলে সেচ দিতে হবে। তিনি আমচাষিদের গাছের গোড়ায় পানি দেওয়াসহ ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন।





আর্কাইভ