শনিবার ● ২ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » পাইকগাছায় তালের রস আহরণের মৌসুম পুরাদমে শুরু
পাইকগাছায় তালের রস আহরণের মৌসুম পুরাদমে শুরু
প্রকাশ ঘোষ বিধান ঃ খুলনার পাইকগাছায় তাল গাছের রস আহরণের মৌসুম পুরাদমে শুরু হয়েছে। গাছিরা রস আহরণে তালগাছে ব্যস্ত দিন পার করছে। তালের রস একটি জনপ্রিয় পানীয়। এছাড়াও, এই রস থেকে সুস্বাদু গুড়, পাটালি এবং তালমিছরি তৈরি করা হয়। তালের রস সুমিষ্ট ও পাটালি গুড় সবার কাছে মুখরোচক। এ কারণে তালের রস ও গুড়ে কদর রয়েছে সবার কাছে।
চৈত্র মাসের শুরু থেকে আষাঢ় মাসের শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রচণ্ড গরমের সময় রস আহরণের উপযুক্ত সময়। গাছিরা বাঁশের ডগা বা শক্ত বাঁশের সাহায্যে গাছে উঠে পুরুষ তালের মঞ্জরি কেটে তার মুখে মাটির ভাঁড় বেধে দিয়ে আসেন। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে এই ভাড় থেকে রস সংগ্রহ করা হয়।
উপকূলের পাইকগাছা উপজেলায় গদাইপুর, গোপালপুর, তোকিয়া, হিতামপুর, বাঁকা, কপিলমুনি, সলুয়া, শ্যামনগর গ্রামে তাল গাছের রস আহরণে গাছিরা সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফাল্গুনের শেষ ও চৈত্র মাসের প্রথম থেকে তালের রস আহরণের জন্য গাছিরা তাল গাছ পরিচর্যা শুরু করে। চৈত্র মাস থেকে আষাড় মাষের শেষ পর্যন্ত তালের রস আহরণ চলবে। বর্ষাকাল আসলে আর রস আহরণ করা যায় না।
তালগাছে উঠার জন্য সোজা শক্ত বাঁশের প্রয়োজন হয়। বাঁশের গিরার এই কুঞ্চি সিঁড়ি হিসাবে বেয়ে ওঠা নামা করতে হয়। তালগাছ ২ প্রকারের ফল ও জটা থেকে রস আহরণ করা যায়। তালের জট ও ফলের কাধির মুজ্ঞরি ৬ ইঞ্চি মতো বের হলে রস আহরণের জন্য কাঁটা আহরণ শুরু করতে হয়। প্রতিটি গাছে ৬টি কাধি বা মুচা রেখে বাকি গুলো কেঁটে রাখা হয়। জটা তাল গাছের জটার মুচার সারিগুলো শক্তভাবে বেঁধে রাখা হয়। জট বা কাঁধির শেষ প্রান্ত থেকে ধারালো দা দিয়ে পাতলা করে কাঁটা শুরু করা হয়। কয়েকদিন কাঁটার পর রসের পরিমাণ বাড়লে রস আহরণ শুরু হয়। রস আহরণের জন্য প্রতিটি গাছে ১২টি ঘট প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন ৩ বার গাছের মুচা বা কাধি পাতলা করে কেঁটে রস আহরণ করা হয়। সকালে ও বিকালের রস গাছ থেকে নামানো হয়। আর দুপুর বেলায় শুধু মুচা বা কাধি পাতলা করে কাঁটা হয়। প্রতিদিন একটি গাছে থেকে ১৩ থেকে ১৫ লিটার রস পাওয়া যায়। সকালে ৮-৯ লিটার ও বিকালে ৫-৬ লিটার রস হয়।
উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ানের তকিয়া গ্রামের মোঃ আনোয়ার গাজী জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর যাবৎ তালগাছের রস আহরণ করছেন এবং তার পিতা মোঃ নজরুল গাজী প্রায় ৪৫ বছর যাবত কৃষি কাজের পাশাপাশি প্রতিবছর খেঁজুর ও তালের রস আহরণ করেন। তিনি জানান, তাল গাছের মালিকের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ শত টাকা হারি হিসাবে ৬টি গাছ এ মৌসুমে লীজ নিয়ে তালের রস সংগ্রহ করছেন। এক ভাড় রস পাইকারী ১৫০ টাকা ও খুচরা গ্লাস প্রতি ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি তালের পাটালি ২শত ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে তিনি জানান, তালের রস আহরণে প্রায় সারা দিন তালগাছের জন্য ব্যয় করতে হয়। বাঁশ বেয়ে গাছে ওঠা নামা ও মাজায় বেঁধে ঘট ও রস নামানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ কষ্টের কাজে গাছির কাজ করতে কেউ এগিয়ে আসছে না। নতুন করে গাছি তৈরি না হলে আগামীতে হয়তো এ এলাকায় তালের রস সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।
বৃদ্ধ গাছি মোঃ নজরুল গাজী(৭৬) জানান, এ এলাকায় তাল গাছের যত গাছি রয়েছে অধিকাংশ তার শিস্য। তবে তালগাছ কমে যাওয়া এবং শ্রমসাধ্য হওয়ায় এই পেশাটি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। নতুন করে গাছির কাজে কেউ না আসায় তিনি কিছুটা হতাশ, হয়তো এক সময় তালের রস বের করার এই শিল্প এলাকা থেকে হারিয়ে যাবে।
পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে তালগাছ সহায়তা করে। পাইকগাছায় তালগাছ রোপণের মাধ্যমে এর ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টাও করা হচ্ছে। অনেকেই পেশাদার গাছি হিসেবে এই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গ্রামীণ ঐতিহ্য বজায় রেখে পাইকগাছায় এই মৌসুমি ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম উৎস হিসেবে টিকে আছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।






মধুমালতী মানুষ তাকে ভুল নামে চেনে মাধবীলতা
পাইকগাছায় আমের গুটিতে দুলছে চাষীর স্বপ্ন
মাগুরায় অনির্বাণ সেবা সংসদের সভা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় আমের গুটি ঝরে পড়ায় হতাশ চাষি
কদবেল গাছের হালকা ফিকে লাল বর্ণের সুগন্ধি ফুল
পাইকগাছায় বন দিবস পালিত
বক ফুল ; ভাজা খাবার হিসেবে বাঙালির প্রিয়
লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাজিমাত করেছেন জাহাঙ্গীর
প্রেমের প্রতীক মনোমুগ্ধকর অশোক ফুল 