শিরোনাম:
পাইকগাছা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

SW News24
বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে প্রয়োজন সচেতনতা
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে প্রয়োজন সচেতনতা
৩ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে প্রয়োজন সচেতনতা

প্লাস্টিক দূষণ বলতে পরিবেশে প্লাস্টিক বর্জ্য মহাসাগর, নদী, বন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসস্থলে জমা হওয়াকে বোঝায়। প্লাস্টিক দূষণ পৃথিবীর সবচেয়ে নীরব বিপজ্জনক পরিবেশ সংকট তৈরি করেছে। সমুদ্র, মাটি, নদী সব জায়গায় মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ছে। যা এখন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। প্লাস্টিক দূষণ বাস্তুতন্ত্র, বন্যপ্রাণী এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্লাস্টিক দূষণ প্লাস্টিক পণ্যগুলির অত্যধিক এবং সহজে নষ্ঠ হয় না, যার ফলে শত শত বছর ধরে পরিবেশে তাদের স্থায়িত্ব থাকে।

প্লাস্টিক দূষণ রোধে ইংরেজি অক্ষরের তিনটি আর এর ওপর জোর দিতে হবে। অর্থাৎ রিডিউস বা ব্যবহার কমানো, রিইউজ বা পুনরায় ব্যবহার এবং রিসাইকেল বা পুনরুৎপাদনের প্রতি জোর দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে সার্বিক বিষয়ে নজরদারির জন্য সমন্বয় কমিটি গঠন এবং প্লাস্টিক, পলিথিনের বাজারের ব্যাগ এবং পলিথিনজাত পণ্যের নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধকরণ আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়া অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

প্লাস্টিক দূষণ রোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো থ্রি-আর নীতি অনুসরণ করা। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যাগ, পানির বোতল, স্ট্র, ওয়ান-টাইম কাপ বা প্লেট ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা। প্লাস্টিকের পাত্র বা বোতল একবার ফেলে না দিয়ে সেগুলোকে অন্য কাজে বারবার ব্যবহার করা। পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা। প্লাস্টিক বর্জ্য ডাস্টবিনে ফেলা এবং সম্ভব হলে রিসাইক্লিংয়ের জন্য জমা দেওয়া। পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতাই প্লাস্টিক দূষণ রোধের মূল চাবিকাঠি।

প্লাস্টিকের অনেক ধরণের ব্যবহার থাকলেও বর্তমানে ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। সহজেই বহন করা যায় এবং ফেলে দেয়া যায় বিধায় এই ধরণের প্লাস্টিক আইটেমের চাহিদার কারনে উৎপাদন গত কয়েক দশক থেকে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

এক পরিসংখ্যান জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রতি মিনিটে এক মিলিয়ন প্লাস্টিকের বোতল কেনা হয়। এছাড়া, ১০ লাখ প্লাস্টিক ব্যাগ একবার ব্যবহার করে এলে দেয়া হয়। ফলে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী পাঁচ ট্রিলিয়ন পর্যন্ত প্লাস্টিকের বর্জ্য জমা হয়।

প্লাস্টিক পলিথিন পরিবেশ, প্রাণী এবং উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর। ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ার কারনে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ বিশ্বব্যাপী এতটাই বেড়েছে যে তা সামাল দেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশ রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন একবার ব্যবহার করে খোলা রাস্তা, ডোবা বা পুকুরে তা ফেলে দেওয়া হয়। প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশ প্লাস্টিক আবর্জনার স্তুপ তৈরি হচ্ছে এবং এই বর্জ্য সামলাতে প্লাস্টিক পুড়িয়ে পুনরায় বাতাসে বিষ ছড়াচ্ছি।

দৈনন্দিন ব্যবহৃত বেশিরভাগ প্লাস্টিক পণ্য অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত হয়। এই উপাদানগুলি পেট্রো-ভিত্তিক পলিমার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের মূল ভিত্তি। পলিথিলিন এবং পলিপ্রোপিলিন সাধারণ প্লাস্টিকের মধ্যে অন্যতম, যা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি হয়। প্লাস্টিক মূলত বিভিন্ন জৈব পলিমার, যেমন পলিভিনাইল ক্লোরাইড, পলিথিন, নাইলন ইত্যাদি থেকে তৈরি একটি সিন্থেটিক উপাদান। এই পলিমারগুলির একটি বড় অনুপাতের মধ্যে রয়েছে কার্বন পরমাণুর চেইন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন বা সালফার। প্লাস্টিক গলিত আকারে থাকা অবস্থায়ও বিভিন্ন আকার এবং আকারে ঢালাই করা যায়, যা পরবর্তিতে কঠিন আকারে রূপান্তরিত হয়।

প্লাস্টিক মানব স্বাস্থ্য, পরিবেশে এবং কৃষি জমির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর থেকে প্রতিকারের জন্যে আমাদেরকে প্লাস্টিক যেখানে -সেখানে না ফেলে সংরক্ষণ করে পুনঃ প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে হবে। নিজে সচেতন হওয়া এবং আশপাশের মানুষদের প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত করা। প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় সম্মিলিত পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।





আর্কাইভ