শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

SW News24
রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » পরিবেশ » রাত নামলেই বের হচ্ছে ভয়ঙ্কর জংড়া শামুক; খেয়ে ফেলছে গাছপালা
প্রথম পাতা » পরিবেশ » রাত নামলেই বের হচ্ছে ভয়ঙ্কর জংড়া শামুক; খেয়ে ফেলছে গাছপালা
৬ বার পঠিত
রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রাত নামলেই বের হচ্ছে ভয়ঙ্কর জংড়া শামুক; খেয়ে ফেলছে গাছপালা

---বর্ষাকালে পাইকগাছায় জংড়া শামুকের উপদ্রব বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক ধরনের বিশালাকৃতির স্থল শামুকের উপদ্রবে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় আড়ালে থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর দলে দলে বেরিয়ে এসে বাড়ির আঙিনা, বাগান ও গাছপালা দখল করে নিচ্ছে এসব শামুক। গাছের কচি পাতা,সবজি, লতাপাতা ও ফল গাছের পাতা খেয়ে ব্যাপক ক্ষতি করছে।

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় আফ্রিকান জায়ান্ট স্নেল বা স্থল শামুকের উপদ্রব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে. এরা সাধারণত দিনের বেলা আলো ও তাপ এড়াতে অন্ধকার ও ভেজা জায়গায় লুকিয়ে থাকে এবং সন্ধ্যা নামার পর ঝাঁকে ঝাঁকে বের হয়ে কচি লতাপাতা ও শাকসবজি খেয়ে বাগানের মারাত্মক ক্ষতি করে।

স্থানীয়ভাবে এ শামুককে জংড়া শামুক বলে। সাধারণত আফ্রিকান জায়ান্ট স্নেল বা বিশাল স্থল শামুক নামে পরিচিত। এটি এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উন্মুক্ত ঘাসজমি ও বাগানে দেখা যায়। আফ্রিকান স্থলশামুক খুব বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়। তারা নিজেরা কাউকে কামড়ায় না ঠিকই কিন্তু নিজেদের সঙ্গে মারাত্মক পরজীবী নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। শামুক আপাত দৃষ্টিতে ভীষণই গোবেচারা, শ্লথ প্রাণী। এই শামুকরা যেখানেই যায় পরজীবীও তাদের দেহের সঙ্গেই যায়। তবে মাঝে মাঝে তা ভয়াবহও হতে পারে।

এই শামুকগুলো ইঁদুরের ফুসফুসের কৃমি নামক পরজীবী বহন করে, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মেনিনজাইটিস-এর মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।  দ্রুত বংশবৃদ্ধির কারণে এটি বাগান ও কৃষিজমিতে রীতিমতো বিপর্যয় ডেকে আনে।

জানা গেছে, বর্ষাকাল শুরু হলে এদের সংখ্যায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। সূর্যাস্তের পর হাজার হাজার শামুক গাছের কাণ্ড, দেয়াল ও উঠানে ছড়িয়ে পড়ে। শসা, লাউ, শিমসহ বিভিন্ন সবজির কচি পাতা ও ঔষধি গাছের অংশ খেয়ে ফেলায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র চাষিরা। অনেক পরিবার পলিথিন ব্যাগে ভরে দূরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না। শামুকগুলোর শরীর থেকে নির্গত আঠালো পদার্থ ত্বকে লাগলে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণে সন্ধ্যার পর শিশুদের বাইরে যেতে দিতে ভয় পাচ্ছেন অনেক অভিভাবক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানিয়েছেন, এগুলো সম্ভবত আফ্রিকান জায়ান্ট স্নেইল নামে পরিচিত এক ধরনের আক্রমণাত্মক স্থল শামুক, যা কৃষির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, এরা কচি পাতা ও ডালপালা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহারের পাশাপাশি ডিমের খোসার গুঁড়া, কাঠের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া এবং শামুক সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বাড়ির আঙিনা ও বাগানের চারপাশে লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড) বা গুঁড়ো চুন ছিটিয়ে দিলে শামুক ওই সীমারেখা পার হতে পারে না। শামুকের দেহ থেকে বের হওয়া আঠালো পদার্থে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী থাকতে পারে। তাই শিশুদের সন্ধ্যার পর খালি পায়ে বাড়ির আঙিনায় বা বাগানে খেলতে দেওয়া থেকে বিরত রাখা ভালো।

পরিবেশবিদদের মতে, বিদেশি আক্রমণাত্মক প্রজাতির প্রাণীর বিস্তার স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও কৃষি উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও কৃষকরা।





আর্কাইভ