সোমবার ● ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » তেলাপিয়া মাছ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি
তেলাপিয়া মাছ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি
তেলাপিয়া মাছ মুক্ত জলাশয় বা প্রাকৃতিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে তা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। যদিও এটি চাষের জন্য খুবই জনপ্রিয়, কিন্তু নদী বা হ্রদে এটি একটি আগ্রাসী প্রজাতি হিসেবে কাজ করে।
তেলাপিয়া মাছ অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি, দেশি প্রজাতির মাছের সাথে খাদ্য ও বাসস্থানের প্রতিযোগিতা এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতার কারণে স্থানীয় জলাশয়ের জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি আগ্রাসী ও হুমকিস্বরূপ প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়লে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
এরা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং খুব অল্প সময়ে পুরো জলাশয়ে আধ বিস্তার করে। দেশি প্রজাতির ছোট মাছের খাবার ও বাসস্থানের জন্য এরা তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি করে। কম অক্সিজেন ও বেশি দূষিত জলেও এরা বেঁচে থাকতে পারে, যা অন্য মাছের জন্য অনুপযোগী। তলদেশের মাটি খুঁড়ে জলজ পরিবেশ ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট করে।
তেলাপিয়া খুব দ্রুত দেশীয় মাছের খাবার খেয়ে শেষ করে ফেলে। এরা অন্যান্য মাছের থাকার জায়গা ও প্রজনন ক্ষেত্র দখল করে নেয়। সুযোগ পেলে এরা দেশীয় মাছের ডিম ও ছোট পোনা খেয়ে ফেলে। এরা বছরে কয়েকবার প্রচুর পরিমাণে ডিম পাড়ে। মা তেলাপিয়া ডিম ও ছোট বাচ্চা মুখে রেখে রক্ষা করে। এর ফলে এদের বেঁচে থাকার হার অনেক বেশি হয়। এরা নোংরা পানি, কম অক্সিজেন এবং অতি তাপমাত্রাতেও বেঁচে থাকতে পারে। এরা সহজেই সাধারণ মিষ্টি পানি থেকে নোনা পানিতে মানিয়ে নিতে পারে। এর ফলে দেশীয় মাছ মারা গেলেও তেলাপিয়া টিকে থাকে। বাসা বানানোর জন্য এরা পানির নিচের জলজ উদ্ভিদ উপড়ে ফেলে বা খেয়ে ফেলে। এদের অতিরিক্ত মলমূত্রের কারণে পানিতে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ক্ষতিকর শ্যাওলা তৈরিতে সাহায্য করে।
তেলাপিয়া মাছ বিশেষ করে মোজাম্বিক তেলাপিয়া এবং নাইল তেলাপিয়া মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা হলে তা জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে গণ্য হয়। বিশ্ব সংরক্ষণ সংস্থা তেলাপিয়াকে পৃথিবীর অন্যতম আগ্রাসী প্রজাতির জীব হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
নিয়ন্ত্রিত খামারে বা পুকুরে চাষের জন্য এটি লাভজনক হলেও, বন্যা বা অসাবধানতার কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ে নদী, খাল ও বিলে চলে গেলে এটি স্থানীয় বাস্তুসংস্থানের অপূরণীয় ক্ষতি করে। তেলাপিয়া অত্যন্ত দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। ফলে মুক্ত জলাশয়ে এদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ে এবং অন্যান্য মাছের স্থান দখল করে।
এরা জলাশয়ের প্রাকৃতিক খাবার প্লাংকটন ও ছোট জলজ উদ্ভিদ দ্রুত সাবাড় করে ফেলে। খাবার এবং নিরাপদ বাসস্থানের জন্য দেশীয় প্রজাতির মাছ পুঁটি, টেংরা, মলা, ঢেলার সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি করে দেশীয় মাছকে বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দেয়। তেলাপিয়া সর্বভুক বা অমনিভোরাস প্রজাতির মাছ। এরা সুযোগ পেলে অন্যান্য দেশীয় মাছের ডিম ও ছোট পোনা খেয়ে ফেলে, যা মাছের প্রাকৃতির প্রজনন চক্র ব্যাহত করে। এরা জলাশয়ের তলদেশে বাসা বা গর্ত তৈরি করার সময় জলজ উদ্ভিদ উপড়ে ফেলে। এতে পানির ঘোলাটে ভাব বা পরিবাহী পলি বৃদ্ধি পায়, যা অন্যান্য মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত করে। অতিরিক্ত তেলাপিয়ার মলত্যাগের কারণে পানিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এটি জলাশয়ে ক্ষতিকর অ্যালগাল ব্লুম (শৈবালের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি) ঘটায় এবং পানির অক্সিজেন কমিয়ে দিয়ে মাছের গণমৃত্যুর কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতিবাংলাদেশে সত্তরের দশকে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে আফ্রিকান এই প্রজাতি আমদানি করা হয়েছিল। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষের মাধ্যমে দেশের মৎস্য অর্থনীতি লাভবান হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু উন্মুক্ত জলাশয়ে এদের অনুপ্রবেশ দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য ধ্বংসের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেলাপিয়া মাছ বিশেষ করে মোজাম্বিক তেলাপিয়া এবং নাইল তেলাপিয়া মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা হলে তা জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে গণ্য হয়। বিশ্ব সংরক্ষণ সংস্থা তেলাপিয়াকে পৃথিবীর অন্যতম আগ্রাসী প্রজাতির জীব হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এইসব কারণে অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের অনেক দেশে তেলাপিয়া মাছকে ক্ষতিকর কীট বা পেস্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে প্রাকৃতিক জলাশয়ে এই মাছ পাওয়া গেলে তা মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলার নিয়ম রয়েছে।






বর্ষাকাল কৃষিকাজের মূল চালিকা শক্তি
মশা পৃথিবীর সবচেয়ে জীবনঘাতী পতঙ্গ
হাতি সুরক্ষায় বনের অবক্ষয় রোধ করা প্রয়োজন
ফটোগ্রাফি অত্যন্ত প্রভাবশালী শিল্পমাধ্যম
বিশ্ব জুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ক্রমাগত ঝুঁকিতে
বর্ষার প্রকৃতি রাঙিয়ে তুলেছে কদম ফুল
বাংলাদেশ বিলুপ্তির পথে শালিক পাখি
আরামপ্রিয় প্রাণী বিড়াল
পাখির রাজা ফিঙে 