শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

SW News24
মঙ্গলবার ● ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বিশ্ব নিরামিষ দিবস
প্রথম পাতা » মুক্তমত » বিশ্ব নিরামিষ দিবস
৬৯ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বিশ্ব নিরামিষ দিবস

--- প্রকাশ ঘোষ বিধান

নিরামিষাশী জীবনযাত্রা কেবল একটি নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতির এক ইতিবাচক জীবনধারা। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, সঠিকভাবে পরিকল্পিত একটি নিরামিষ খাদ্যতালিকা একজন মানুষকে দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবন দিতে অত্যন্ত কার্যকর।

সুষম নিরামিষ খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ডায়েটারি ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

প্রতি বছর ১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব নিরামিষ দিবস পালিত হয়। নিরামিষাশী জীবনযাত্রার আনন্দ, সহানুভূতি এবং জীবন রক্ষাকারী সম্ভাবনাগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরাই এই দিনটির মূল লক্ষ্য। শাকসবজি ও ফলে ভরপুর নিরামিষ খাবার থেকে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ফলিক অ্যাসিড, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। গোটা শস্য, ডাল ও সবজিতে প্রচুর ফাইবার থাকে যা হজমশক্তি উন্নত করে। ডাল, ছোলা, সয়াবিন, বাদাম ও টোফু উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের চমৎকার উৎস। উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস কোষের ক্ষয় রোধ করে।

বিশ্ব নিরামিষ দিনটি নিরামিষাশী জীবনযাত্রার নৈতিক, স্বাস্থ্যগত, এবং পরিবেশগত সুবিধাগুলি তুলে ধরতে এবং এই জীবনধারা অবলম্বনে উৎসাহিত করতে পালন করা হয়। পশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবারের সুবিধাগুলো তুলে ধরা। পরিবেশের উপর নিরামিষাশী জীবনধারার ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানানো। সারা বিশ্বে নিরামিষাশী জীবনধারাকে উৎসাহিত ও গ্রহণ করা।

১৯৭৭ সালে উত্তর আমেরিকার নিরামিষ সোসাইটি এই দিবসটির সূচনা করে। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে আন্তর্জাতিক নিরামিষ ইউনিয়ন এটিকে পূর্ণ সমর্থন ও অনুমোদন দেয়। এই দিবসটির মাধ্যমেই পুরো অক্টোবর মাসজুড়ে নিরামিষ সচেতনতা মাস এর সূচনা হয়, যা ১ নভেম্বর বিশ্ব ভেগান দিবস এর মাধ্যমে শেষ হয়।

উদ্ভিজ্জ খাবার ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কম থাকায় নিরামিষ খাবার রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। খাবারে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

নিরামিষ জীবনযাত্রার রয়েছে নানা উপকারিতা। নিরামিষ খাদ্য অনেক ঝুঁকি কমায় এবং মানুষকে সুস্থ থাকতে উৎসাহিত করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হজমশক্তি উন্নত করতে উদ্ভিদজাত খাবার অত্যন্ত কার্যকর।  শস্য এবং অন্যান্য ফসলের আরও দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের ক্ষুধার্তদের খাবার সরবরাহের একটি কার্যকর সমাধান প্রদান করে। গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সীমিত স্বাদুপানি, উর্বর মাটির উপরিভাগ এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা যায়। রেইনফরেস্ট এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের মতো অপরিবর্তনীয় বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ করা হয়। বিশ্ব উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিতকারী গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করে।

গবাদি পশু পালনের তুলনায় উদ্ভিদ চাষে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অনেক কম হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে সাহায্য করে। পশুপালনের ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ প্রশমিত করে। কারখানা-খামারের পরিস্থিতিতে এবং হত্যার যন্ত্রণা ও আতঙ্ক থেকে প্রাণীদের বাঁচান যায়। প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা কমানো এবং অহিংস জীবনধারা বজায় রাখতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)