সোমবার ● ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রথম পাতা » শিক্ষা » বদলে গেছে ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুরের দারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজের চিত্র
বদলে গেছে ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুরের দারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজের চিত্র
মাগুরা প্রতিনিধি : বদলে গেছে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজের দৃশ্যপট। কলেজ মাঠে জলাবদ্ধতা, কলেজ ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, অধ্যক্ষের বাসভবন, ছাত্রী হোস্টেল নির্মণ ও থাকার সুব্যবস্থা, ছাত্রদের থাকার হোস্টেল পূনঃ নির্মাণ, হোস্টেলের জন্য রান্নাঘর, ভাঙ্গনরোধে বস্তায় বালু ভরে গর্ত ভরাট, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাইকেল গ্যারেজ, খেলার মাঠ সংস্কার ও সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক ভবন সম্প্রসারণ, ১ তলা বিশিষ্ট কলেজ ক্যান্টিন, পুরো কলেজ ক্যাম্পাস আলোকিত করা, কলেজ ছাত্রদের ওয়াশ রুম, ছাত্রীদের কমনরুম ও ওয়াশ রুম সংস্কার, ফুলের বাগান করে কলেজ শোভাবর্ধন, চলতি বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির দুই শতাধিক, বনজ ও ঔষুধি গাছ রোপণ, ১’শ শিক্ষার্থীকে ৫ টি ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান এ সকল কার্যক্রমে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী দারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজের চিত্র। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৯ টি উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস ছবুর।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারী কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নতুন সভাপতি ঢাকা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও দুর্ণীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. তরিকুল ইসলামের নির্দেশনায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান সরকার খেলাধুলার প্রতি স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়ায় কলেজ মাঠ সম্প্রসারণে প্রতিদিন ফুটবল খেলা থেকে বিভিন্ন খেলাধুলা শুরু হয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গ্রামের ছেলেরাও কলেজ মাঠে প্রতিনিয়ত খেলাধুলা করছে। এতে করে এ প্রজন্মের তরুণ যুবারা খেলার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। ১৯৯২ সালের ২৮ আগস্ট এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীট দারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গণপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মরহুম এএন কামাল উদ্দিন মোস্তফা, দারিয়াপুর দরবার শরীফের মরহুম পীরজাদা মওলানা আবু সাঈদ, দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোমতাজ উদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস, সিনিয়র সাংবাদিক মতিউর রহমান টুকু, দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের হিতৈষী সদস্য মো. মছিহুল আজমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অকান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠে ঐতিহ্যবাহী দারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজ। প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিনের আপ্রাণ চেষ্টায় যশোর বোর্ডের মধ্যে কয়েকবার পরীক্ষার ফলাফলে তৃতীয় স্থানের সুনাম অর্জন করে। কলেজ থেকে বের হন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী। সেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিন্টু বিশ্বাস, ৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রিপন বিশ্বাস, মো. নাজমুল ইসলাম, সুদীপ্ত সিংহ, রেক্সোনা খাতুন, ১জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হোসেন আলী, ১জন সহকারী অধ্যাপক ডা. ওহিদুল ইসলামসহ তিনজন এমবিবিএস ডাক্তার, ৬ জন বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার, ২ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও ২ জন উপসচিব পদ মর্যাদাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাকরি করছেন।
বিগত সরকারের আমলে অধ্যক্ষ হিসেবে পাওয়া রমেন্দ্রনাথ বাছাড় সাময়িক (বরখাস্ত) ও কতিপয় শিক্ষকদের উদাসিনতা, লেখাপড়ার অবনতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অশিক্ষা সুলভ আচরণ ও বহিরাগত ছাত্রদের মাদকের নেশায় পেয়ে বসে। হারিয়ে যেতে থাকে খেলাধূলা। সরকার পরিবর্তনের পর কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নতুন সভাপতি তরিকুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই বদলে যাচ্ছে কলেজের দৃশ্যপট। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস ছবুর কলেজের সুনাম ও শৃঙ্খলা ফেরাতে নিরলস কাজ করছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য এহসান উল্লাহ মিলন বলেন, খেলার মাঠ সম্প্রসারণ ও লাইটিংয়ের ব্যবস্থায় খেলোয়াড়দের পদচারণা বেড়েছে। দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. মছিহুল আজম বলেন, বিগত ১৫ বছর লেখাপড়ার অবনতির সাথে কলেজ মাঠে সন্ধ্যার পর মাদকের আস্তানায় পরিণত হয়েছিল।
সাবেক শিক্ষার্থী শিক্ষক খান ওয়ালিউর রহমান মজনু বলেন, এ মাঠেই আমাদের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়।
ইঞ্জিনিয়ার মেহেদি হাসান বলেন, মাঠটি সম্প্রসারণের সাথে আন্তঃফুটবল লীগ খেলা শুরু হয়েছে। দর্শক শ্রোতা বেড়েছে। বর্তমান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাহাত মোল্যা বলেন, খেলার মাঠ বড় হওয়াতে খেলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছি। রাতে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা ও সিসি ক্যামেরা থাকায় রাতে ব্যাডমিন্টন খেলছি। বর্তমান কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ঢাকা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী দুর্ণীতি দমন কমিশনেন পাবলিক প্রসিকিউটর মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দারিয়াপুর ডিগ্রি কলেজে গিয়ে সবার মতামত শুনে অবাক হয়েছি। কলেজ ক্যাম্পাস নোংরা, অগোছালো, শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ, শিক্ষার্থীদের কলেজে অনুপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ এতসব অভিযোগ। কলেজ পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠন, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় কলেজ ক্যাম্পাসের উন্নয়ন ও শিক্ষক ছাত্র,ছাত্রীদের নিয়মিত কলেজে আসা ও শৃঙ্খলা মেনে চলার নির্দেশনা প্রদান করি। আগামীতে কলেজটি পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবো। কলেজ হবে জ্ঞানচর্চা ও খেলাধুলার স্থান।






পাইকগাছায় দুদকের বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
মাগুরায় ২৮৬ অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান
মাগুরায় এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মিয়াওকি বনায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
পাইকগাছায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাতা প্রদান
পাইকগাছায় আলহেরা দাখিল মাদ্রাসায় কোন শিক্ষার্থী না থাকলেও শিক্ষক -কর্মচারী রয়েছে ১৭ জন
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
মাগুরায় শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ
মাগুরায় মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ ও লিংকেজ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত 