শিরোনাম:
পাইকগাছা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

SW News24
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » রাতের রানি শিউলি ফুল
প্রথম পাতা » প্রকৃতি » রাতের রানি শিউলি ফুল
৩ বার পঠিত
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রাতের রানি শিউলি ফুল

প্রকৃতির স্নিগ্ধ মায়াবী আবেশ ছড়ায় ছোট্ট শিউলি ফুল। শিউলি ফুলকে রাতের রানি বলা হয়। এটি রাতের বেলা ফোটে এবং সূর্য ওঠার আগেই গাছ থেকে ঝরে পড়ে। ভোরে শিউলি গাছের তলা সাদা-কমলা ফুলের চাদরে ঢেকে থাকে। রাতের বাতাসে এর মিষ্টি ও তীব্র ঘ্রাণ বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, যা চারপাশকে এক মায়াবী আমেজে ভরিয়ে তোলে।

শিশিরভেজা সকালে শিউলি গাছের তলায় সাদা ও কমলার মিশ্রণে যে ফুলের বিছানা তৈরি হয়, তা গ্রামবাংলার এক চিরচেনা ও অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য। শিউলি ফুল  শরৎ ও হেমন্ত কালের এক অপরূপ সৃষ্টি, যা তার মিষ্টি সুবাস এবং অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে রাতের রানি বা নাইট জেসমিন নামে পরিচিত। হিন্দু পুরাণে একে স্বর্গের পারিজাত বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।

শিউলি কোমল সাদা রঙের ছোট ছোট ফুল, দুধসাদা রঙের মাঝখানে জাফরান রঙের ফোঁটা, বোঁটাও জাফরানি। ভোরে গাছের নিচে ভরে যায় ফুলে, আর কোমল গন্ধে ভরে ওঠে চারদিক। ফুলটি আকারে ছোট এবং এর নমনীয় কোমল ৫ থেকে ৭টি সাদা পাপড়ি থাকে। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো এর মাঝখানের উজ্জ্বল লালচে-কমলা রঙের বোঁটা বা বৃত্ত। শিউলি গাছ নরম ধূসর ছালবিশিষ্ট এবং প্রায় ১০ মিটারের মতো লম্বা হতে পারে। এর পাতাগুলো খসখসে ও বিপরীতমুখী বিন্যাসের হয়।

শিউলি ফুল ছাড়া বাঙালির শারদীয় উৎসব বা  দুর্গাপূজা ভাবাই যায় না। হিন্দু ধর্মে এটি এমন একটি অনন্য ফুল, যা মাটিতে ঝরে পড়ার পরেও তা দিয়ে পূজার অঞ্জলি দেওয়া যায়।

পুরাণ মতে, শিউলি বা পারিজাত হলো স্বর্গের ফুল। রাজকন্যা পারিজাতিকা সূর্যদেবের ব্যর্থ প্রেমে আত্মহত্যা করলে তার চিতাভস্ম থেকে এই গাছের জন্ম হয়। সূর্যের তীব্র আলো সহ্য করতে পারে না বলেই এটি ভোরে ঝরে যায়।

আবহমান বাংলার চিরচেনা শিউলি ফুল নিয়ে পৌরাণিক কাল থেকে গান, কাব্য, সাহিত্য রচিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুলটিকে শেফালি নামে ডাকতেন এবং কাজী নজরুল ইসলামসহ বহু কবি-সাহিত্যিক শিউলি ফুল নিয়ে গান ও কবিতা লিখেছেন।

অতীতে শিউলি ফুলের কমলা রঙের বোঁটা শুকিয়ে গুঁড়ো করে কাপড় কিংবা পায়েস-জর্দায় চমৎকার সোনালী-হলুদ রং তৈরিতে ব্যবহার করা হতো।  শিউলি পাতার রস অত্যন্ত তেতো হলেও তা পুরোনো জ্বর, বাত ব্যাথা, কৃমি এবং কাশির চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরী। ভারতের কিছু অঞ্চলে এই ফুল হালকা তিতা স্বাদের জন্য বিভিন্ন সবজি ভাজি বা চালের সুগন্ধ বাড়াতেও ব্যবহৃত হয়।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)