শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ বৈশাখ ১৪২৮
SW News24
শনিবার ● ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১
প্রথম পাতা » কৃষি » সুফল পাবে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ যশোরের বিল খুকশিয়ায় ২৭টি বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে এলাকাবাসী
প্রথম পাতা » কৃষি » সুফল পাবে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ যশোরের বিল খুকশিয়ায় ২৭টি বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে এলাকাবাসী
৯২ বার পঠিত
শনিবার ● ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সুফল পাবে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ যশোরের বিল খুকশিয়ায় ২৭টি বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে এলাকাবাসী

---

এম. আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের বিল খুকশিয়াসহ ২৭টি বিলে দীর্ঘ দিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে নিজস্ব অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছে ভুক্তভোগি এলাকাবাসী। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দীর্ঘ দিনেও এই এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান করতে পারিনি। ফলে পাউবো’র উপর আস্থা হারিয়ে বিল খুকশিয়াসহ ২৭ বিলে জলাবদ্ধতা নিরসন বাস্তাবায়ন কমিটির ব্যানারে ৬৯টি গ্রামের ভুক্তভোগী জনগণ এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এসব এলাকার মানুষ তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ১২৯টি সেচ পা¤েপর মাধ্যমে ১৫ জানুয়ারি থেকে এই সেচ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এভাবে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম সফল হলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ উপকৃত হওয়ার পশাপাশি প্রায় ২৪ হাজার বিঘা জমিতে ধান আবাদের সুফল পাবে তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোরের কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামের হরি নদীর পাশে পানিউন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের গা ঘেষে সারি বদ্ধভাবে ১২৯টি বিভিন্ন আকারের সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। যে পানি হরি নদীতে যেয়ে নামছে। জলাবদ্ধতা নিরসন বাস্তাবায়ন কমিটির নেতারা বলেছেন, বিল খুকশিয়া সহ ২৭ বিলের অবস্থান পাশবর্তী খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শেষ থেকে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলায় হরি নদীর গা ঘেষে। কেশবপুরের পাজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়ন, মনিরামপুরের দুর্বা ডাঙ্গা ও মনোহরপুর ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়নের মধ্যে ২৭টি বিলের অবস্থান। আর এই সকল এলাকার ৬৯টি গ্রামের মানুষ পাউবোর উদাশিনতায় দীর্ঘ দিন যাবত জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে।

এবিষয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন বাস্তাবায়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর রহমান বলেন, এক সময় হরি নদীর দিয়ে এই বিলগুলোর পানি নিষ্কাশন হত। কিন্তু ধীরে ধীরে নদীটি ভরাট হতে থাকায় বর্তমানে বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়। আর তখন থেকে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যায় এই বিলগুলোতে। তখন এই বিলের মৎস ঘের গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন থেকে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এ বছর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা শুরু করেছি। প্রতিটি মেশিন মালিকে দিন প্রতি দেওয়া হচ্ছে ৫শত টাকা। আর ডিজেল খরচ বাস্তবায়ন কমিটির। এই কাজে তদারকিসহ নানা রকম কাজের জন্য আব্দুল হালিম, আজিজুর মেম্বর, ফজলুর রহমান, প্রদিপ্ত বিশ্বাস ও মশিউর রহমানসহ মোট ২৪ জন নিযুক্ত করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ঘের ও জমি মালিকদের থেকে বিঘা প্রতি ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। সকল খরচ এই টাকা দিয়ে  মেটানো হচ্ছে।  ইতি মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার বিঘা জমি আবাদের যোগ্য হয়েছে। আশা করছি আগামী ১ মাসের মধ্যে পানি  নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। কমিটির আহবায়ক ও কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন বলেন, এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে মানুষের দীর্ঘশ্বাস দেখে। এই বিল খুকশিয়ার সাথে ২৭টি বিল জড়িত। কেশবপুর ও মনিরামপুরের এসব বিলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কোন ফসল হচ্ছে না। গরু, ছাগল, মানুষ না খেয়ে মরছে। তাদের কথা চিন্তা করে এই কাজ শুরু করেছি। এক সময়  এখানে টিআরএম চালু  হয়েছিল তখন অনেক জমিতে ফসল হত। হরি নদীটি বেশ গভীর হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। এখন আমাদের দাবি দ্রুত টিআরএম চালু করা হোক। পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বলেন, ওই বিলগুলোতে টিআরএম চালু করার জন্য একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এই প্রকল্প বাস্তাবায়ন হলে বিলগুলোতে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)