শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
SW News24
বুধবার ● ১১ মে ২০২২
প্রথম পাতা » কৃষি » উচ্ছে চাষে সাবলম্বী নিমাই সানা
প্রথম পাতা » কৃষি » উচ্ছে চাষে সাবলম্বী নিমাই সানা
২৬ বার পঠিত
বুধবার ● ১১ মে ২০২২
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

উচ্ছে চাষে সাবলম্বী নিমাই সানা

পাইকগাছা প্রতিনিধি; ---অভাব অনাটনে এমনও দিন গেছে পরিবারের সদস্যদের দুবেলা দুমুঠো ভাতের যোগান দিতে পারিনি। লেখা-পড়া বেশীদুর করতে পারিনি। আমি  ইন্টামিডিয়েড পরীক্ষা দিতে গেছি সকালে পরের জমিতে  কিষেণ দিয়ে। খরচের টাকা জোগাড় করে পাইকগাছায় পরীক্ষা দিতে যেতাম।

 সংসারের হাল ধরতে চাষাবাদকে পেশা হিসাবে বেছে নেই। এখন পরিবারে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।   ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ যোগাতে এখন আর চিন্তা করতে হয় না। উচ্ছে চাষে আমার ভাগ্য বদলে দিয়েছে হাসি মুখে  বললেন পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের কুমখালী গ্রামের কৃষক নিমাই সানা।

 তিনি উচ্ছে চাষ করে আজ হয়েছেন সাবলম্বী সাড়ে বিঘা জমিতে সবজি চাষাবাদ করে লাভ থেকে প্রতিবছর ১বিঘা জমি কিনে বর্তমানে ১২ বিঘা জমির মালিক।  মা-বাবা, স্ত্রী, ১ছেলে মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার। এবছর নিজ সাড়ে বিঘা জমিতে তিনি উচ্ছে, বিঘা জমিতে ধান, ১০ কাঠায় ডাউল, দেড় বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া, বিঘাতে তরমুজ সহ অন্যান্য শক-সবজি চাষাবাদ করেন। রবি মৌসুমে ডায়মন্ড বোল্ডার জাতের উচ্ছে চাষে সফলতার মূখ দেখেছেন নিমাই সানা।

 তিনি বলেন, অভাব অনাটনের সংসারে রুটিরুজি জোগাড় করতে যখন দিশেহারা। ঋণে জর্জরিত। সংসারে স্বচ্ছতা আনতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাধক ঢালীর পরামর্শ সহযোগিতায় নিজ ১২ বিঘা এবং বিঘা বর্গা মোট ১৬ বিঘার মধ্যে সাড়ে ৯বিঘা জমিতে উচ্ছে এবং ঢেঁড়সমিষ্টিকুমড়া সহ অন্যান্য সবজি চাষ করেছি। নিজস্ব জমিতে চাষাবাদ করায ব্যয়ের তুলনায় অধিক আয় লাভ হয়েছে।

 সারা বছর তিনি কোন না কোন সবজি চাষ করেন। এই সবজি চাষের উপর তার সংসারের ভরণ পোষণ হয়। তিনি বলেন,উচ্ছে বিঘা প্রতি উৎপাদনে ১৩/১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদিত ২০ মণ উচ্ছে ৭০/৮০ হাজার টাকা বিক্রায় করেছেন। সপ্তাহে তিনি ৭৫/৮৫ মণ সবজি ক্ষেত থেকে বিক্রয় করেছেন। এখন আর  জমির ফসল বিক্রি করতে হাটে যেতে হয় না। ব্যবসাহীরা ক্ষেতে এসে টাটকা সবজি কিনে নিয়ে যায়।  তিনি আরো বলেন, এবছর বৃষ্টি না হওয়ায়  খরার কারণে, জলের অভাবে,

প্রত্যাশা মত ফলন পাইনি।তা না হলে আরো বেশী ফসল উৎপাদন করা যেত। এজন্য তিনি বদ্ধ নদী, খাল খনন, ১৫/১৬শ ফুট ডিপটিউবয়েল বসানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি  করেছেন।

উপজেলা কৃষি সাম্প্রসারণ অধিদফতর যেভাবে আমাকে সাহায্য সহযোগীতা করছে তা যদি আগামীতে অব্যাহত রাখে তাহলে আমি আমার কৃষি কাজে সাম্প্রসারণ করা সহ নতুন নতুন পদ্ধতিতে  ফসল ফলাতে পারবো। এদিকে নিমাই সানার আত্ম কর্মসংস্থান মূলক  কৃষি কার্যক্রম দেখে এলাকার সাধারণ মানুষ অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকও এই কৃষি কাজে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

 উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাধক ঢালী বলেন, উচ্ছে চাষে বেশি লাভ পাওয়ায় এবং মাটি পরিবেশ অনুকূলে থাকায় কৃষকরা উচ্ছে চাষে ঝুঁকে পড়ছেন।  তবে বছর বৃষ্টিপাত না হওয়া, জলের অভাবে গাছ ফলন কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এখানে জৈবিক উপায় ফসল ফলানোর জন্য পোকামাকড় দমনের ক্ষেত্রে ফেরোমন ফাঁদ, ইউলাইস্টেকার ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে পোকা আকৃষ্ট হয়ে মারা যাবে। ক্ষেতে কোন রাসায়নিক কিটনাশক ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। সম্পূর্ণ জৈবিক উপায়ে ফসল ফলানো হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: জাহাঙ্গীর আলম বরেন, কৃমি বিভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার কুমখালী গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা নিমাই সানা সবজি চাষ করে ব্যাপক সফল হয়েছেন। আমারা কৃষি বিভাগ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নিরাপদ  সবজি উৎপাদনের জন্য। চাষিদের জন্য আমাদের সহযোগিতা পরামর্শ সব সময় অব্যাহত  থাকবে।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)