মঙ্গলবার ● ২৫ জুন ২০২৪
প্রথম পাতা » কৃষি » আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মাগুরায় পাটের বাম্পার ফলনের আশা
আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মাগুরায় পাটের বাম্পার ফলনের আশা

শাহীন আলম তুহিন,মাগুরা : চলতি বছর তীব্র তাপদাহ বিরাজ করার ফলে জেলার অধিকাংশ পাটচাষীরা বিপাকে ছিল । পাটের বীজ বোনার পর কোন বৃষ্টিপাত না হওয়াতে পাটের চারা গজাতে কিছুটা দেরি হয়েছে ক্ষেতে । আবার তীব্র তাপদাহ থাকায় কোন মাঠের চারা গজানোর পর তা মওে যাচ্ছিল ফলে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল অনেক অঞ্চলের কৃষক । কিন্তু বৈশাখ মাসের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত দেখা দেওয়ায় পাট চাষ ভালো হয়েছে । বর্তমানে আষাঢ় মাসের শুরুতে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়াতে পাটের চারা তাড়াতাড়ি বাড়তে শুরু করে । সরজমিন মাগুরা সদরের মঘী,রাঘবদাইড়,হাজরাপুর,হাজীপুর,চাউলিয়া ,জগদল ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ,বর্তমানে পাটের চারা ৫-৬ হাত পর্যন্ত লম্বা হয়েছে । এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে ও যথাসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের চাষ ভালো হবে । এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে জেলায় বেশি পাট উৎপাদন হবে বলে তারা আশা বাদী ।
জেলার কৃষি বিভাগ বলছে,চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৫ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে । তার মধ্যে সদরে ১১ হাজার ৫০ হেক্টর,শ্রীপুরে ৯ হাজার ৬২০ হেক্টর,শালিখায় ৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর ও মহম্মদপুরে ১০ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে । এবার উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৮৫ বেল পাট । নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার পাটের চাষ ভালো হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে । আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে এবার পাটচাষীরা এ চাষে বেশি লাভবান হবে ।
মাগুরা সদরের কার্পাসহাটি গ্রামের পাট চাষী বাবলু শিকদার বলেন,এবার আমি ২ একর জমিতে পাটের আবাদ করেছি । শুরু বীজ বোনার পর কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম । অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরার কারণে পাটের চারার কিছুটা ক্ষতি দেখা দিয়ে ছিল কিন্তু বৈশাখ মাসের শেষের দিকে কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়াতে পাটের চারা অনেকাংশে ভালো বৃদ্ধি পেয়েছে । আষাঢ় মাসের শুরুতে বৃষ্টি বেশি হওয়ার ফলে এ চাষে আরো ভালো ফলনের আশা মনে করছি ।
সদরের বাটিকাডাঙা গ্রামের পাট চাষী গণেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন,আমি এবার দেড় একর জমিতে পাটের চাষ করেছি । এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে পাট চাষ ভালো হবে । এ চাষে খরচ কম লাভ বেশি । পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার সময় অনেক সময় আমাদের শ্রমিক সংকট দেখা দেয় । তাই নির্দিষ্ট সময়ে যদি শ্রমিক পায় তাহলে পাট কেটে জাগ দিয়ে ভালো অর্থ পাব ।
মাগুরা সদরের চাউলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙা গ্রামের নাজিম উদ্দিন বলেন,আমি চাষ মুলত পাটের । প্রতি বছরের ন্যায় এবার আমি ৩ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি । আমাদেও গ্রামের পাশ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের পাট জাগ দেওয়া ও তোলা ভালো হয় । আমাদেও পাটের রং খুবই ভালো হয় । তাই আমরা পাটের দামও ভালো পায় । প্রতি বছর বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারিরা আমাদের গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাট আশঁ সংগ্রহ করে । এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে পাটের বাম্পার ফলন বলে বলে মনে করছি ।
মাগুরা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়,চলতি বছর যথাসময়ে বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে পাট চাষ ভালো হয়েছে । এ বছর কৃষি বিভাগ থেকে জেলার পাট চাষীদের কৃষি প্রণোদনার আওতায় ২০ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে পাটের বীজ দেওয়া হয়েছে । এ চাষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে আছে । আমাদের কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও তদারক করছে । তাছাড়া পাট চাষের ব্যাপারে পাটচাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে ।






পাইকগাছায় পরীক্ষামূলক বার্লি চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা
চাকরি ছেড়ে সেলিম এখন কৃষি উদ্যোক্তা; পেয়েছেন সফলতা
মাগুরায় আমের মুকুলে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে প্রকৃতি
মাগুরায় মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে মাঠে জৈব সার প্রয়োগে কৃষকের ব্যস্ত সময়
পাইকগাছায় তীব্র শীতের মধ্যে বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত চাষিরা
রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়ায় নড়াইলে বোরো ধান রোপনের ধুম পড়েছে
মাগুরায় আপেল কুল চাষে ভাগ্যবদল পিকুল লস্করের
উন্মুক্ত মাঠে ছাগল চরিয়ে পালন করা লাভজনক
শীতকালে পাইকগাছায় রাস্তার পাশে গাছের উপর লতা জাতীয় সবজি চাষ জনপ্রিয় ও লাভজনক পদ্ধতি
কেশবপুরে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধ অর্ধশত বিলে বোরো আবাদ অনিশ্চিত 