শুক্রবার ● ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » সুন্দরবন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত হলো
সুন্দরবন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত হলো
প্রকাশ ঘোষ বিধান,পাইকগাছা ঃ সুন্দরবন ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবন উপকূলের খুলনার দাকোপ, কয়রা,পাইকগাছা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনিসহ বিভিন্ন উপজেলায় পহেলা মাঘ বনবিবি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বনবিবি হলেন সুন্দরবন অঞ্চলে মৎস্যজীবী, মধু-সংগ্রহকারী ও কাঠুরিয়া জনগোষ্ঠীর দ্বারা পূজিত এক লৌকিক দেবী। উক্ত জনগোষ্ঠীর মানুষেরা বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বনবিবির পূজা করে। বনবিবি বনদেবী, বনদুর্গা, ব্যাঘ্রদেবী বা বণচণ্ডী নামেও পরিচিত।
বনবিবি অরণ্যের দেবী রূপে কল্পিত এবং অরণ্যচারী মানুষের দ্বারা পূজিত। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি কখনও মুরগি বা কখনও বাঘের রূপ ধারণ করেন। ভক্তবৎসলা এই দেবীর কারও প্রতি আক্রোশ নেই বলেই কথিত। সুন্দরবনের মৎস্যজীবী, বাউয়ালি ও মৌয়ালরা তাঁকে রক্ষয়িত্রী জ্ঞানে পূজা করেন। তাঁদের ধারণা, বনের বাঘ ও ভূত-প্রেত প্রভৃতি অপশক্তির উপর কর্তৃত্ব করেন বনবিবি। তাই গভীর বনে কাঠ, গোলপাতা, মধু ও মোম সংগ্রহ করতে বা মাছ ধরতে যাওয়ার আগে তাঁরা বনবিবির উদ্দেশ্যে সিন্নি, ক্ষীর ও অন্নভোগ নিবেদন করেন। প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিন বনবিবির বাৎসরিক পূজা হয়। এই পূজায় ব্রাহ্মণেরা পৌরোহিত্য করেন না, করেন নিম্নবর্ণীয় হিন্দুরা। বনবিবির পূজায় নিরামিষ নৈবেদ্য নিবেদনের রীতি আছে, বলি হয় না; কখনও বা তাঁর নামে জীবন্ত মুরগি ছেড়ে দেওয়া হয়।
হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বাঘ ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণী থেকে সুরক্ষা পেতে বনবিবি নামক লৌকিক দেবীর আরাধনা করেন। যিনি বনের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হিসেবে পূজিত হন এবং তার সাথে দক্ষিণ রায় ও কালুরায়ের মতো অন্যান্য বনদেবতাদেরও পূজা করা হয়। এই পূজা সাধারণত মাঘ মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় এবং মধু সংগ্রহকারী, বাওয়ালি ও জেলেদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পূজার জন্য বনের ধারে বা লোকালয়ে ছোট ছোট থান (বেদী) তৈরি করা হয়। অনেক সময় বনের ভেতরেও স্থায়ী মন্দির থাকে। পূজায় সাধারণত মাটির তৈরি বনবিবি, তাঁর ভাই শাহ জঙ্গালী এবং শিশু দুখের মূর্তি ব্যবহার করা হয়। পূজাতে সিঁরনি (গুড় ও চালের মিশ্রণে তৈরি এক প্রকার প্রসাদ), বাতাসা এবং মুরগির ডিম বা মাংস (হাজত) উৎসর্গ করা হয়। এই পূজায় সাধারণত কোনো ব্রাহ্মণ পুরোহিতের প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় মুসলমান ফকির বা অ-ব্রাহ্মণ পূজারী পূজা পরিচালনা করেন।
ঐতিহ্যগতভাবে প্রতি বছর মাঘ মাসের শুরুতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সুন্দরবনে প্রবেশ করার আগে বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং মধু বা কাঠ সংগ্রহের সময় সুরক্ষা পাওয়ার জন্য বনবিবিকে স্মরণ ও পূজা করা হয়। মানুষজন বনবিবিকে ফুল, ফল, মিষ্টি ও মোমবাতি নিবেদন করেন এবং তাদের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করেন।






পলিথিন ও প্লাস্টিক সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি
সুন্দরবনে বনদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে
সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়া বাঘ উদ্ধার
প্রজনন মৌসুম সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু
লোনাপানির সুন্দরবন ও উপকূলীয় বালুচরে নিচে লুকিয়ে আছে মিঠাপানির ভান্ডার
সুন্দরবনে নিখোঁজের দুইদিন পর প্রবাসী নারী পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার
সুন্দরবনে রাস পূজায় আটক ৩২ হরিণ শিকারিকে কারাগারে প্রেরণ
পাইকগাছায় প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে বনজীবিদের দক্ষতা ও উন্নয়ন কর্মশালা
সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উৎসব ৩ নভেম্বর থেকে শুরু 