শিরোনাম:
পাইকগাছা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

SW News24
রবিবার ● ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট ডে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » ৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট ডে
৩৭ বার পঠিত
রবিবার ● ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট ডে

 --- প্রকাশ ঘোষ বিধান

৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট ডে। প্রতিবছর এই দিনটিতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ একে অপরকে চকলেট উপহার দিয়ে নিজেদের সম্পর্কের মিষ্টতা উদযাপন করেন। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের তৃতীয় দিনটি হল চকলেট ডে। ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি প্রপোজ ডে-র রেশ কাটতে না কাটতেই চকলেট ডে-র দিনটির আগমন ঘটে। চকলেট ডে হলো ভালোবাসা এবং মিস্টি সম্পর্কের প্রতিক। এই দিনে মানুষ তাদের প্রিয়জনদের চকোলেট উপহার দিয়ে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশ করে। এটি ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রতি বছর ৯ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়।

ভালোবাসার মাস ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে রয়েছে কত দিবস। রোজ ডে দিয়ে শুরু হয়েছে ভ্যালেন্টাইনস উইক। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের তৃতীয় দিনে ৯ ফেব্রুয়ারি চকোলেট দিবস উদযাপিত হয়। চকলেট পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। গবেষণাতেও দেখা গেছে, চকলেটের স্বাদ মনের কষ্ট ভোলাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে আনন্দের অনুভূতিও বাড়ায়।

ভালোবাসার প্রকাশের অনুভুতি নানা রকমের, সবচেয়ে মিষ্টি প্রকাশগুলোর একটি হলো চকলেট উপহার দেওয়া। আর সেই মিষ্টতাকে উৎসবমুখর করে তোলে চকলেট ডে। ভ্যালেন্টাইন উইকের অন্যতম জনপ্রিয় দিন হলো চকলেট ডে। এদিন প্রিয়জনকে দেওয়া হয় ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে চকলেট আর মিষ্টি কিছু কথা। কেউ চকলেট দিয়ে রাগ ভাঙায়, কেউ করে বন্ধুত্ব গাঢ়, আবার কেউ চুপিচুপি জানিয়ে দেয় মনের লুকানো কথা।

চকোলেটের ইতিহাস কয়েক হাজার বছর পুরোনো। প্রাচীন মায়া এবং অ্যাজটেক সভ্যতায় চকোলেট পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হত। তারা কোকো বীজ থেকে তৈরি এই পানীয়কে ঈশ্বরের খাদ্য মনে করত এবং এটি বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহার করত।

ভিক্টোরিয়ার যুগে চকলেট প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে উপহার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইউরোপ ও আমেরিকায় ভালোবাসা জানানোর অন্যতম উপহার ছিল এই মিষ্টি। ১৬ শতকে স্প্যানিশরা আমেরিকা থেকে চকোলেট ইউরোপে নিয়ে আসে। প্রথমে এটি অভিজাতদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও পরে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের কাছেও এটি প্রিয় হয়ে ওঠে। জে এস ফ্রাই অ্যান্ড সন্স সংস্থা প্রথম ১৮৪৭ সালে শক্ত চকোলেট তৈরি শুরু করল। এরপর ১৮৪৯ সালে রিচার্ড ক্যাডবেরি শুরু করেন চকলেট তৈরি। ১৯ শতকে ক্যাডবেরি এবং হার্শি-হার্শে -এর মতো কোম্পানিগুলো চকোলেট উৎপাদন শুরু করলে এটি আরও সহজলভ্য হয়ে যায়।

১৯৫০ সাল থেকে জাপানে ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে চকলেট উপহার দেওয়ার প্রথা শুরু হয় মোরোজফ নামের এক চকলেট প্রস্তুতকারী কোম্পানির হাত ধরে। তবে ওই দেশে কেবল প্রেমিকারাই চকলেট উপহার দেন পুরুষদের। এভাবেই শুরু হল চকোলেট ডের পথচলা। যা উনিশ শতক পার করে একুশ শতকেও সমান জনপ্রিয়। ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মিষ্টি উপায় হলো চকোলেট উপহার।

৯ ফেব্রুয়ারি চকলেট দিবস পালন করা হলেও বিশ্বের কিছু স্থানে ভিন্ন ভিন্ন দিনে চকলেট দিবস পালন করা হয়। সে অনুযায়ী বিশ্ব ক্যালেন্ডারে ৯ ফেব্রুয়ারি ছাড়া আরও ১০ বার চকলেট ডে পালন করা হয়। সে অনুযায়ী ৭ জুলাই বিশ্ব চকলেট দিবস পালন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ সেপ্টেম্বরকে ইন্টারন্যাশনাল চকলেট ডে-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনে ২৮ অক্টোবর দেশটির বাসিন্দারা জাতীয় চকলেট দিবস পালন করে। হালকা তেতো-মিষ্টি চকলেটের দিবস ১০ জানুয়ারি, দুধের স্বাদের চকলেট ডে-র জন্য ২৮ জুলাই, সাদা রঙের চকলেট ডে’র জন্য ২০ সেপ্টেম্বর, টুকরো টুকরো চকলেটের জন্য ১৫ মে, আইসক্রিম চকলেটের জন্য ৭ জুন, চকলেট মিল্ক সেকের জন্য ১২ সেপ্টেম্বর দেখা যায়। এছাড়াও যেকোনো উপকরণ দিয়ে সাজানো চকলেট ডে’র জন্য ১৬ ডিসেম্বর চকলেট দিবস পালন করা হয়।

চকলেট শুধু খেতেই মিষ্টি নয়, উপহার হিসেবেও খুব মিষ্টি। সুন্দর উপহার হিসেবে চকলেট অতুলীনয়। চকলেট খুব সহজেই উপহার দেওয়া যায়। প্রেমিকার রাগ কমাতে চকলেট খুব কাজ করে। চকলেট যেমন অভিমান ভাঙতে পারে, তেমনই পারে দেয়া-নেয়ার সম্পর্কও আরও মধুর করতে। দীর্ঘ সময় ধরে এই মিষ্টি উপহারটি প্রেমের সম্পর্ক অটুট রাখতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

চকোলেট ডে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য নয়। বরং বন্ধু, পরিবার এবং প্রিয়জনদের সাথেও এই দিনটি উদযাপন করা যায়। চকোলেট ডে একটি মিষ্টি এবং আনন্দময় দিন। যা ভালোবাসার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

লেকক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট





আর্কাইভ