রবিবার ● ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা এক চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে উপকূলবাসী। কাজের সন্ধানে তারা শহরে পাড়ি জমাচ্ছে, যা জলবায়ু উদ্বাস্তু ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের জীবন ও জীবিকা ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ফসলি জমিতে লোনা পানি ঢোকা এবং নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ও পেশা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কৃষিজমিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে এবং কৃষকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।
উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারানোর প্রধান কারণসমূহ হলো; লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের পানি বেড়ে উপকূলীয় এলাকায় লোনা পানি ঢুকে পড়ছে, ফলে কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে এবং মিষ্টি পানির অভাব দেখা দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: ঘন ঘন সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং মৎস্য ঘের ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙন: উপকূলীয় নদীগুলোর ভাঙনে প্রতিবছর অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। মৎস্যসম্পদ হ্রাস: সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ও অম্লতা পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা জেলেদের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে।
জীবিকা হারিয়ে অনেকেই কাজের সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছে, যার ফলে চট্টগ্রাম ও খুলনার মতো উপকূলীয় নগরগুলোতে বস্তি ও প্রান্তিক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আয় কমে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় দরিদ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং লোনা পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগ ও পেটের পীড়া বাড়ছে। বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ভেঙে পড়ছে এবং শিশুদের শৈশব বিপন্ন হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ বাসস্থান হারাতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে পারে। জীবিকার সংকটে উপকূলীয় নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকে পরিবারের প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ শ্রমে নিযুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন।কৃষিনির্ভর এলাকার মানুষ কাজ হারিয়ে শহরমুখী হওয়ায় জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল চাষ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।






ফুলের মৌসুম বসন্ত
রূপালী-ধূসর ধাতু ইউরেনিয়াম
নারী দিবসের গুরুত্ব
সুন্দরবনের গোলপাতা ও ফল উপকূলীয় অর্থনিতিতে গুরুত্বপূর্ণ
নদীর অধিকার রক্ষায় মানুষ দায়বদ্ধ
সাংবাদিক,কলামিস্ট এবং লেখক প্রকাশ ঘোষ বিধান
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের ভূমিকা অপরিসীম
অতিরিক্ত তেলে ভাজা ইফতার সামগ্রী স্বাস্থের জন্য ঝুঁকি
একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার প্রতি ভালবাসার দিন 