শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
রবিবার ● ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে
প্রথম পাতা » মুক্তমত » জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে
৮ বার পঠিত
রবিবার ● ১৫ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা এক চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে উপকূলবাসী। কাজের সন্ধানে তারা শহরে পাড়ি জমাচ্ছে, যা জলবায়ু উদ্বাস্তু ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের জীবন ও জীবিকা ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ফসলি জমিতে লোনা পানি ঢোকা এবং নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ও পেশা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কৃষিজমিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে এবং কৃষকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারানোর প্রধান কারণসমূহ হলো; লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের পানি বেড়ে উপকূলীয় এলাকায় লোনা পানি ঢুকে পড়ছে, ফলে কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে এবং মিষ্টি পানির অভাব দেখা দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: ঘন ঘন সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং মৎস্য ঘের ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙন: উপকূলীয় নদীগুলোর ভাঙনে প্রতিবছর অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। মৎস্যসম্পদ হ্রাস: সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ও অম্লতা পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা জেলেদের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে।

জীবিকা হারিয়ে অনেকেই কাজের সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছে, যার ফলে চট্টগ্রাম ও খুলনার মতো উপকূলীয় নগরগুলোতে বস্তি ও প্রান্তিক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আয় কমে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় দরিদ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং লোনা পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগ ও পেটের পীড়া বাড়ছে। বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ভেঙে পড়ছে এবং শিশুদের শৈশব বিপন্ন হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে,  এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ বাসস্থান হারাতে পারে। উপকূলীয় অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে পারে। জীবিকার সংকটে উপকূলীয় নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকে পরিবারের প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ শ্রমে নিযুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন।কৃষিনির্ভর এলাকার মানুষ কাজ হারিয়ে শহরমুখী হওয়ায় জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা বাড়ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল চাষ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।





আর্কাইভ