শিরোনাম:
পাইকগাছা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

SW News24
সোমবার ● ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » ঈদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনে রেড এ্যালার্ট; বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল
প্রথম পাতা » সুন্দরবন » ঈদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনে রেড এ্যালার্ট; বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল
২২ বার পঠিত
সোমবার ● ১৬ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঈদে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনে রেড এ্যালার্ট; বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

---সুন্দরবনের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদে ছুটি পাচ্ছেন না। বন রক্ষার সার্থে ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ কর্মস্থলেই থাকতে হবে তাদের। দীর্ঘ এই ছুটির ফাঁকে যাতে কোনো প্রকার বন অপরাধ সংঘটিত না হয় সে লক্ষ্যে পূর্ব সুন্দরবনে রেড এ্যালার্ট জারি করেছে বনবিভাগ। সুন্দরবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাদের সবাইকে ঈদে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ, স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতেই থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে বনজ সম্পদ রক্ষায় অতীতের তুলনায় বনের অভ্যন্তরে টহল আরও বেশি জোরদার করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১৬ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন বিভাগের কেউই নিজ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। সুন্দরবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তাই এবার তাদের ঈদ করতে হবে পরিবারবিহীন নির্জন বনাঞ্চলে।

সুন্দরবন বন বিভাগ বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণে নিয়োজিত প্রধান প্রশাসনিক সংস্থা। যা মূলত পূর্ব ও পশ্চিম দুটি প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত। এটি খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় বিস্তৃত ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা দেখাশোনা, পাহারা ও নিয়ন্ত্রণ করে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে দুইটি রেঞ্জ রয়েছে। একটি হলো খুলনা আর অপরটি হলো সাতক্ষীরা। এই দুই রেঞ্জ কার্যালয়ের আওতায় রয়েছে ৯টি স্টেশন ও ৩০টি টহল ফাঁড়ি। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিশাল এলাকাজুড়ে মোট জনবল রয়েছে প্রায় ৩শ জন। যেখানে জনবলের চাহিদা ৫শ জনের অধিক।

চাহিদার তুলনায় কম জনবল দিয়ে বিশাল বন পাহারা দিতে হচ্ছে। যেকোনো ছুটির সময়ে দুর্বৃত্তরা বনের সম্পদ লুটপাট ও ধ্বংসের সুযোগ নিতে চায়। এ কারণে এ বছরও সুন্দরবনের অভ্যন্তরের সব ফরেস্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করে নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় ছুটিকালীন টহল জোরদারের পাশাপাশি কঠোর নজরদারির ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছুটির সময়ে কোনো দুর্বৃত্ত যাতে বনের অভ্যন্তরে ঢুকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে সেজন্য রেঞ্জগুলোতে অত্যাধুনিক দ্রুতগামী স্পিডবোট এবং ফাইবারবোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসের কাঠের তৈরি ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা তো রয়েছেই।

খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষণ (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বনের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রেঞ্জ কার্যালয় জরুরি সভার মাধ্যমে স্ব স্ব স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নিদর্শনা দেওয়া হয়েছে। এবার পুরো সুন্দরবন নিরাপত্তা বলয় রাখার চেষ্টা চলছে। স্মার্ট পেট্রোলিংসহ ফুট পেট্রোলিং চলমান রাখা হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির ফাঁকে সুন্দরবনে হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকার, বিষ প্রয়োগে মৎস্য আহরণ বন্ধ এবং অগ্নিকান্ড প্রতিরোধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কারণে বনরক্ষীরা এবারেও ইদের ছুটি ভোগ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বছরও ঈদের সময় বনরক্ষীরা কেউই ছুটি ভোগ করেননি।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সব কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাবেন আর বনবিভাগের কর্মীরা বনজ সম্পদ রক্ষার তাগিদে বনের গহীনে নির্জনে পরিবারবিহীন ঈদ করবেন।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্মার্ট টিমের বিশেষ টহল এবং বনরক্ষীদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে। সব ধরনের বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঈদের ছুটি চলাকালীন সুন্দরবন বিভাগে উচ্চ সতর্কতা বা রেড এ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)