রবিবার ● ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রুপান্তর প্রয়োজন
পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রুপান্তর প্রয়োজন
প্রকাশ ঘোষ বিধান
জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে বায়ু দূষণ হ্রাস করে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ রূপান্তর বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলো প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত শক্তি যা ক্রমাগত প্রাকৃতিকভাবে পুনর্নবীকরণ হয়। সৌরশক্তি, বায়ু, জলবিদ্যুৎ এবং জৈবশক্তি এর মূল উৎস। এটি পরিবেশবান্ধব, কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় টেকসই। প্রধান নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসগুলো হলো সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ ও বায়োমাস। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর মানুষের আস্থা ক্রমান্বয়ে উঠে যাচ্ছে, আর নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ালে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিবেশবান্ধব এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে না। কয়লা বা তেলের ব্যবহার কমালে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগ হ্রাস পায়। জীবাশ্ম জ্বালানির মজুদ সীমিত এবং এটি আমদানিনির্ভর হতে পারে। অন্যদিকে, রোদ বা বাতাসের মতো প্রাকৃতিক উৎসগুলো অফুরন্ত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রাকৃতিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয় এবং আবার ব্যবহার করা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি সীমিত এবং একসময় শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু নবায়নযোগ্য উৎস প্রাকৃতিকভাবেই পুনঃপুন উৎপন্ন হয়।
পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌর, বায়ু ও বায়োগ্যাসের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি অপরিহার্য। সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ পরিবেশবান্ধব এবং কোনো ক্ষতিকর বর্জ্য তৈরি করে না, ফলে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত হয়। এটি ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে বায়ু দূষণ রোধ করে।নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রধান উৎসসমূহ হলো; সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর। উইন্ড টারবাইন ব্যবহার করে বাতাসের গতি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। পানির স্রোত কাজে লাগিয়ে বড় পরিসরে বিদ্যুৎ তৈরি। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পানি থেকে হাইড্রোজেন তৈরি, যা ভারি শিল্পে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
চ্যালেঞ্জসমূহ: রোদ বা বাতাস সবসময় থাকে না, তাই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জমা রাখার জন্য উন্নত ও সাশ্রয়ী ব্যাটারি প্রযুক্তি প্রয়োজন। সোলার পার্ক বা উইন্ড ফার্ম স্থাপনের প্রাথমিক খরচ জীবাশ্ম জ্বালানি কেন্দ্রের তুলনায় বেশি হতে পারে। বর্তমান বিদ্যুৎ গ্রিডগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির উপযোগী করে তৈরি, যা আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৪০ ভাগ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে সোলার হোম সিস্টেম এবং বড় আকারের সোলার পার্ক স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এই রূপান্তর শুধু পরিবেশ রক্ষা নয় বরং ভবিষ্যতের টেকসই অর্থনীতির জন্যও অপরিহার্য।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তিগুলো এখন জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে সস্তা এবং আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা যেতে পারে। যা হবে পরিবেশবান্ধব, ক্ষতিকারক কার্বন নিঃসরণ অনেক কম এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সহায়ক।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট






বাদুড় কৃষি ও প্রকৃতির অপরিহার্য প্রাণী
শিকারি সাংবাদিকতা
ভিউ বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য ; সংকটে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা
মানুষের নামে পশুর নাম রাখা মানবমর্যাদার অপমান
সমাজের ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাপক
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল লক্ষ্য
সড়কে অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকারে বাড়ছে দুর্ঘটনা
বিশ্ব সাইকেল দিবস 