রবিবার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » এনজিও কর্তৃক প্রশিক্ষণে সঠিক বিষয়ে সঠিক সাংবাদিক নির্বাচন জরুরি
এনজিও কর্তৃক প্রশিক্ষণে সঠিক বিষয়ে সঠিক সাংবাদিক নির্বাচন জরুরি
এনজিও গবেষণা বা উন্নয়নমূলক সংস্থা যখন সাংবাদিকদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ বা ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করে, তখন সঠিক বিষয়ে সঠিক সাংবাদিক নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল সাংবাদিক নির্বাচনের ফলে প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের অপচয় ঘটে। ভুল মনোনয়ন প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে। সেই প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
বর্তমান সময়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা এবং শিশু অধিকারের মতো জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওগুলো নিয়মিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে সাংবাদিক যে বিষয়ে কাজ করেন না, তাকে সেই বিষয়ের প্রশিক্ষণে পাঠানো হচ্ছে। সাংবাদিক নির্বাচনে অপরাধ, রাজনীতি, পরিবেশ, বা অর্থনীতি যার যা নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্র, তাকে সেই বিষয়ের প্রশিক্ষণের জন্যই নির্বাচিত করতে হবে। প্রশিক্ষণের জন্য সাংবাদিক ডাকার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা বা আগ্রহ আছে কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, অর্থনীতি বা স্বাস্থ্য খাতের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিটের সাংবাদিকদের ডাকা উচিত। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা পরিভাষা এবং জটিল বিষয়গুলো সহজে বোঝেন। ফলে তারা সাধারণ মানুষের কাছে তথ্যগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন।
একজন অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিককে যদি পরিবেশ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে তিনি ভবিষ্যতে হয়তো সেই বিষয়ে আর লিখবেন না। পক্ষান্তরে, পরিবেশ বিটের সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেলে তিনি নিয়মিত এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করবেন, যা সমাজের দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ এবং সময় তখনই সার্থক হয় যখন অংশগ্রহণকারী তা নিজের পেশাগত কাজে প্রয়োগ করতে পারেন। বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকলে সাংবাদিকরা প্রশিক্ষণে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন, যা সামগ্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আমন্ত্রিত সাংবাদিক কোন বিভাগে নিয়মিত কাজ করছেন তা আগে থেকে যাচাই করা। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের পূর্ব প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন বা কাজের ধরন দেখে নেওয়া। তিনি যে গণমাধ্যমে কাজ করছেন, সেটি এই ধরনের সংবাদ প্রকাশে কতটা আগ্রহী তা বিবেচনা করা।
মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপজেলা বা জেলা প্রতিনিধি এবং জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা দরকার, যাতে তৃণমূলের পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও সংবাদটি পৌঁছায়। পক্ষপাতহীন, বস্তুনিষ্ঠ এবং অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকতার রেকর্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নির্বাচন করা উচিত। বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী যারা প্রিন্ট, অনলাইন, টেলিভিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সমানভাবে কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন, তাদের যুক্ত করা ফলপ্রসূ হয়।
এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের কাজের চিত্র এবং তাদের গবেষণা প্রতিবেদনের মূল বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত প্রচারের প্রয়োজন হয়। সঠিক সাংবাদিকরা রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারেন, যা এনজিওর মূল লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে।
সম্পাদক বা বার্তা কক্ষের প্রধানদের উচিত কেবল কোটা পূরণের জন্য কাউকে না পাঠিয়ে, সঠিক কর্মীকে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। একজন উপযুক্ত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেলে তিনি সেই লব্ধ জ্ঞানকে তার মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে কাজে লাগাতে পারেন, যা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের গুণগত মান বাড়ায়। এনজিওদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান এবং সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন তখনই সফল হবে, যখন সঠিক বিষয়ের জন্য সঠিক মানুষটিকে নির্বাচন করা সম্ভব হবে। এতে করে কেবল এনজিওর বাজেট বা উদ্দেশ্যই সফল হবে না, বরং দেশের গণমাধ্যমও দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক তৈরিতে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
এনজিও বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার, প্রসার এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সাংবাদিকদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এই প্রশিক্ষণের প্রকৃত সুফল পেতে হলে সঠিক ও যোগ্য সাংবাদিক নির্বাচন করা জরুরি।






মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীর গুরুত্ব
এনজিও কর্তৃক সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কতটা যুক্তিযুক্ত
পাটকাঠি জ্বালানি থেকে বাণিজ্য
পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় ওজোন স্তরের ভূমিকা অনস্বীকার্য 