শনিবার ● ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » নিরাপদ খাদ্য সবার জন্য জরুরি
নিরাপদ খাদ্য সবার জন্য জরুরি
প্রকাশ ঘোষ বিধান
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয়ক ইস্যু খাদ্য নিরাপত্তা। খাদ্য মানুষের জীবন-মৃত্যুর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তাই তা নিরাপদ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের প্রতিটি কোষ খাদ্য থেকে শক্তি ও পুষ্টি গ্রহণ করে। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য মানুষকে সুস্থ-সবল ও কর্মক্ষম রাখে এবং দীর্ঘ জীবন বাড়ায়। ভেজার খাদ্য মানুষকে রোগাক্রান্ত, দুর্বল, অক্ষমরূপে বেড়ে উঠতে বাধ্য করে, তার আয়ুষ্কাল কমায় এমনকি মানুষের মৃত্যুও ঘটায়। খাবার যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে তা শরীরের সুস্থতার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে পড়ে। একারণে মানুষের জীবনে নিরাপদ খাদ্যের প্রয়োজন অনেক বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রতি ১০ জন মানুষের মাঝে একজন অনিরাপদ খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সীরা, অপেক্ষাকৃত কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ এই সমস্যায় বেশি শিকার হয়।
নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার মানুষের মৌলিক অধিকার। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা এই পাঁচ মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্ন তথা খাদ্যের অধিকার মানুষের সবার আগে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গত বছরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের তৈরি দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক কারণে সারা বিশ্বে মানুষ খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টির অভাবে ভুগছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গেও খাদ্যনিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট। কেমিক্যাল ঝুঁকি, জৈবিক ও শারীরিক মাধ্যমে খাদ্য দূষণ হতে পারে। এ অনিরাপদ খাবার খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়।
সারা বিশ্বে ৬০ কোটি মানুষ অনিরাপদ খাদ্য দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। আইসিডিডিআরবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে ক্যানসার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক প্রতিবেদনে এসেছে, ৪০ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল রয়েছে। এ ছাড়া বাজারে পাওয়া ৬০ শতাংশ শাকসবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক পাওয়া গেছে। ভেজাল খাদ্য ৩৩ শতাংশ মানুষের বিভিন্ন রোগ এবং পাঁচ বছর বয়সের নিচে ৪০ শতাংশ শিশুর অসুস্থতার প্রধান কারণ। ভেজাল ও দূষিত খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
দেশের অধিকাংশ জেলার মাটিতে প্রয়োজনীয় জৈব উপাদানের অভাবে অনিরাপদ ফসল উৎপাদন খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিরাপদ হলে খাদ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে। খাদ্যের উৎস মূলত দুটি। একটি উদ্ভিজ্জ, অপরটি প্রাণিজ উৎস। খাদ্যের মূল উৎপত্তি মাটিতে। ফসল উৎপাদনে মাটিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। মাটিকে অনিরাপদ খাবার দেওয়া হলে গাছও তাই গ্রহণ করবে। মাটিকে সুস্থ রাখতে পারলে খাদ্যের নিরাপত্তায় পরিবর্তন আসবে।
কৃষিব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে গেছে। কৃষকেরা সকালে কীটনাশক ব্যবহার করে বিকেলে ফসল তোলেন। এতে যেমন খাদ্য বিষাক্ত হচ্ছে, পাশাপাশি পরিবেশ, মাটি, পানি, বাতাস সব বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য কৃষকদের স্বাস্থ্যহানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ভোক্তারাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এ জন্য ভোক্তাদের সচেতনতার ব্যাপারে সব মহলকেই কাজ করতে হবে।
কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে শুধু কৃষিতে ক্ষতি হচ্ছে না, গবাদিপশু পালনে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক পুকুর, নদী ও নালায় মিশে মাছের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এমনকি মাছ ধরার জন্য কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে, যা নিরাপদ খাদ্যের জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভালো চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
পোলট্রি, পশুপালন, মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের খাদ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কৃত্রিম রঙের ব্যবহার হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে ভোক্তাদের জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব আছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশে খাদ্যবাহিত রোগ এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ডায়রিয়া, টাইফয়েড, আমাশয়, হেপাটাইটিস-এ, ফুড পয়জনিং ইত্যাদি রোগের অন্যতম কারণ হলো অপরিষ্কার খাদ্য, দূষিত পানি, ভুল সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাতকরণ। ঘনবসতি, রাস্তার খাবারের জনপ্রিয়তা ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। খাদ্যের মাধ্যমে রোগজীবাণু পরিবাহিত হয়ে কোনও ব্যক্তি বা পশুর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। প্রধান প্রধান রোগজীবাণুগুলি হল ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছাতা ও ছত্রাক।
সুস্থ জীবন পেতে হলে নিরাপদ খাদ্য অপরিহার্য। সুস্থ জীবনযাত্রা গড়ে তুলতে হলে আমাদের খাদ্য নির্বাচন, সংরক্ষণ এবং প্রস্তুত প্রণালী সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য শুধু আইন বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়, এটি ভোক্তা, উৎপাদক, বিক্রেতা ও নিয়ন্ত্রক সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট






২৫ মার্চ কালো রাতের ভাবনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা
নাট্যকলা; দর্শকদের সামনে মঞ্চে বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনার অভিনয়
পথশিশুদের ঈদ রঙ্গিন ও আনন্দময় হোক
বুদ্ধিমান প্রাণী শিয়াল
শিয়াল লেজের গোড়ার গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায় ও কুকুর এলাকা চিহ্নিত করে
পানিই জীবন
বন ও গাছের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে
ফুলের মৌসুম বসন্ত
রূপালী-ধূসর ধাতু ইউরেনিয়াম 