বৃহস্পতিবার ● ২৬ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » মানুষের মন খারাপ হওয়া আবেগীয় প্রক্রিয়া
মানুষের মন খারাপ হওয়া আবেগীয় প্রক্রিয়া
প্রকাশ ঘোষ বিধান
মন খারাপ হওয়া মানুষের জন্য একেবারেই স্বাভাবিক। মন খারাপ হওয়া মানুষের একটি স্বাভাবিক আবেগীয় প্রক্রিয়া। এটি সাধারণত সাময়িক এবং বিভিন্ন কারণে হতে পারে। অনেকেরই কোনো কারণ ছাড়াই মন খারাপ হয়। কারণে বা অকারণে যে কারও মন খারাপ হতেই পারে। সুস্থ মানুষের জীবনে দুঃখবোধ হওয়া এবং মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক ঘটনা।
মানুষের তো কখনো এমনও হয় যে কোনো কাজেই মন বসে না। জীবনটাই অর্থহীন বলে মনে হয় কারো কারো, অনেক সময় ভুগতে পারি তীব্র বিষণ্নতায়। হাস্যোজ্জ্বল ও স্বতঃস্ফূর্ত থাকে এমন সব ইতিবাচক ব্যক্তিরাও ভালো না লাগা অসুখে ভোগেন।
মন খারাপ আর বিষণ্নতা এক নয়। সাধারণ মন খারাপ বা স্যাডনেস, সেটা কিন্তু বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন নয়। দুঃখবোধ একটি মৌলিক আবেগ। সুস্থ মানুষের জীবনে দুঃখবোধ হওয়া এবং মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক ঘটনা। মন খারাপ বা স্যাডনেস হচ্ছে মানুষের একটি স্বাভাবিক আবেগ। অন্য দিকে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন হচ্ছে সেই আবেগের অস্বাভাবিক বা দীর্ঘমেয়াদি বহিঃপ্রকাশ। অনেক সময় আমরা মন খারাপকে বিষণ্নতা মনে করে মুষড়ে পড়ি, আবার বিষণ্নতাকে সামান্য মন খারাপ ভেবে গুরুত্ব দিই না। এই দুটো বিষয়ের কিছু পার্থক্য রয়েছে।
মন খারাপ: মন খারাপ কোনো রোগ নয়। যেকোনো ক্ষতি বা আঘাতের পর মন খারাপ বা দুঃখবোধ একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। মন খারাপ সাধারণত ক্ষণস্থায়ী। বেশির ভাগ সময়ই মন খারাপের কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। মন খারাপের জন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।
বিষণ্নতা: বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন আবেগজনিত একটি মানসিক রোগ। বিষণ্নতা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী। বিষণ্নতা রোগে মন খারাপ, কোনো কাজে আগ্রহের অভাব, কোনো কিছু করতে ভালো না লাগা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, হঠাৎ রেগে যাওয়া এমন। বিষণ্নতার সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে, কমপক্ষে দুই সপ্তাহজুড়ে দিনের বেশির ভাগ সময় মন খারাপ থাকা। বিষণ্নতার কারণ সব সময় জানা যায় না, কখনো কারণ থাকেও না। বিষণ্নতা রোগের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। বিষণ্নতায় ভোগা, উদাস হয়ে থাকা, মন খারাপ ও মেজাজ খিটখিটে ভাব সব মানুষের ক্ষেত্রেই কম বেশি হয়ে থাকে।
আমাদের সবারই বিভিন্ন কারণে মন খারাপ হয়ে থাকে। কিন্তু তা যদি বারবার ঘটে এবং কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ মন খারাপ থাকে তাহলে তা একটু চিন্তারই বিষয়। কারণ কারণ ছাড়া ঘন ঘন মেজাজের পরিবর্তন স্বাভাবিক কিছু নয়। এই সমস্যাটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মুড ডিজঅর্ডার বলে।
সাধারণভাবে কয়েকটা বিষয় মন খারাপের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা: পড়াশোনা, কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে দীর্ঘক্ষণ মানসিক চাপ থাকলে মন খারাপ হতে পারে। সম্পর্কের টানাপোড়েন: পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব বা ঝগড়া হলে মনে কষ্ট ও বিষণ্ণতা তৈরি হয়। হতাশা ও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া: অনেক চেষ্টা করেও সফল না হলে বা পছন্দের কোনো কিছু না পেলে মানুষ ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে। মুড সুইং : অনেক সময় হরমোনের পরিবর্তন বা মানসিক ক্লান্তির কারণে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ মেজাজ বদলে যায় এবং মন খারাপ লাগে। শারীরিক কারণ: পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, পুষ্টিকর খাবারের অভাব বা দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতাও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবেশগত পরিবর্তন: হঠাৎ নতুন কোনো পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, প্রিয় কারো মৃত্যু বা জীবনের বড় কোনো পরিবর্তন মন খারাপের কারণ হতে পারে।
বিষণ্ণতা : যদি দীর্ঘদিন কোনো কারণ ছাড়াই মন খারাপ থাকে এবং কোনো কিছুতেই ভালো না লাগে, তবে তা মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি বা বিষণ্ণতার লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় মন খারাপকে আমরা বিষণ্নতা মনে করে মুষড়ে পড়ি, আবার বিষণ্নতাকে সামান্য মন খারাপ ভেবে গুরুত্ব দিই না।
মন খারাপ কোনো রোগ নয়। একটি মৌলিক আবেগ। বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন আবেগজনিত একটি মানসিক রোগ। বিষণ্নতা রোগের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।
মন আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন। যে কোনো সময় মন খারাপ হতে পারে। মন খারাপ থাকলে শরীরও খারাপ হয়। শরীর আর মন একে অপরের পরিপূরক। মনকে যে কোনো ধরনের উদ্বেগ থেকে মুক্ত রাখা মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য অতীব জরুরি।
লেখক ; সাংবাদিক ও কলামিস্ট






২৫ মার্চ কালো রাতের ভাবনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা
নাট্যকলা; দর্শকদের সামনে মঞ্চে বাস্তব বা কাল্পনিক ঘটনার অভিনয়
পথশিশুদের ঈদ রঙ্গিন ও আনন্দময় হোক
বুদ্ধিমান প্রাণী শিয়াল
শিয়াল লেজের গোড়ার গ্রন্থির দুর্গন্ধ দিয়ে শত্রু তাড়ায় ও কুকুর এলাকা চিহ্নিত করে
পানিই জীবন
বন ও গাছের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা হারাচ্ছে
ফুলের মৌসুম বসন্ত 