রবিবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » উপকূলীয় অঞ্চল
উপকূলীয় অঞ্চল
উপকূলীয় অঞ্চল বলতে মূলত সমুদ্র বা বড় কোনো জলাশয়ের তীরবর্তী এলাকাকে বোঝায়। যেখানে স্থলভাগ ও জলভাগের সরাসরি সংযোগ ঘটে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশের উপকূলীয় রেখা প্রায় ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা টেকনাফের নাফ নদীর মোহনা থেকে সাতক্ষীরার রায়মঙ্গল নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। সমতল ও সৈকত ৩১০ কিমি, সুন্দরবন ১২৫ কিমি, নদী মোহনা ও দ্বীপমালা ২৭৫ কিমি। মোট ১৯টি জেলা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলো প্রধান।
ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটি তিনটি ভাগে বিভক্ত: পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল, কেন্দ্রীয় উপকূলীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল। সমুদ্র ও স্থলভাগের সংযোগস্থল, যা ভূমিরূপ পরিবর্তনের একটি গতিশীল এলাকা। মাটি সাধারণত পলি দোআঁশ প্রকৃতির এবং এতে লবণাক্ততা ও জৈব পদার্থের পরিমাণ কম থাকে। উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানি ও মিষ্টি পানির মিশ্রণ দেখা যায়। এখানে জোয়ার-ভাটার প্রভাব অত্যন্ত বেশি।
উপকূলীয় অঞ্চল হলো সমুদ্র ও স্থলভাগের মিলনস্থল, যা জোয়ার-ভাটা, লোনা পানি এবং ক্রমাগত ভূমি পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হয়। এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মৃদু ঢালু ভূমি, ম্যানগ্রোভ বন, পলি দোআঁশ মাটি, উচ্চ লবণাক্ততা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণতা। এখানে ভূমিরূপ প্রায়শই পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ১৯টি জেলা নিয়ে গঠিত, যা দেশের মোট ভূমির প্রায় ২০ শতাংশ। দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ এই অঞ্চলে বাস করে। এখানে চট্টগ্রাম ও মোংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার অবস্থিত। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর, সুন্দরবন, এবং মৎস্য ও পর্যটন শিল্প এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন অবস্থিত, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। তবে লবণাক্ততা বাড়ার কারণে সুপেয় পানির অভাব ও ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চল নানা সমস্যার সম্মুখীন। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পানির তীব্র লবণাক্ততা, সুপেয় পানির অভাব এবং ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস অন্যতম। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা মৎস্য চাষ, মধু আহরণ, মাছ ধরা, চিংড়ি চাষ, লবণ উৎপাদন এবং সমুদ্রবন্দর ভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই অঞ্চলে জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।






ধরিত্রী আমাদের অস্তিত্বের একমাত্র আধার
ভক্তের হরির লুঠ আর লুটপাটের হরিলুট
গ্রামীণ মেলা রঙ্গাতে মৃৎশিল্প
শুষ্ক মৌসুমে উপকূলীয় অঞ্চলে খাবার পানির তীব্র সংকট
শিক্ষকের মর্যাদা ও মান উন্নয়ন দরকার
দুর্যোগের মৌসুম শুরু; উপকূলে বাড়ছে আতঙ্ক
চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব
অটিজম কোনো রোগ নয়; মস্তিষ্কের বিকাশজনিত বিশেষ অবস্থা 