শিরোনাম:
পাইকগাছা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

SW News24
সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা প্রয়োজন
প্রথম পাতা » মুক্তমত » শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা প্রয়োজন
৬ বার পঠিত
সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা প্রয়োজন

শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। শব্দদূষণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। শব্দদূষণের কারণে শুধু শ্রবণশক্তিই নয়, উচ্চরক্ত চাপ, মাথাধরা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অজীর্ণ, পেপটিক আলসার, অনিদ্রাসহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত শব্দদূষণে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা নষ্ট হয়, সন্তানসম্ভবা মায়েদের যেকোনো ধরনের উচ্চ শব্দ মারাত্মক ক্ষতিকর।

শব্দদূষণ স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি অন্যতম কারণ। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে ৩০টি কঠিন রোগ হতে পারে। শব্দদূষণে দুশ্চিন্তা, অবসাদ, উদ্বিগ্নতা, নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি বাড়িয়ে দেয়। যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ আমাদের দৈনন্দিন অনেক কাজ, অহেতুক হর্ন বাজানো বা উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার করার মতো অভ্যাসের মাধ্যমেই এই দূষণ বেশি ছড়ায়। আবাসিক এলাকায় ৪৫-৫৫ ডেসিবল এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ৬০-৭০ ডেসিবলের বেশি শব্দ মানব স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধকরণ, আবাসিক এলাকায় উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার রোধ, এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

চালকদের অহেতুক বা উচ্চশব্দের হর্ন না বাজাতে সচেতন করা এবং হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত রাখা। বিয়ে, কনসার্ট, সভা-সমাবেশ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের পরিবর্তে কম শব্দের প্রযুক্তি ব্যবহার করা।গণমাধ্যম, বিলবোর্ড, লিফলেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সজাগ করা।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবগত করা এবং নীরব এলাকা থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দ না করার নিয়ম মানতে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো নীরব এলাকায় হর্ন না বাজানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে ড্রাইভার ও সাধারণ নাগরিকদের উৎসাহিত করতে হবে। শব্দদূষণ রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের সম্পৃক্ত করা।

উচ্চমাত্রার শব্দ শুধু কানের ক্ষতি করে না, এটি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা এবং শিশুদের মানসিক বিকাশেও বাধা দেয়। এই বিষয়গুলো সাধারণ মানুষকে জানানো হলে তারা সচেতন হবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন যথেষ্ট নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতাই প্রধান চাবিকাঠি। নিজের সুস্থতার স্বার্থেই শব্দ উৎপাদনকারী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।





আর্কাইভ