সোমবার ● ১১ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » মুক্তমত » দুর্যোগের মৌসুম উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার অবিরাম লড়াই
দুর্যোগের মৌসুম উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার অবিরাম লড়াই
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের মৌসুম মানেই হলো জীবন ও প্রকৃতির সাথে এক অন্তহীন লড়াই। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং নদী ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় এই লড়াই দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ খুলনার উপকূলবাসীর জীবনের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের মৌসুমে বেঁচে থাকা মানেই হলো প্রকৃতির সাথে এক অবিরাম যুদ্ধ করে টিকে থাকা। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল অবস্থা, ঘনঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং নদীভাঙন উপকূলের লাখো মানুষের জীবনকে প্রতি মুহূর্তে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। ঘূর্ণিঝড় রিমালে বা আম্পানের মতো দুর্যোগগুলো এখন উপকূলবাসীর জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি এসে হানা দেয়, যা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
দুর্যোগের সময় নারী ও শিশুদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জীবন বাঁচাতে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও অনেক সময় গবাদিপশু ফেলে যেতে দ্বিধাবোধ করে, যা তাদের একমাত্র সম্পদ। দুর্যোগে প্রায়ই বেড়িবাঁধ ভেঙে নোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং কৃষিজমি ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্যোগ মৌসুমে উপকূলের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রধান দিকগুলো হলো; ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের পর উপকূলীয় এলাকায়, বিশেষ করে সাতক্ষীরা ও খুলনার পাইকগাছা,দাকোপ ও কয়রায় লবণাক্ত পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়, যা মানুষকে টিকে থাকার জন্য চরম সংগ্রাম করতে বাধ্য করে। দুর্যোগের মৌসুমে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয় এবং কৃষিজমি চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে স্থানীয়রা শুধু আশ্রয় হারায় না, জীবিকাও হারিয়ে ফেলে।
প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে উপকূলের কৃষকরা এখন লবনাক্ততা সহিষ্ণু ফসল বা কৌশলী সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তবে বারবার সম্পদ হারিয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বারবার দুর্যোগের আঘাত এবং টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে উপকূলের অনেক মানুষ সবকিছু হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এই বাস্তুচ্যুতি উপকূলীয় জনপদের এক ভয়াবহ বাস্তবতা। দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়ে।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে এবং নতুন করে টিকে থাকতে স্থানীয় যুব স্বেচ্ছাসেবকরা অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। তারা সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, সবুজায়ন এবং মানুষকে সচেতন করার কাজ করছেন। উপকূলের মানুষকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা মেনে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে ক্লান্ত উপকূলের মানুষ টেকসই বেড়িবাঁধ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় সবুজ বেষ্টনী বা ম্যানগ্রোভ বনায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে জীবন বাঁচাতে গাছপালা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উপকূলীয় ভূমির ক্ষয় রোধ এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচতে গাছপালা লাগানো অপরিহার্য। নিরাপদ এলাকাগুলোতে মজবুত ঘরবাড়ি ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। দুর্যোগের পূর্বাভাস বুঝতে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে জ্ঞান ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, জোয়ার-ভাটা এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন উপকূলীয় এলাকার স্বাভাবিক ঘটনা। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের ফলে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েই চলছে। এসব দুর্যোগের কবল থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষা করতে টেকসই বেড়িবাঁধ এবং বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা প্রয়োজন।






সবচেয়ে প্রিয় শব্দ মা
বিশ্ব গাধা দিবস
পরিযায়ী পাখির ভূমিকা ও গুরুত্ব
সাংবাদিকরাও শ্রমিক
মুক্ত সাংবাদিকতায় বর্তমানে যুক্ত হচ্ছে বহুমুখী চ্যালেজ্ঞ
বজ্রপাত ঝুঁকিতে মাঠের কৃষক
নাচ জীবনের প্রতিবিম্ব
পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রুপান্তর প্রয়োজন 