বৃহস্পতিবার ● ২ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » উপকূল » জলবায়ু পরিবর্তনে চ্যালেঞ্জ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
জলবায়ু পরিবর্তনে চ্যালেঞ্জ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সমস্যা সমাধানে ও মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা খুরই গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল তীব্র সংকটের মুখোমুখি এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণমাধ্যম এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গণমাধ্যম জনসচেতনতা তৈরি, বৈজ্ঞানিক তথ্য সহজ ভাষায় উপস্থাপন এবং নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোকে সহজ ও বোধগম্য করে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। খরা, বন্যা বা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো বাস্তব প্রভাবগুলো তুলে ধরে মানুষ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা গণমাধ্যম জনসমক্ষে নিয়ে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুল বিজ্ঞান যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র নদীভাঙনের মতো সংকট তৈরি হচ্ছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করে কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করছে। আইলা, সিডর, আম্পানের মতো তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উপকূলের স্থায়ী ক্ষতি করছে। ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ পানির উৎসে লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ায় সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। কৃষি ও মৎস্য চাষ ব্যাহত হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ জীবিকা হারাচ্ছেন। ভিটেমাটি হারিয়ে উপকূলের মানুষ দলে দলে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। লবণাক্ত পানি ব্যবহারের ফলে উপকূলীয় নারী ও শিশুদের মধ্যে চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগ বাড়ছে।
পরিবেশগত ঝুঁকি, আসন্ন দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন ও অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষকে সচেতন করে তোলা। উপকূলের মানুষের দুর্ভোগ, বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও কার্যকর পুনর্বাসন পরিকল্পনার অভাব তুলে ধরে সরকারের নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
জলবায়ু পরিবর্তেনে সচেতনতা সৃস্টিতে গণমাধ্যম ভূমিকা রাখে চলেছে। জাতীয় দৈনিকের পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতেও জলবায়ু পরিবর্তেনজনিত কারণ, এর ক্ষতির দিক ও প্রভাব নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে। মাঠপর্যায়ের নানা উপাত্ত ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সাহায্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও অভিযোজন কৌশল সহজ ভাষায় তুলে ধরা। সুপেয় পানির সংকট, কৃষির ক্ষতিপূরণ, ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মতো মৌলিক অধিকার ও দাবিগুলোর পক্ষে জনমত গঠন করা। দুর্যোগের সময়ে আগাম সতর্কতা ও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশিকা প্রচারের মাধ্যমে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা।
দুর্যোগের সময় রেডিও, টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচায়। লবণাক্ততা সহনশীল ফসল চাষ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তোলে। স্থানীয় মানুষ কীভাবে নিজস্ব প্রযুক্তি ভাসমান চাষাবাদ জলবায়ুর সাথে খাপ খাওয়াচ্ছে, তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত সরকারি ও আন্তর্জাতিক ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ওয়াচডগ বা প্রহরী হিসেবে কাজ করে। বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে বাংলাদেশের উপকূলের ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণের দাবি বিশ্ববাসীর কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরে। উপকূলের প্রান্তিক মানুষের দুর্দশা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গণমাধ্যম জনসচেতনতা তৈরি, বৈজ্ঞানিক তথ্য সহজ ভাষায় উপস্থাপন এবং নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। সার্বিকভাবে, গণমাধ্যম কেবল তথ্য দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং বিশ্বকে একটি টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে বাধ্য করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।






খুলনার তিন উপজেলার খাবার পানির এক মাত্র উৎস উপকূলের আলমশাহী পুকুর
আইলার ক্ষত নিয়ে ১৭ বছরে উপকূলবাসী
পাইকগাছায় সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জন্য লাইফ জ্যাকেট বিতরণ
পাইকগাছায় উপকূল দিবস পালিত
দুবলারচরে রাস উৎসবে যেতে উপকূলবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি; তৎপর শিকারীরাও
জীবনের ঝুঁকি ও সুদের বোঝা মাথায় নিয়ে জীবিকার লক্ষে জেলেদের সমুদ্রযাত্রা
সুন্দরবনের দুবলারচরে রাসপূজায় যেতে বন বিভাগের পাঁচটি রুট নির্ধারণ
শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যেতে পাইকগাছার জেলে পল্লীতে প্রস্তুতি চলছে 